গত পনের বছরে তৃণমূল সরকারের পর্বে শিল্পে খরা ছিল। তার দায়দায়িত্ব বামফ্রন্ট সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
রাজ্যের বিজেপি সরকারের শিল্পনীতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে এ কথা বলেছেন বামফ্রন্টের সভাপতি এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা বিমান বসু। শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, মুজফ্ফর আহমদ ভবনে বিমান বসু সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন।
এদিকে পূর্ত ভবনে অন্য একটি কর্মসূচিতে গেলে মহম্মদ সেলিমকে এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করে। সেলিম বলেন, চৌত্রিশ বছরে বামফ্রন্ট সরকার ধারাবাহিকতা রেখে কাজ করেছে। কৃষির সাফল্যকে সংহত করেছিলাম আমরা। ক্ষুদ্র সেচ থেকে বড় সেচে হাত দিয়েছিলাম। ক্ষুদ্র শিল্পকে সংহত করে বড় শিল্পের জন্য কাজ করেছিলাম। কৃষির সাফল্যকে সংহত করে শিল্পের দিকে এগিয়েছিলাম।
বিমান বসু বলেন, শিল্পনীতি তৈরি হয়েছিল আশির দশকে, সে সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ঘোষণা করেন। একের পর এক শিল্প আসে। একের পর এক তাপবিদ্যুৎ শিল্প গড়ে উঠেছে। ২০১১ সালের পর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নতুন করে হয়েছে? শিল্প হলে তো বিদ্যুৎ লাগবে।
পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার প্রসঙ্গে বসু বলেন, শুধু কোলঘাট নয়, তারপর হলো বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। চালু প্রকল্পে ইউনিট বাড়ানো হলো। সাওতালডি, ব্যান্ডেল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যেমন ইউনিট বাড়ল। তারপর সাগরদিঘি হলো। কাটোয়া প্রকল্প পরিকল্পনায় ছিল।
গত পনের বছরে তৃণমূল সরকারের পর্বে শিল্পে খরা ছিল। তার দায়দায়িত্ব বামফ্রন্ট সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বহু চেষ্টা করেছিলেন। জ্যোতি বসু ঘোষিত শিল্পনীতি অনুযায়ী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এগিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থে শিল্প সম্ভাবনাকে ব্যবহার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বসু বলেন, সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানির ন্যানো কারখানা প্রায় শুরু হওয়ার মুখে বন্ধ হয়। জাতীয় সড়ক আটকে ছাব্বিশ দিন ধরে আন্দোলনের নামে যা করা হয়েছে তা বলা-কওয়ার নয়।
বসু বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে ভূমি সংস্কার নীতির কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ল, গ্রামে বাজার বাড়ল। এই বিষয়ের উল্লেখ করে বসু বলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কৃষির সাফল্যের ভিত্তিতে ওপর শিল্পের বিকাশের কথা বলেছিলেন। সঠিকভাবেই বলেছিলেন। বামফ্রন্ট সরকার সেই অভিমুখেই কাজ করেছে।
এদিকে সেলিম বলেন, ১৯৫৬ সালে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সময়ে যে শিল্পনীতি নেওয়া হয়েছিল তা পূর্ব ভারতে কাজে লাগেনি। মাশুল সমীকরণ নীতি বা লাইসেন্স রাজের কারণে এখানে পুরনো শিল্প বাদে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারছিল না। সংসদের ভেতরে বাইরে লড়েছি। জ্যোতি বসু তার পুরোধা ছিলেন। সেলিম বলেন, লাইসেন্স রাজ শেষ হলে এই রাজ্যে নতুন শিল্প গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। তার জন্য নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি নতুন নীতি নিয়ে চলা হয়েছিল। জ্যোতি বসু তখন মুখ্যমন্ত্রী, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য আর বিমান বসু তখন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাগাভাগি খুঁজতে চেয়ে লাভ নেই। বরং বিজেপি’র মন্ত্রীসভায় যে ধামাসান চলছে, যেমন তৃণমূলে ছিল, সে দিকে নজর দিলে অনেক কিছু মিলবে।
Left Front Govt Industry
কৃষির সাফল্যের ভিত্তিতে শিল্পের দিকে এগিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারই, বললেন বিমান বসু-সেলিম
জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
×
Comments :0