দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাই-দুবাইয়ের একটি বিমান বুধবার সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। অবতরণের আগে বিমানটি সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের সংকেত সহ বেশ কিছু জরুরি সংকেত পাঠিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে যে বিমানের কো-পাইলট, যিনি ওমানের নাগরিক, পাইলটের হাত থেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় পাইলট সেই চেষ্টা ঠেকিয়ে বিমান মাটিতে নামান।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিমান এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) একটি জরুরি বিপদ সংকেত পাঠায়। ইজরায়েলের দাবি, সংকেত পেয়ে তেল আভিভ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করছিল।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্যে দেখা গেছে, বিমানটি প্রথমে ‘স্কয়ক কোড ৭৭০০’ (squawk code 7700) সংকেত পাঠিয়েছিল, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কোড। এরপর এটি ৭৬০০-এর পরিবর্তে ৭৫০০ কোডে পরিবর্তিত হয়, যা বিমানটির ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের ইঙ্গিত দেয়। কেবল এই সংকেত থেকেই বিমানের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা যদিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ওই বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন ইজরায়েলী যাত্রী ছিলেন।
ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানের ওই সহকারী পাইলট আক্রমণ করেন পাইলটকে। ইজরায়েলের আরও দাবি, যাত্রী সহ বিমানের সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল ওই সহকারী পাইলটের। দুবাইয়ের বাসিন্দা, জন্মসূত্রে ভারতীয়, বিমানের পাইলট স্মিট মছছহর সেই প্রয়াস ঠেকিয়ে দেন। তাঁকে একাধিক ছুরির আঘাতে জখম করে সহকারী পাইলট।
যাত্রী মিরিয়াম শিরা ওহায়োন জানান, দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে জর্ডানের আকাশসীমার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় যখন এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে, তখন বিমানটি ‘প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন’ হয়ে পড়েছিল।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে কো-পাইলট যখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তখন এক যাত্রী ও এক বিমানকর্মী ককপিটে ঢুকে তাঁকে আটকেছেন।
তিনি জানিয়েছেন যে , ফ্লাই দুবাইয়ের যে পাইলট কো-পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন, তিনি এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
Flydubai flight Attack
গতিপথ বদলে ফ্লাই-দুবাইয়ের বিমান নামল সৌদিতে, ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত কো-পাইলট
×
Comments :0