মধুসূদন চ্যাটার্জি
চারদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের ছাদে একটা পলিথিন বেশ কয়েকবছর আগে লাগানো হয়েছিল। না, পঞ্চায়েত থেকে এই পলিথিন দেয়নি। বাইরে থেকে শবরদের দুর্দশা দেখতে আসা কিছু মানুষ জামাপ্যান্ট নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল বাচ্চাদের জন্য কিছু বিস্কুট, চকলেটও। মৃত্যুঞ্জয় শবর এসব কিছুই নেননি। খালি জানিয়েছিলেন একটা ত্রিপল হবে? এটাই এখন আমার দরকার। এটা শুনে রানিবাঁধ বাজার থেকে ঘণ্টাখানেক পর একটা ত্রিপল তাঁর বাড়িতে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেটাও তো চারদিকে ফুটো হয়ে গেছে। খাড়া ডুংরির উপর তাঁদের বাড়ি। বৃষ্টিতে ডুংরির পাথরগুলোয় শ্যাওলা পড়ে আছে। ৭৬ বছরের মৃত্যুঞ্জয় শবর নিচে নামতে পারবেন না। বাড়িতে এক বাটি চালও নেই। শুধু কি চাল? জলও নেই। কারণ এই ডুংরির উপরে কোনও জলের ব্যবস্থা নেই। জলের জন্য পাইপ পাতা হয়েছিল, সেটা এখনও আছে। কিন্তু জল পাওয়া যায়নি একদিনও। সরকারি দপ্তরে গ্রামের মানুষজন এই পাহাড়ের উপর থেকে জল নিচ্ছেন তার ছবি রাখা আছে। কারণ যেদিন পাইপ পাতা হয় সেদিন সরকারি আধিকারিকরা পাড়ার মা বোনদের হাতে প্লাসটিকের তিনটি বালতি তুলে দিয়ে কলের সামনে ছবি তুলেছিলেন। পানীয় জলের আর সমস্যা রইল না! কিন্তু জল দেখলেন না গ্রামের মানুষ। এখনও নিচে বামফ্রন্টের সময় করে দেওয়া টিউবওয়েলটিই ভরসা। ‘‘বড্ড খিদে পেয়েছে রে বাপ, আর কিছু শুধাস না, বলতে লাড়ব। কখন খাবার জুটবে জানি না, আর কিছু চাই না, একথালা ভাত হলেই চলবে।’’ খানিকটা বিরক্ত হয়েই এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বললেন বাংলার জঙ্গলমহল রানিবাঁধের রুদঢ়া গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত জোভি গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় শবর।
কোনও সম্মান, মান মর্যাদা এসব কিছুই চান না এই বৃদ্ধ। চান শুধু একটু খাবার। যা কখন জুটবে জানেন না। এটা খালি জোভি গ্রামের দৃশ্য নয়, বাংলার জঙ্গলমহল বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের কয়েক’শো গ্রামের দৃশ্য। যেখানে সব চেয়ে বেশি বাস করেন আদিবাসী জনগোষ্টীর মানুষজন। তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশ লোধা, শবর। পুরুলিয়ার তিনটি এলাকায় রয়েছেন আদিম বীরহর জনগোষ্টীর মানুষজন। সরকারি তথ্যে তাঁরা হলেন PVTG (Particular Vulnerable Tribal Group) কাগজে কলমে তাঁদের জন্য বহু প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা আছে। কতটা মিলেছে? তার একটা সোজাসাপটা খবর নেওয়ার জন্যই এই জোভি গ্রামে যাওয়া। জোভি গ্রাম থেকে জঙ্গলমহলের একাধিক এলাকায় যাওয়ার পর উঠে এল কেবল ভয়াবহ অপুষ্টির চিত্র। কাজ নেই, ফলে খাবার নেই। আর খাবার না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত বাসা বাঁধছে অপুষ্টি। চিকিৎসা করানোর অর্থ নেই। কয়েকদিন যন্ত্রণা সহ্য করে লাশ হয়ে যাচ্ছেন জঙ্গলমহলের লোধা, শবর জনজাতির মানুষজন। কে তাঁদের খবর রাখেন!
চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে যেদিন রাজ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করা হয় ঠিক সেদিনই পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের চকসাহাপুর গ্রামের যুবক জনমজুর লোধা জনগোষ্টির প্রদীপ মল্লিক (৩২) মারা যান। ‘‘ গত তিনদিন ধরে আমাদের ঘরে কোনও রান্না চাপেনি, বিনা খাবারে আমাদের দিন কেটেছে।’’ খুব স্বাভাবিক স্বরেই একথাগুলো জানিয়েছিলেন প্রদীপ মল্লিকের স্ত্রী আলপনা মল্লিক। জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশনের চাল এসব পান না? আলপনা জানিয়েছিলেন, ‘যে চাল দেয় সেই চালে দু’বেলা খাবার জোটে না। আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও পাই না।’ এতদিন পর খবর নিয়ে জানা গেল বর্তমানে অন্নপুর্ণা যোজনার টাকাও পাচ্ছেন না তিনি। প্রদীপের বাড়িতে আছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই নাবালক ছেলে। পরিস্থিতি এমনই পৌছেছিল যে, প্রদীপের মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ বাড়ির উঠোনের সামনে পড়েছিল। কারণ দাহ করার মতো অর্থ পরিবারের হাতে তো ছিলই না, প্রতিবেশীদেরও ছিল না। প্রতিবেশী জগন্নাথ মল্লিক জানিয়েছিলেন ‘‘আমরা ঠিক করেছিলাম, প্রদীপের দেহটাকে কবর দিয়ে দেব, গতর চালিয়ে মাটি কুপিয়ে কবরের গর্ত করতে পারব, কিন্তু কাঠ কেনার ক্ষমতা নেই।’’ শেষ পর্যন্ত তাঁর দেহটিকে পোড়ানো হয় বাইরের লোকজনের দেওয়া কাঠে। ‘‘আমার স্ত্রী বেহুলা, বৃদ্ধা মা যমুনা মল্লিক কেউই সরকারি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বার্ধক্য ভাতা পান না’’ জানান প্রদীপের বাবা নন্দ মল্লিক। সরকার প্রদীপের মৃত্যুকে অনাহারে মৃত্যু বলে স্বীকার করেনি। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর বাবার হাতে ২৬কেজি চাল ও একটা ত্রিপল দিয়েছিল কয়েকদিন পর। তার পর কীভাবে দিন কাটছে কেউ খবর নেয়নি। অভাব আরও তীব্র হয়েছে। জীর্ণ ঘরেই তাঁদের বাস। এই ঘটনার কিছুদিন আগেই চকসাহাপুর গ্রামের পাশে পাঁকুই গ্রামে জয়ন্তি আড়ি, রাখি আড়ি নামের দুই মহিলা ও শংকর আড়ি নামের এক ব্যক্তি স্রেফ না খেতে পেয়েই অপুষ্টিতে মারা যান। তাঁরা সবাই লোধা জনগোষ্টীর।
একই চিত্র উঠে আসে পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকের হাড়জোড়ার গ্রামের শবরটোলা থেকেও। এখানে ৩২টি শবর জনজাতির মানুষ বাস করেন। কোনও কাজ নেই। দু’বছর আগে এই গ্রামেই ৮জন মানুষ অপুষ্টিতে মারা গেছেন। তাঁরা হলেন কালিপদ শবর, শুকু শবর, কংস শবর, শঙ্কর শবর, মথুর শবর, গোপাল শবর, অশোক শবর এবং ভাকম শবর। এই গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িই জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এখানেও জলের পাইপ দিয়ে মহিলাদের দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছিল সরকারি কর্তৃপক্ষ, কিন্তু জল পাননি তাঁরা এখনও। সরকারি আবাসও পাননি। এই শবর টোলা গ্রামের বেশিরভাগ শিশু কিশোরই স্কুলে যেতে পারে না। কারণ তাঁদের অনেকেরই আধারকার্ড এখনও হয়নি। ফলে তাঁরা পরিবারের সদস্য হলেও কোনও রেশন পায় না। ‘‘আমরা ওডিশা, ব্যাঙ্গালোর, দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজে যেতাম। দালালকে পয়সা দিতে হতো। সেখানে যা কাজ করাতো সেই অনুযায়ী মজুরি দিত না। অসুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসতে হয়, এখানেও তো কাজ নেই। কি করে চলবে সংসার?’’ বলেন এই গ্রামের যুবক গুরুচরণ শবর ও লক্ষ্মণ শবর। এখনও তাঁদের অনেকেরই আধারকার্ড হয়নি, সরকারি আবাসনের বাড়িও পাননি। অথচ তাঁরা সবাই বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী জনগোষ্টী (PVTG) হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে চিহ্নিত। PVTG হিসাবে সরকারের চিহ্নিত ৭৫টি আদিবাসী জনগোষ্টীর মধ্যে বাংলায় রয়েছে লোধা/ শবর, বীরহড় ও উত্তরবঙ্গে টোটো। এঁদের মধ্যে লোধা শবররাই সংখ্যায় বেশি। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১লক্ষ ৫১ হাজার লোধা/ শবর মানুষ বাস করেন ২০১১ সালের জনগননা অনুযায়ী। বাঁকুড়ায়, পুরুলিয়ায় যাঁদের শবর বলা হয়, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরে তাঁদের লোধা বলা হয়। যদিও এই নিয়ে কিছু মতানৈক্যও আছে। কিন্তু সমাজের সব চেয়ে পিছিয়ে থাকা অংশ তাঁরাই।
PVTG- র মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বীরহড়রা। তাঁরাও আদিম আদিবাসী গোষ্টী। বাংলার বুকে একমাত্র পুরুলিয়া জেলার মধ্যে তাঁদের অবস্থান। সংখ্যায় এঁরা খুবই কম, মাত্র ২,২৪১ জন। এঁরা পুরুলিয়া জেলার বলরামপুরের বেসরা, ভূপতি পল্লি, বাগমুন্ডি ব্লকের বারেরিয়া ও ঝালদা ব্লকের মহুলটাঁঢ় এলাকায় বাস করেন। এঁদের প্রতিটি বাসস্থানের জায়গাই হলো পাহাড়, ডুংরির উপর। একটা সময় এঁদের মুল খাদ্য ছিল বাঁদর মেরে খাওয়া। কিন্তু বাঁদরের সংখ্যাও কমেছে। আর সেই শক্তিধর মানুষজনও হারিয়ে গেছেন যাঁরা পাহাড়ে উঠে বাঁদর ধরে মারবেন। এখন এঁদের মুল আয়ের জায়গাই হলো পাহাড়ের উপর থেকে জঙ্গলের কাঠ, ডালপালা জোগাড় করে বিক্রি করা। আর বিশেষ আয়ের উৎস হলো দড়ি তৈরি করা। জঙ্গলের এক বিশেষ লতা নিয়ে এসে তাঁরা দড়ি তৈরি করেন। এই দড়ি গোরুর গোঁজ বাধাতে ব্যবহার হয়। ‘‘এই পাহাড় দেখতে পাচ্ছেন, এই পাহাড়েই আমাদের জন্ম, এই পাহাড়েই আমাদের মৃত্যু।’’ জানান, মহুলটাঁঢ় গ্রামের গৃহবধূ রমা শিকারি। বীরহরদের পদবি শিকারি। এই মহুলটাঁঢ় গ্রামেরই বৃদ্ধা সরলা শিকারি দড়ি পাকাতে পাকাতে জানান, দু’বছর আগে তাঁর ছেলে রেনা শিকারি অপুষ্টিতে ভুগে কোনও চিকিৎসা না পেয়েই মারা যায়। তিনি জানান, তাঁরও শরীরের সমস্ত অংশেই ব্যথা। এখন আর বাইরে বের হতে পারেন না। যদি কেউ একটু লতা এনে দেয় তাহলে দড়ি পাকিয়ে কিছূ দড়ি বানান। আশা শবর জানান, চুলকানি, পায়ের যন্ত্রণা, কাশি, জ্বর এসব উপশমের জন্য এখনও তাঁরা গাছ গাছড়া ব্যবহার করেন। এতে কমে না, কিন্তু কি করব? গ্রামের যুবক অর্জুন শিকারি জানান, এখান থেকে ঝালদা হাসপাতাল তো ২০ কিলোমিটার দুরে। গ্রামে মাঝে মধ্যে আশা কর্মীরা আসেন। তারা তো আর চিকিৎসা করতে পারেন না। এভাবেই আমাদের টিকে থাকতে হয়। তিনি জানান, ‘আমরা বহুদিন খাবারের জন্য পাহাড়ে উঠি। এক একদিন খাবার ওখানে জুটে গেলে পুড়িয়ে খেয়ে রাতে পাহাড়েই রয়ে যাই।’ কার্যত বিচ্ছিন্নভাবেই বাস করছেন তাঁরা, তাঁদের কাছে সরকারি প্রতিনিধি কোনোদিন আসে না।
