Garbeta Lawyers Assault

'জয় শ্রীরাম’ রব তুলে গড়বেতায় আইনজীবীদের মারধর বিজেপি’র

রাজ্য জেলা

চিন্ময় কর: গড়বেতা
গ্রামে গৃহহীন পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন আইনজীবীরা। হঠাৎ পথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়ল কাঠবোঝাই গাড়ি। রাস্তা বন্ধ করে লাঠি-রড হাতে এগিয়ে এল একদল লোক। অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে আইনজীবীদের গাড়ি লক্ষ্য করে শুরু হয় হামলা। কাচ ভেঙে গাড়ির ভিতরে থকা আইনজীবীদের মারধরের চেষ্টা চলে। ভাঙা কাচে আহত হন কয়েকজন। মহিলা আইনজীবীদের হেনস্তা করারও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট ও মেদিনীপুর জেলা আদালতের একদল আইনজীবী এদিন গড়বেতা-১ ব্লকের খড়কুশমা ও বেনাচাপড়া গ্রামে যান। অভিযোগ, এর আগে পুলিশি অভিযানের জেরে গ্রামের বহু পরিবার ঘরছাড়া। তাঁদের আইনি সহায়তা দিতে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেই গ্রামে গিয়েছিলেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের বক্তব্য, গ্রামের পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় প্রথমে নোহাড়িতে তাঁদের পথ আটকানোর চেষ্টা হয়। এরপর একাড়িয়া গ্রামেও একইভাবে তাঁদের থামানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় মানুষজন বেরিয়ে আসায় সেখান থেকে সরে যায় হামলাকারীরা।
এরপর ধাদিকায় রাস্তার উপর কাঠবোঝাই গাড়ি রেখে পথ আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রায় ৩০–৩৫ জনের একটি দল লাঠি ও রড নিয়ে আইনজীবীদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। একে একে চারটি গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গাড়ির কাচ ভেঙে ভিতরে থাকা আইনজীবীদের লাঠি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা চলে। ভাঙা কাচে কয়েকজন আহত হন। মহিলা আইনজীবীদেরও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।
এর আগে খড়কুশমা ও বেনাচাপড়ায় গ্রামবাসীদের উপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আরএসএস-বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে মাইতা সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে আগুন লাগানো হয়। পরে পার্টি নেতা সামেদ গায়েনের বাড়ি এবং পাশের একটি বাড়িতে বোমা ও গুলি ছোড়া, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা প্রতিবাদে বেরিয়ে এলে শূন্যে গুলি চালিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এরপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ তাঁদেরই হেনস্থা করে। খড়কুশমা ও বেনাচাপড়ায় পুলিশি তল্লাশি ও ধরপাকড়ের পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের কথায়, ‘‘আমাদেরই মারধর করা হলো, আবার আমাদেরই ঘরছাড়া হতে হলো।’’
এই পরিস্থিতিতে আইনি সহায়তার জন্য এদিন গ্রামে যান শামিম আহমেদ, রাজীতলাল মৈত্র, সিদ্ধার্থশঙ্কর মণ্ডল, সমরেশ চক্রবর্তী, রেশমা খাতুন, শেখ আতাউদ্দিন, মধুমিতা দত্ত, শান্তনু গোস্বামী, গৌরব ঘোষ, আব্দুল্লাহ শেখ, শামসের আলম, ইন্দ্রনীল মুখার্জি সহ আইনজীবীরা।
গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আইনি করণীয় বোঝান আইনজীবী শামিম আহমেদ। ঘরছাড়া পরিবারগুলির ঘরে ফেরার জন্য আদালতে লড়াইয়ের আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকে ঘরে ফেরাতে হবে এই পরিবারগুলিকে। তার ব্যবস্থা আমরা করব। আমরা আদালতে লড়াই করব। আপনারা জমিতে থেকে ঘরে ফেরার লড়াই করবেন। দুই লড়াই একসঙ্গে চলবে।’’
গ্রাম থেকে ফেরার পথেই আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রথমে নোহারিতে পথ আটকে ফিরে ধরে আক্রমণের চেষ্টা চলে। পরের গ্রাম একাড়িয়াতেও একই চেষ্টা করে আরএসএস-বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা। গ্রাম থেকে হই হই করে মানুষ বেরিয়ে আসায় বেগতিক দেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর ধাদিকাতে সড়ক রাস্তার উপর কাঠ বোঝাই গাড়ি রেখে পথ আটকায় তারা। লাঠি, রড নিয়ে তাড়া করে আইনজীবীদের। একে একে ৪টি গাড়ির উপর আক্রমণ শানায় জনা ৩০-৩৫ জনের বাহিনী। কাঁচ ভেঙে লাঠি দিয়ে ভেতরে আইনজীবীদের আঘাত করার চেষ্টা করে। ভাঙা কাঁচের আঘাতে সবাই অল্প বিস্তর আহত হন। হেনস্তা করা হয় মহিলা আইনজীবীদের।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আইনজীবী মহল। গড়বেতা থানার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকেও ই-মেলে অভিযোগ জানিয়েছেন শামিম আহমেদ।

Comments :0

Login to leave a comment