বিজেপি বুঝে গিয়ে প্রতিপক্ষ বামপন্থীরা। ওরা ভয় পাচ্ছে বামপন্থীদের। ওরা ভয় পাচ্ছে কমবয়সীদের। তাই চালাচ্ছে আক্রমণ। বিরাটিতে এসএফআই’র পথসভায় হামলা প্রসঙ্গে শনিবার একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্রীক্য় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
শুক্রবার, ২ অক্টোবর রাতেই, বিজেপি ভেঙেছে দত্তপুকুর, হাবড়ায় সিপিআই(এম)’র একাধিক দপ্তর। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নে চক্রবর্তী বলেন, সিপিআই(এম) দপ্তরকে ভয় পায় তোলাবাজ-লুটেরারা। বিজেপি চালাচ্ছে লুম্পেনরা। ওরা তোলাবাজ-লুটেরাদের প্রশ্রয় দেয় বলে পার্টি দপ্তরে হামলা চালাচ্ছে।
চক্রবর্তী বলেন, জনতাও সব দেখছেন। পারলে বিজেপি বুঝুক, না’হলে মানুষ বুঝে নেবেন।
এদিন এনবিএ’র এক অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে বামপন্থীরাই ওদের প্রতিপক্ষ। তাই বেছে বেছে বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। বামপন্থীরাই তো রাস্তায়। বামপন্থীরাই তো বুলডোজারের মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে। রাস্তায় আর কেউ নেই। হকার উচ্ছেদ থেকে এসআইআর, বামপন্থীরাই অধিকারের লড়াইয়ে শামিল। গরিব মানুষের ওপর আক্রমণ চলছে, রাস্তায় বামপন্থীরা। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি’র অসভ্যতা রুখতে তো নামছে বামপন্থীরাই। যুবদের কাজের দাবিতে আন্দোলনে বামপন্থীরাই।
চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি সর্বত্র বামপন্থীদের আক্রমণ করছে। বিরাটিতে করেছে। বণিক মোড়ে গত চল্লিশ বছরে কেউ বিরোধী কারও বিরুদ্ধে হামলা করেনি। ওরা কাল সভায় হামলা করেছে। ভাঙচুর করেছে মঞ্চে। তাণ্ডব চালিয়েছে। পুলিশ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। বামপন্থী ছাত্রযুবরা মার খেয়েছেন, তাঁদেরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ( আরও দেখুন: সিপিআই(এম) অফিস ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, প্রতিবাদ মিছিল দত্তপুকুর-বসিরহাটেও)
উল্লেখ্য, এসএফআই নেতা আকাশ করের মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থীরা সরব হয়েছেন। এদিন তাঁর দু’দিনের জেল হেপাজত দিয়েছে বারাকপুর আদালত।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, ওরা কমবয়সীদের ভয় পাচ্ছে। বামপন্থীদের ভয় পাচ্ছে। তৃণমূলের বিজেপি-করণ যে গতিতে হয়েছিল তার চেয়ে বেশি গতিতে বিজেপি’র তৃণমূলী-করণ হচ্ছে। মানুষ দেখছেন। বলছেন, আমরাও দেখে নেব। তৃণমূলকে যে কারণে তাড়িয়েছিলাম সে কাজ করে বিজেপি রেহাই পাবে না।
দত্তপুকুর, নিমতা, হাবড়ায় একের পর এক পার্টি দপ্তরে হামলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পার্টি অফিস শ্রমের অর্থে তৈরি। মানুষের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন গড়ার ক্ষেত্র। রাজনৈতিক কর্মসূচি নেওয়ার কেন্দ্র। তোলাবাজরা ভয় পায়। তোলাবাজ এবং লুটেরাদের যারা প্রশ্রয় দেয় তারা পার্টি অফিস আক্রমণ করে। মানুষ ধিক্কার জানচ্ছেন। তোলাবাজরা বিজেপি চালাচ্ছে। পারলে বিজেপি বুঝুক, না’হলে মানুষ বুঝে নেবেন।
‘বাম বধ’ পোস্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে বুক স্টল হয় সেখানেই হবে। যারা ‘বাম বধ’ বলছে তারা আসলে বিজেপি-কে বলছে যে তোমার সঙ্গে আছি, তোলাবাজির সুযোগ দাও। স্থানীয়রা আরেকটি পোস্টার দিয়েছেন। হিটলারের ছবি দিয়ে লিখেছেন যে এই লোকটাও ‘বাম বধ’ বলেছিল, বাকিটা ইতিহাস।
Comments :0