যেমন বাঁকুড়ার বড়ডাঙ্গা গ্রামে ২২টি শবর পরিবার বাস করেন। একই অবস্থা বাঁকুড়ার খেজুরিয়া এলাকাতেই। এখনও মুলস্রোতের বাইরে এঁরা। এঁদের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হলে বাইরে থেকে কেউ কেউ আসেন, কিছু খাবার, জামা প্যান্ট দেন, ছবি তোলেন চলে যান। অন্ধকার রয়েই যায়। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে সমস্ত শবর পরিবারকে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। সিপিআই(এম)’র ডাকে ধারাবাহিক আন্দোলনে সেই বিদ্যুৎ আবার তাঁরা ফিরে পেয়েছেন। এটুকুই। তৃণমূলের সময় রানিবাঁধ ব্লকের ৯০ শতাংশ শবর পরিবার আবাস যোজনার বাড়ি পাননি। সম্প্রতি লড়াই করে বাড়ি বাড়ি সার্ভেতে শবর পল্লিতে সরকারি কর্মীদের নিয়ে আসতে পেরেছেন। বাড়ি পাবেন কিনা জানেন না।
প্রশ্ন হলো, কেন্দ্রীয় সরকার PVTG প্রকল্পে এই একেবারে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী মানুষজনের জন্য কি করল? দিবার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ৭৫টি আাদিম আদিবাসী জনগোষ্টীর মানুষজনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে। অন্য অংশের আদিবাসীদের চেয়ে এঁরা পিছিয়ে আছেন অনেকটাই। সেই মতো ২০২৩ সালে ১৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি ঘোষণা করেন। যার নাম দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান (PM- JANMAN) । লক্ষ্য ঠিক করা হয়, দেশের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে বাস করা এই ৭৫টি আদিবাসী জনগোষ্টীর মানুষের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ ব্যয় করবে। এই অর্থে সংশ্লিষ্ট আদিবাসী গোষ্টীগুলির বাড়ি, এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয় এসব তৈরি করা হবে। এর জন্য বাজেট ধরা হয় ২৪,১০৪ কোটি টাকার। বলা হয় এই টাকা ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের মধ্যে খরচ করতে হবে। এই টাকার ১৫,৩৩৬ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র ও ৮,৭৬৪ কোটি টাকা দেবে রাজ্য। কিন্তু গত ২বছরে কেন্দ্রীয় সরকার এর জন্য মাত্র ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বাংলার ভাগে পাওয়া গেছে খুবই সামান্য। এই টাকায় কিছু হয়েছে এমন নমুনা জঙ্গলমহলে প্রায় নেই। মহুলটাঁঢ় এলাকায় খালি একটি বাড়ি হয়েছে, তাও একবছরের মধ্যে সেটা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আর ঝাড়গ্রামে একটি শিশু পার্ক হয়েছে, যেখানে লোধা জনগোষ্টীর কোনও শিশুই যায় না।
জঙ্গলমহল এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার সব চেয়ে বড় উৎসই ছিল ল্যাম্পস। কেন্দুপাতা সংগ্রহ, বাবুই ঘাস চাষ, শালবীজ সংগ্রহ, এসব উঠে গেছে। ফলে চরম দারিদ্রের মধ্যে পড়ে আছেন মানুষজন। স্বভাবগতভাবেই শবর/ লোধা মানুষজন তাঁদের যন্ত্রণার কথা কাউকে বলতে পারেন না। তাই কাজের অভাবে অপুষ্টি, মৃত্যু সবটাই ঘটছে। কেউ জানতেও পারছে না। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁদের পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। একই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্টীর মানুষজন।
Comments :0