Mob Lynching

চুরির গুজব ছড়িয়ে মারধর, নেপথ্যে কি রাজনীতি! উঠছে প্রশ্ন

জেলা

চুরির গুজব ছড়িয়ে মাঝরাতে মারধর মাথাভাঙার দক্ষিণ সিঙ্গিজানির চরপাড়ায়! নেপথ্যে কি রাজনীতির ছায়া! সত্য উদঘাটিত হোক চায় গ্রামের সাধারণ মানু্ষ।
চোর সন্দেহে "মব লিঞ্চিং" এর ঘটনার দুদিন পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি কেউই গ্রেপ্তার হয় নি। পুলিশের বক্তব্য বাকিদের নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! অথচ গ্রামবাসীদের বক্তব্য সেদিন রাতে মব লিঞ্চিংয়ে জড়িতরা গ্রামেই রয়েছে! 
উল্লেখ্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ মাথাভাঙা -২ ব্লকের দক্ষিণ সিঙ্গিজানির চরপাড়া এলাকায় জনৈক পরেশ বিশ্বাসের বাড়িতে প্রতিবেশী কৌশিক বর্মন নাকি চুরি করতে ঢুকেছিল এই অভিযোগে পরেশ বিশ্বাস এবং তার স্ত্রী সহ ২০/২৫ জনের একটি দল কৌশিককে তার বাড়ি থেকে বের করে হাত- পা বেঁধে ব্যাপক মারধোর করে। সময় মত পুলিশ না এলে ঘটনাস্থলেই কৌশিকের মৃত্যু হত এমনটাই বলছেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কৌশিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেই সময় পুলিশ কৌশিকের বাবা গয়া প্রসাদ বর্মন এবং পরেশ বিশ্বাসকে ও থানায় নিয়ে যায়। যদিও পরেশ বিশ্বাস রাতেই থানা থেকে ফিরে আসেন। এদিকে পুলিশের তত্বাবধানে গয়াপ্রসাদ বর্মন ছেলেকে আশংকাজনক অবস্থায় কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন রোগীর সংকট কাটে নি।
কৌশিকের দাদা মানব বর্মনের বক্তব্য, ভাই কেরলায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতো। ঘটনার আগের দিনই  বাড়ি ফিরেছিল। চুরি করতে যাওয়ার প্রস্নই ওঠে না।মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পরেশ বিশ্বাস, মালা বিশ্বাস, নরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, শ্যামল বিশ্বাস, তাপস বিশ্বাস সহ ২৪ জনের নামে ঘোকসাডাঙা থানায় ভাইকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করার পর পরেশ বিশ্বাসের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। মানবের অভিযোগ, শনিবারেও যারা আমার ভাইকে হাত- পা বেঁধে মেরেছিল তাদের বাজারে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি।
এলাকার বাসিন্দা উপেন্দ্র রায় বলেন, ছেলেটি চুরি করতে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল কিনা সেটা তো প্রমান সাপেক্ষ।শুনেছি ওই বাড়িতে সিসিটিভিও আছে। তার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখলেই সত্যতা প্রমান হত। যারা চুরির অভিযোগ তুলেছেন তারা পুলিশের হাতেও তুলে দিতে পারতো ছেলেটিকে। সেসব না করে দলবদ্ধভাবে মারধরের মত ঘটনা ঘটানো মোটেই সমর্থন যোগ্য নয়।
এরই মধ্যে ওই এলাকায় মারধরের পেছনে চুরির তত্বের পাশাপাশি আরেকটি তথ্য উঠে এসেছে। যা অত্যন্ত মারাত্বক। এই এলাকায় ভোটের আগে বিজেপি আর গ্রেটার কোচবিহার এক জোট হয়ে লড়েছিল। কিন্তু ভোট পার হতেই দুই দল এলাকার দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রহৃত এবং তার বাবা গ্রেটার সমর্থক। অন্যদিকে পরেশ বিশ্বাসেরা কট্টর বিজেপি সমর্থক। গ্রামের অন্দরে আলোচনা চলছে শায়েস্তা করতেই চুরির অপবাদ দিয়ে৷ মারধরের ঘটনা নয় তো?
মব লিঞ্চিংয়ের পেছনে যারা আছে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্রমশ জোট বাঁধছে দক্ষিণ সিঙ্গিজানির চরপাড়া। পুলিশের সক্রিয়তাও চাইছে সাধারণ মানুষ। আর ওই যুবক সত্যিই চুরির জন্য গিয়ে থাকলে তাকেও আইনের মাধ্যমে শস্তি দেওয়া হোক। কোন মতেই মব লিঞ্চিংকে সমর্থন নয়।

Comments :0

Login to leave a comment