পাঁচ রেলের লেভেল ক্রসিং রাজ আমলের কোচবিহার শহরের গতির পথে প্রধান বাঁধা! গতি বাড়াতে চাই উড়ালপুল। ডাবল ইঞ্জিন সরকাররের জেলার দুই মন্ত্রী এই জেলার। আর আছেন বিধানসভার স্পীকার। তবুও শহরের জীবনযাত্রার গতি বাড়াতে তাদের মুখে কুলুপ। যান যন্ত্রণায় নাভিশ্বাস উঠছে কাজের জন্য শহরে আসা মহকুমার বাসিন্দাদের। দিনহাটা ও মাথাভাঙা থেকে কোচবিহার শহরে ঢুকতে হরিণচওড়ার লেভেল ক্রসিং, তুফানগঞ্জ থেকে শহরের প্রবেশ মুখে রেলগুমটির লেভেল ক্রসিং, কোচবিহার স্টেশন মোড় থেকে বিবেকানন্দ স্ট্রীট ধরে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ এবং পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে লেভেল ক্রসিং, কোচবিহার স্টেশন থেকে পান্থশালা রোড ধরে কোচবিহার কলেজে যাওয়ার পথের লেভেল ক্রসিং আর কোচবিহার মড়াপোড়া চৌপথি ব্যাংচাতরা রোডের লেভেল ক্রসিং এখন যেন যন্ত্রণার আরেক নাম। এই ৫ লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে দুটি লেভেল ক্রসিং মূল রাস্তায় এবং বাকি তিনটি ‘পকেট রুটে’। প্রতিদিন সকাল ৯ টা বেলা ১২ টার মধ্যে তিনটি ট্রেন যাতায়াত করে মূল রাস্তার লেভেল ক্রসিং দিয়ে। তখন পথের দুদিকে আটকে যায় সড়ক যান। আর যানজটে বাড়ে সমস্যা। সকাল ৯ টার দিকে নিউ কোচবিহার থেকে দিনহাটার দিকে ছোটে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস। এদিকে সেই সময় অফিস, স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার টাইম। লেভেল ক্রসিং তখন বন্ধ। যানযট পেরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে লেগে যায় আধঘন্টা! কখনও কখনও সেটা ঘন্টাখানেক লাগে। কোন কোন দিন প্রায় একই সময়ে যায় আরও একটি ট্রেন! আর আছে মালগাড়ির যাতায়াত। হরিণচওড়ার এ সমস্যা সবাই জানে। একই অবস্থা রেলগুমটির দিকেও।
হরিণচওড়া ও রেলগুমটিতে উড়ালপুলের দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষত হরিণ চওড়া দিয়ে কোচবিহার শহরে ঢুকতে হয় মাথাভাঙা, দিনহাটা ও মেখলিগঞ্জ মহকুমার বাসিন্দাদের। আবার শহরের মানুষেরা কাজের জন্য ওই মহকুমাতে যায়। আর আছে বিপন্ন রোগীদের দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার তাড়া।
নিত্যযাত্রী নিখিল চক্রবর্তী বলেন, হরিণচওড়া কিংবা রেলগুমটিতে শুধু যাত্রীবাহী যান নয়, পণ্যবাহী লরিও শিলিগুড়ির দিক থেকে এসে এই পথেই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে যায়। আবার সেখান থেকে আসেও। সবটা মিলিয়ে লেভেল ক্রসিং বন্ধ হলে কি অবস্থা হয় সেটা ভূক্তভোগীরা এবং ওই এলাকার বাসিন্দারা নিত্যদিন টের পাচ্ছেন।
এতদিন বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদেরা উড়ালপুল না হওয়ার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করতেন। বিজেপির বক্তব্য ছিল, ‘‘রেল তো উড়ালপুল করতেই পারে, রাজ্য জমি অধিগ্রহন করছে না।’’ যদিও উত্তর- পূর্ব রেলের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রের খবর কোচবিহার শহরের প্রবেশমুখে উড়ালপুল তৈরি নিয়ে কোন প্রস্তাব নেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এবার তো রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে। যানজট কাটাতে রেলকে কি উড়ালপুলের প্রস্তাব দেবে রাজ্য সরকার? নাকি নিত্যদিন যানজটের যন্ত্রণা নিয়েই পথ চলবে নাগরিকেরা। আর হতাশার সুরে বলবে, "পথে হল দেরি""।
Cooch Behar town
কোচবিহার শহরে গতির পথে প্রধান বাঁধা রেলের পাঁচ লেভেল ক্রসিং
প্রতিকী ছবি
×
Comments :0