আধারের বদলে ‘বায়োমেট্রিকস’ এবং ভোটার কার্ডের ভিত্তিতে সামাজিক প্রকল্পে টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করল সিপিআই(এম)।
৪ অক্টোবর, বুধবার, বিবৃতিতে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো বলেছে যে বিপুল অংশের মানুষকে সরকারি প্রকল্পের বাইরে পাঠাতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র। সেই অভিমুখেই এই পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং বলেছেন যে আধার নম্বরের ভিত্তিতে উপভোক্তাদের জনকল্যাণকর প্রকল্পের টাকা আর দেওয়া হবে না। আধার ‘বায়োমেট্রিকস’ পরীক্ষা করা হবে অথবা দেখা হবে ভোটার কার্ড আছে কিনা।
আধার কার্ডে আঙুলের ছাপ বা চোখের তারার মতো জৈব বৈশিষ্ট নথিভুক্ত থাকে। কিন্তু তা মেলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, বারবার দেখা গিয়েছে যে বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কৃষি শ্রমিকদের সমস্যায় ফেলছে। যেমন বহু বয়স্ক মহিলাকে, এই ব্যবস্থায়, চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাঁদের চোখের তারার বৈশিষ্ট্য যন্ত্র গ্রহণ করছে না। কায়িক শ্রম করেন এমন বহু শ্রমিককে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কাজ করতে করতে বুড়ো আঙুলের বৈশিষ্ট্যে বদল ‘বায়োমেট্রিক সিস্টেম’ গ্রহণ করছে না। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার জন্য স্মার্টফোন দরকার। বহু গ্রামীণ পরিবারের তা নেই।
পলিট ব্যুরো বলেছে, এর আগে সু্প্রিম কোর্টে সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে আধার বাধ্যতামূলক হবে না। কিন্তু গোপনে সব জনকল্যাণ প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক করা হয়। সরকার একসময়ে বলেছে যে আধার কার্ড সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য। এখন সে কথা থেকে সরে যাচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, এই সিদ্ধান্তকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রেখে বিচার করতে হবে। এসআইআর ভোটাধিকারের ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’। নিয়ম করে বহু মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি ব্যবস্থা। প্রায় ১৩.৪ কোটি ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতের তুলনায় বেশি হারে বাদ গিয়েছে প্রান্তিক বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, মুসলিম মহিলা এবং অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল অংশ। এখন সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক করার অর্থ এই মানুষকে বাদ দেওয়া।
পলিট ব্যুরো এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তুলেছে।
Polit Bureau on Biometrics for Welfare Schemes
প্রতিবাদ পলিট ব্যুরোর: প্রকল্পের টাকা দিতে ‘বায়োমেট্রিকস’, ভোটার কার্ড চালু করছে কেন্দ্র
×
Comments :0