স্থানীয় স্বশাসনের কাঠামোর অধিকার খর্ব করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। সঙ্কুচিত হচ্ছে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। জলপাইগুড়ি পৌরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্তে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিআই(এম)।
দীর্ঘ প্রায় দেড় মাসের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর বুধবার নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জলপাইগুড়ি পৌরসভায় বসল প্রশাসক। দিনভর তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর দড়ি টানাটানি, অনাস্থা ভোটকে ঘিরে উত্তেজনা এবং শেষ পর্যন্ত সেই ভোটের আগেই পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি পদত্যাগ করেন। এরপর সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের নির্দেশে জলপাইগুড়ির মহকুমা শাসককে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৈকত চ্যাটার্জি বলেন, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। তারপরও কোনও তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেননি। পরবর্তীকালে কাউন্সিলর সন্দীপ মাহাতো, তপন ব্যানার্জি সহ কয়েকজনের উস্কানিতে এবং একটি রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মদতে পৌর পরিষেবাকে অচল করার চক্রান্ত শুরু হয়। তাঁর দাবি, অনাস্থা ভোটের আগে তাঁর অনুগামী দুই কাউন্সিলরকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এখানেই উঠছে আইনগত প্রশ্নও। বুধবার অনাস্থা প্রস্তাবের প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলররাও অংশ নেন। সেই পরিস্থিতিতে, অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে, অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠনের সুযোগ না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন ও নির্বাচিত স্থানীয় স্বশাসনের নীতির সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্ধান্তের আইনি ব্যাখ্যা ও পরবর্তী সরকারি নির্দেশের উপরই নির্ভর করবে বিষয়টির চূড়ান্ত অবস্থান।
প্রশাসক বসানোয় প্রশ্ন উঠেছে, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক পৌর পরিষেবা পাবেন? পানীয় জল, নিকাশি, সাফাই, রাস্তা সংস্কার, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সহ দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা কি দ্রুত স্বাভাবিক হবে, নাকি প্রশাসক নিয়োগের পরও দলীয় নির্দেশ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া থেকে যাবে পৌরসভায়?
এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার নির্বাচিত স্থানীয় সংস্থাগুলির অধিকার খর্ব করছে। তাঁর অভিযোগ, খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকার নানা সমস্যা নিয়ে যে পঞ্চায়েত বা পৌরসভার কাছে সহজেই পৌঁছনো যায়, সেই স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থার অধিকার খর্ব করার মধ্য দিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারও সংকুচিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ তারই হাতে গরম নমুনা।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, প্রশাসক বসিয়ে কি সত্যিই অচলাবস্থার অবসান হবে? নাকি নির্বাচিত স্থানীয় স্বশাসনের পরিবর্তে দলীয় ও প্রশাসনিক নির্দেশেই চলবে জলপাইগুড়ি পৌরসভা?
Jalpaiguri Administrator
প্রশাসক বসিয়ে কাটবে অচলাবস্থা, প্রশ্ন জলপাইগুড়িতে
×
Comments :0