শুধু বইয়ের নাম বা বিষয়বস্তু দেখে কোনও ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাই কোর্ট সম্প্রতি এক মামলার রায়ে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। জনসুরক্ষা আইনে বন্দি এক ব্যক্তির আবেদন প্রসঙ্গে এই পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। আদালত জানিয়েছে, একজন শিক্ষাবিদ বা গবেষকের কাছে বিভিন্ন ধরনের বই থাকা স্বাভাবিক। বইয়ের ‘হতাশাজনক’ বা আপত্তিকর মনে হওয়া শিরোনাম থাকলেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক আটক আইন প্রয়োগ করা যায় না।
উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার গবেষক শাফাত মকবুল ওয়ানির বিরুদ্ধে পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট বা পিএসএ-তে নেওয়া পদক্ষেপ বাতিল করেছে আদালত। তাঁর কাছ থেকে ‘দেশবিরোধী’ সাহিত্য উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছিল পুলিশ। সেই বইগুলির মধ্যে একটি বই ওয়ানির নিজের লেখা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানায়, বইটি তাঁর লেখা বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও ভুল। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর কাছে বিভিন্ন ধরনের বই থাকা স্বাভাবিক। তাই শুধু কিছু বই পাওয়া গিয়েছে বলে তাঁকে অপরাধী বলা যায় না।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের বই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর প্রশাসন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব ও মিথ্যা বয়ান প্রচার’-এর অভিযোগে ২৫টি বই নিষিদ্ধ করেছিল। নিষিদ্ধ বইগুলির বেশিরভাগই কাশ্মীরের ইতিহাস নিয়ে লেখা।
এরপর চলতি বছরে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার এবং জনসাধারণের গ্রন্থাগারগুলিকে তাদের কাছে থাকা বই ও জার্নাল পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে। কোনও ‘অনুপযুক্ত’ বা ‘আপত্তিকর’ বিষয়বস্তু রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে বই পড়া, রাখা এবং গবেষণার স্বাধীনতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। আদালতের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের জন্য নির্দিষ্ট ও যথেষ্ট কারণ থাকা জরুরি। শুধু বই থাকা অপরাধের প্রমাণ হতে পারে না।
জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা গঠিত হলেও পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে পুলিশ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উপরাজ্যপালের মাধ্যমে চলছে এই নিয়ন্ত্রণ।
Jammu and Kashmir Book PSA
বই রাখলেই অপরাধী নন, পুলিশকে বলল জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট
×
Comments :0