Dristict-wise PLFS

কাজে বা পড়াশোনায় নেই জেলাভিত্তিক এমন যুবদের হিসেব নতুন সমীক্ষায়

জাতীয়

জেলা-ভিত্তিক কাজের অবস্থা সংক্রান্ত সমীক্ষায় দেশজুড়ে ব্যাপক তারতম্য দেখা গিয়েছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এই প্রথম ভারতের জেলা স্তরে কাজের বাজারে অংশগ্রহণের হার, বেকারির হারের পাশাপাশি কোনও কিছু যুক্ত না থাকা যুব অংশের তথ্য দিয়েছে।  
সমীক্ষা দেখাচ্ছে, দেশের ৭৫ শতাংশ জেলায় কোনও কাজ বা শিক্ষায় যুক্ত নয়, ১৫-২৯ বছরের এমন যুব অংশ, ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। ৩০ শতাংশের ওপরে রয়েছে ২৫ শতাংশ জেলা। 
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৫৮ শতাংশ জেলায় মহিলা শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার অন্তত ৪০ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ এলাকায় বেকারত্বের হার ০.৫ শতাংশ থেকে ৫.৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে।
কর্মহীনতার যে ছবি সমীক্ষায় উঠে এসেছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বলা হয়েছে গুজরাটের আমেদাবাদে কর্মহীনতা বা বেকারির হার (১.১%) পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার (০.৯%) চেয়ে বেশি। 
বলা হয়েছে, ৪৩.১ শতাংশ জেলায় বেকারির হার ০.৫-৩ শতাংশ। ৩৪.৭ শতাংশ জেলায় হার ৩-৫.৫ শতাংশ।  
শ্রম শক্তি সমীক্ষায় অংশগ্রহণের হার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কর্মক্ষম অংশের কতজন কাজে যুক্ত বা কাজ খুঁজছেন সেই অনুপাত অংশগ্রহণের হার থেকে বোঝা যায়। 
নতুন পদ্ধতিতে করা পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা বা  'পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে'-র আওতায় প্রকাশিত এই তথ্যগুলো প্রথমবারের মতো জেলা স্তরে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার, শ্রমিক-জনসংখ্যা অনুপাত, বেকারত্বের হার এবং ‘নিট‘ (অর্থাৎ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের আওতা-বহির্ভূত তরুণ-তরুণী)-র জেলা-ভিত্তিক হিসেব দিয়েছে।
প্রধান জেলাগুলোর মধ্যে গুজরাটের সুরাট শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার এবং কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাতের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৬৮.৬ শতাংশ ও ৬৭.৮ শতাংশ নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে, এর পরেই রয়েছে বিহারের আরারিয়া এবং তামিলনাড়ুর সালেম। উল্লেখ্য, সুরাটে কর্মরতদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক।
উভয় সূচকেই বিহারের দ্বারভাঙা জেলা সর্বনিম্ন অবস্থায় রয়েছে। 
তিন-চতুর্থাংশের বেশি জেলায় ‘নিট’ (NEET) হার অর্থাৎ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যে তরুণ-তরুণীরা কোনও ধরনের কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত নয়, এমন অনুপাত ৩০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।
সারা দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জেলায় ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের মধ্যে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার এবং কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল। দেশের সর্বাধিক জনবহুল ১০০টি জেলার ক্ষেত্রে কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত ৩৭.৩ শতাংশ থেকে ৭৬.৭ শতাংশের মধ্যে ছিল।
গোটা অংশটিকে বিচার করলে যদিও এই পার্থক্য খুব বেশি নয়। অর্ধেকেরও বেশি জেলায় অর্থাৎ ৫২.৭ শতাংশ জেলায় শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল। অন্যদিকে, ৫৪.৩ শতাংশ জেলায় কর্মসংস্থানের হার ছিল ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে।
এই তথ্য থেকেই দেখা গেছে যে, বিভিন্ন জেলায় শ্রমবাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
প্রতিটি রাজ্যের সর্বাধিক নারী-জনসংখ্যাবিশিষ্ট ১০টি জেলার মধ্য থেকে নির্বাচিত জেলাগুলোর মধ্যে, হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে মহিলাদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল সর্বোচ্চ ৮০.৯ শতাংশ। এরপরই ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের বাদগামে ৭১.৪ শতাংশ, ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে ৭১.৮ শতাংশ এবং ছত্তিশগড়ের সরগুজায় ৬৯ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, প্রায় ৫৭.৮ শতাংশ জেলায় মহিলাদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment