স্কুল বাঁচাও- ক্যাম্পাস বাঁচাও, ই-২০ পেট্রোল নীতি বাতিল করো মূলত এই দুটো দাবিতে কলকাতায় তিনটি মিছিল করলো এসএফআই-ডিওয়াইএফআই। ১৫ আগস্ট দাবি দিবসকে সামনে রেখে কলেজ স্ট্রিট থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মিছিল ও গার্ডেনরিচ এবং বেহালায় মিছিল করেছে ছাত্র যুবরা। এদিন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা, কলকাতা জেলা সভাপতি সোহম মুখার্জি, সম্পাদক শ্রীজীব গোস্বামী, এসএফআই কলকাতা জেলা সভাপতি হাসিব হোসেন, সম্পাদক শুভদীপ ব্যানার্জি সহ নেতৃবৃন্দ।
দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচাতে, ছাত্র-যুবদের অধিকারকে রক্ষা করতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ডিওয়াইএফআই ধর্মতলায় ‘ইনকিলাব সমাবেশ’এর ডাক দিয়েছে। নওজওয়ান ভারত সভার শতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য ব্যাপি ইনকিলাব যাত্রা করেছে ডিওয়াইএফআই। তারই সমাপ্তি হিসেবে তাঁরা এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে। রাজ্যের গণতন্ত্র প্রিয় সব মানুষকে এই সমাবেশে আসার জানিয়েছেন জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা জাতীয় শিক্ষা নীতি, বিশ্ববিদ্যালয় বদলি নীতি বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার আসলে কর্পোরেটের টাকায় ভোটে জিতেছে। তাই ক্ষমতায় এসেই কর্পোরেট স্বার্থেই নতুন আইন-নীতি নিয়ে এসেছে। এর বিরুদ্ধে যাতে কেউ প্রশ্ন না করে তাই সাম্প্রদায়িক বিভাজনে ব্যস্ত রাখতে সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে চলেছে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী সহ শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা।’’
শুভদীপ ব্যানার্জি বলেছেন, "সম্প্রতি আড়াইশ’র বেশি মাদ্রাসা বন্ধ করছে রাজ্য সরকার। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে মানুষকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। অথচ, তৃণমূল আমল বন্ধ হয়ে যাওয়া ৮ হাজারের বেশি স্কুল পুনরায় চালু করবে কিনা তার কোনও কথা নেই। গত ৬ মাসেও একাধিক স্কুল শিক্ষার মান এবং পরিকাঠামোর দিক থেকে বিপর্যস্ত, কিন্তু সে নিয়েও কোনও কথা নেই। উল্টে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করল বিজেপি সরকার, যাতে শিক্ষার বেসরকারিকরণ করা সহজ হয়, শিক্ষাকে গৈরিকীকরণ করতে সুবিধা হয়। এর প্রকোপ পড়ছে উচ্চ শিক্ষাতেও। এমপি-এমএলএকে কলেজের পরিচালন সমিতির মাথাব বসানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি নীতি চালু করতে চাইছে। উদ্দেশ্য একটাই, যেনতেন প্রকারেণ এই শিক্ষাক্ষেত্রকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা।"
শ্রীজিব গোস্বামীর কথায়, যে পেট্রলের ওপর নির্ভর করে দেশের বাজার-অর্থনীতি, তাতে এমন এক নীতি চালু করেছে যাতে চরম ক্ষতির মুখে সাধারণ মানুষ। যাঁদের বছরে ৬০-৭০ হাজার কলোমিটার বাইক-মোটরসাইকেল চালিয়ে উপার্জন করতে হয়, যাঁরা গিগ ওয়ার্কার, তাঁরা ভয়ঙ্করভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। তাঁদের মোটরবাইকের মাইলেজ কমে যাচ্ছে ৫ শতাংশ, সেটা সরকার স্বীকার করতে পারছে না, ইঞ্জিন খারাব হচ্ছে তার দায় সরকার নিতে পারছে না। এই ই-২০ পেট্রোল উৎপাদনে কত খরচ হচ্ছে, শস্য-জল সহ কী কী ক্ষতি হচ্ছে এবং তার পরিবর্তে সরকার কত লাভ করছে তার কোনও তথ্য দিচ্ছে না। বলা হয়েছিল, ই-২০ পরিবেশ বান্ধব এবং পেট্রলের অতিমূল্য থেকে রেহায় পাবে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন ক্ষতি ছাড়া কিছুই পায়নি সাধারণ মানুষ। উল্টে দামও একই দিতে হচ্ছে। তার দায় সরকার নিচ্ছে না। তবে ই-২০ উৎপাদন করে নীতিন গড়করি ছেলের ১২ কোটির কোম্পানী ফুলে ফেঁপে ৬০০ কোটির কোম্পানী হয়ে গেছে। আসলে নিজের সমস্ত দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে তা কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে রাজ্যের বামপন্থী ছাত্র যুবরা সবসময় লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তাঁরা।
Comments :0