Siliguri Suvendu CPI-M

শিলিগুড়িতে শুভেন্দুর বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ সিপিআই(এম)’র

জেলা

সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ সিং, নুরুল ইসলাম, সমন পাঠক, জয় চক্রবর্তী।

চলছে উচ্ছেদ, চলছে ভাঙচুরও। বন্ধ করা হয়েছে একাধিক রেলগেট। তৃণমূলের মতো বিজেপি সরকারও শিলিগুড়িকে বঞ্চনার মনোভাব নিয়েই চলছে। 
বুধবার, ৪ নভেম্বর, সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলা হয়েছে। 
গতকাল, মঙ্গলবার, শিলিগুড়িতে মিছিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। 
(আরও পড়ুন: ‘কমিউনিস্ট, আরশোলাদের ঠান্ডা করতে হবে’এবার শিলিগুড়িতে বিতর্কিত মন্তব্য শুভেন্দুর)
পাশাপাশি পৌর কর্পোরেশনের ৬০০ অস্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই করার দিকে এগনোর তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্পোরেশনের একজন কর্মীকেও ছাঁটাই করতে দেব না।  
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, জেলা সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য নুরুল ইসলাম সহ নেতৃবৃন্দ।
সমন পাঠক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় জেলা বা শিলিগুড়ি শহরের মানুষের সেই অর্থে অংশগ্রহণ ছিলো না। মুখ্যমন্ত্রী জেলা বা শহরের উন্নয়নের জন্য একটি শব্দও খরচ করেননি। দার্জিলিঙ জেলা সহ উত্তরবঙ্গের অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা সূত্রে শিলিগুড়িতে আসেন। কিন্তু শিলিগুড়িতে কোন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বা এইমস নেই। বিগত তৃণমূল সরকার যেভাবে দার্জিলিঙ জেলা তথা শিলিগুড়িকে বঞ্চিত করেছে। বিজেপির পাঁচ মাসের সরকারও একইভাবে শিলিগুড়িকে বঞ্চনার চোখেই দেখছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই শহরে জুড়ে ভাঙচুর শুরু করেছে। রেলের জমিতে বসবাসকারী গরিব মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ চলছে। শিলিগুড়িতে ফুলেশ্বরী রেলগেট বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে মহাবীরস্থানের জোড়া রেলগেট বন্ধের প্রস্তুতি নেওবা হচ্ছে। শিলিগুড়ি শহরকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। শহরের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছে। মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। ওরা শিলিগুড়িকে মৃতপ্রায় শহরে পরিণত করতে চাইছে। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে গেছেন। আশা ছিলো দীপাবলী, ছট, ভাইফোঁটা উপলক্ষে বিশেষ ভাবে শহরের উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতার কথা বলবেন। কিন্তু তা না বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কর্পোরেশনের প্রচুর অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাদের ছাঁটাই করা হবে। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের প্রায় ৫৫০টি স্থায়ী শূন্য পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কিন্তু সেই শূন্য পদে নিয়োগের কোন কথা নেই। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জনগণ ও গোটা নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে শিলিগুড়ি শহর জুড়ে লড়াই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নুরুল ইসলাম বলেন, নর্থ ইস্টের গেটওয়ে অপরিকল্পিত শিলিগুড়ি শহরের যাবতীয় উন্নয়ন হয়েছে গত বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে। সেই সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট সমস্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। বিগত ১৫বছরের তৃণমূল সরকার ৩৪ বছরের শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আর বর্তমান পাঁচ মাসের বিজেপি সরকার শহরকে আরো ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এইমস, ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে উপেক্ষিত শহর। অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার কর্পোরেশনের নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে। পার্ট টাইম প্রশাসক ও কমিশনার দিয়ে কর্পোরেশন চলছে। আর মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশনে এসে বললেন দুই এমএলএ, এমপি কর্পোরেশন পরিচালনা করবেন। এটা কোনভাবেই করা যায়না। শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যল কর্পোরেশন অ্যাক্টের আলাদা অটোনমি আছে। বিজেপি দল ও সরকার মিলেমিশে একাকার। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি দ্রুত কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment