রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু অধিকারীর এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় হলো যাদবপুর থেকে বামপন্থা নির্মূল করে সনাতনী গেরুয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করা। দলীয় বিধায়িকা যার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিন্দুবিসর্গ সম্পর্ক নেই মধ্যরাতে হাজির হয়ে ঘোষণা করেন সারারাত তাণ্ডব করবেন। বাস্তবে তাণ্ডবই হয়েছিল বিশ্ব বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে। গভীর রাতে বহিরাগত দুষ্কৃতীবাহিনী গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা, অরবিন্দ ভবনে গেটে আগুন লাগানো থেকে শুরু করে গুন্ডামির কোনও কিছু বাদ রাখেনি। এই ঘটনার শিরোনাম ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ লেখার জন্য এক পত্রিকার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা ঠুকেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। সেই পত্রিকার অফিসের সামনে গেরুয়া বসনধারী কিছু লোক এসে অবস্থান বিক্ষোভ করে এবং বাড়িতে গেরুয়া রং লাগিয়ে যায়। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো যাদবপুরে গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে যারা হামলা করেছিল এবং পত্রিকা অফিসে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা বিজেপি-র কেউ নয় বলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দাবি করেছেন। আবার শুভেন্দুর পুলিশও তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করেনি। মুখ্যমন্ত্রীও একাজকে অন্যায় বা অপরাধমূলক বলেননি। তবে যাদবপুরে ছাত্রদের দেওয়াল লেখা মুছে দিয়েছেন। ছাত্ররা ফের লিখলে ফের মোছা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী গভীর রাতের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। বরং তার পরোক্ষ সমর্থনে যাদবপুরে রাষ্ট্রবাদী মিছিল করেছেন। নাগা সন্ন্যাসীদের ডেকে এনে যাদবপুরে মিছিল করেছেন গেরুয়া সম্মান রক্ষা করতে। তিনি নিজেও গেরুয়া ধারণ করে মিছিলে হেঁটেছেন। বাইরে হুমকি, ধমক-চমক দেখালেও বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভেতরে দাঁত ফোঁটানো যায়নি। ছাত্ররা স্পষ্ট জানায় যদি দখল নিতেই হয় তবে ছাত্র সংসদের ভোট করে গণতান্ত্রিকভাবে নিক। কিন্তু চ্যালেঞ্জ নেবার সাহস নেই। তৃণমূলকে গণতান্ত্রিকভাবে খতম করার হুমকি দিলেও বাম ছাত্রদের গণতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার ক্ষমতা নেই। তাই ভোটের পথে পা বাড়াচ্ছে না।
যাদবপুর যতদিন বিশ্বমানের থাকবে, যতদিন মুক্তচিন্তার, বিতর্কের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে ততদিন সেখানে ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডুকতার জায়গা থাকবে না। তাই যাদবপুরকে টেনে নামাতে হবে হরি ঘোষের গোয়ালে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে যাদবপুরের সেরা অধ্যাপকদের তাড়ানো যায়। ভালো অধ্যাপক না থাকলে ভালো ছাত্ররা আর যাদবপুর মুখো হবে না। গোমূত্রপায়ীদের আখড়া হওয়া সহজ হবে। শুভেন্দুরা নিশ্চিন্তে যাদবপুরকে গেরুয়া ঝান্ডায় ঢেকে দিতে পারবেন।
তাই হিসাব কষে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে কিছুক্ষণের মধ্যে পাশ করানো হলো অধ্যাপক বদলির বিল। অর্থাৎ সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে যাদের বিরোধী বা বামপন্থী বলে মনে করবে তাদের যাদবপুর থেকে সরিয়ে দেবে। বদলে গোটা রাজ্য থেকে সনাতনী অধ্যাপকদের জড়ো করবে। গেরুয়া ছাতার নিচে সনাতনী পরিমণ্ডলে ছাত্র-ছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদ শেখাবেন, যাগযজ্ঞ-পূজা করাবেন, গড়ে উঠবে একাধিক মন্দির, গেরুয়া সাধু, নাগা সন্ন্যাসীরা এসে সভা করে দেবদেবীর মাহাত্ম্য শোনাবেন। যাদবপুর প্রথম সারি থেকে নিচের সারিতে নেমে যাবে।
CM and Jadavpur University
আত্মহত্যার অভিযান
×
Comments :0