TMC Mamata Banerjee

দিল্লিতে তাড়াতাড়ি বদল, দল ধরে রাখতে ভাষণ মমতার

রাজ্য কলকাতা

বিজেপি’র সঙ্গে যাবেন না। আমাদের সঙ্গে থাকুন। জেলের ভাত খাবেন, কিন্তু বিজেপি’র পচা ভাত খাবেন না। 
কলকাতায় ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে আয়োজিত জনসভায় এই মর্মে আর্তি জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। 
এদিন কাছেই, রানি রাসমণি অ্যাভেনিউতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশ দিনটি পালনে সমাবেশ করেছে। তবে সেখানে জমায়েত ছিল একেবারেই ফিকে। সেই অবসরে ভাষণে মমতা দাবি করে ফেলেছেন তাঁর সভায় জমায়েত এক লক্ষ। 
মমতা ব্যানার্জি দলের কর্মীদের মনোবল জোগাতে দাবি করেছেন, খুব তাড়াতাড়ি দিল্লিতে বড় পরিবর্তন আসবে। তাঁর মন্তব্য, দিল্লি গেলে বিজেপি খিল্লি হবে। মমতা বলেছেন, ২৯-র নির্বাচনে ভারতে আসবে অ-বিজেপি সরকার। আমরাই নেতৃত্ব দেব। তিনি বলেন, ১৪ হাজার মামলা দিয়েছে, ডিম ছুঁড়েছে, হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘুরিয়েছে। তা-ও তৃণমূল দমে যায়নি। আমাদের সঙ্গে থাকুন আমরাই বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করব। 
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলের ভাত খাবেন কিন্তু বিজেপি’র পচা ভাত খাবেন না। এদিন বক্তব্যে তৃণমূল সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি দাবি করেছেন যে ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যের কুড়িটি লোকসভা আসনে পুনর্নির্বাচন হবে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের যে সাংসদরা রাতারাতি এনসিপিআই নামে একটি দলে যোগ দিয়েছেন তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হবে।
মমতা কল্যাণের ভাষণের উল্লেখ করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে কল্যাণ লড়ছে। প্রয়োজনে আমি যাব। দরকার হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব!   
তৃণমূল ভেঙেছে লোকসভা এবং বিধানসভায়। বহু জায়গায় জার্সি বদলে তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। ফলে দল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের মমতাপন্থী অংশের। সেদিক খেয়ালে রেখে কুনাল ঘোষ ভাষণে বলেছেন যে মমতা-অভিষেক যেখানে রয়েছে সেটিই আসল তৃণমূল।
আবার রাজ্যে বিজেপি’র আক্রমণের লক্ষ্য এখন বামপন্থীরা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলের দপ্তরে নিয়মিত আক্রমণ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘দিমাগি নকশাল’ ভাষণের পর হামলা তীব্র হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আক্রান্ত বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা।  
মমতা বলেছেন, জোর করে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিজেপি দখল করতে নেমেছে। তিনি বলেন, আজকের পুলিশকে আমি চিনতে পারছি না। আমি যে পুলিশকে নিয়ে কাজ করেছি তারা ছিল মানবিক। এখন পুলিশ দানবিক।
বামপন্থীরা বারবারই বলছেন যে তৃণমূল আমলে আইন মেনে চলার পাঠ তুলে দিয়েছে পুলিশ। ভোটের পর নতুন করে আনুগত্য বদলে নিয়েছে কেবল। 
মমতা ব্যানার্জি দুটো নাগাদ সমাবেশ উপস্থিত হন তারপরেই তাকে দেখে কর্মী সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন ভিড়ের চাপে ধাক্কায় ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তার উপর চলে আসেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।  
তারপরেই মমতা ব্যানার্জি মাইক হাতে বলতে থাকেন যেকোনও সময় অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে, আপনারা এক ঘন্টার জন্য রাস্তাটার গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিন। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ সমাবেশের মাঝে গাড়ি ঢোকাবেন না। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ওই রাস্তায় এসে দখল নেন এবং ধীরে ধীরে যে গাড়িগুলি ঢুকে ছিল তা বের করে দেওয়া হয়। 
এদিকে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে তৎপর ছিলেন মমতার ভাইপো সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি।  
ঔদ্ধত্য যেন পিছু ছাড়ছেই না অভিষেকের। এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমাবেশে অভিষেক বলেছেন, ৩০০০ টাকার জন্য যে মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন তারা এখন কাতরাচ্ছেন। 
আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনের সরকার দেড় কোটি মহিলাকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দিতে পারছে না। 
অভিষেক আবার বলেছেন, যারা বাংলা দখল করতে এসেছিল, ছাত্র আন্দোলনের জেরে দিল্লিতে তাদের সরকার টলমল। আগে গদি সামলাক। তারপর মমতা ব্যানার্জিকে আটকাবে। 
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দপ্তরে পুলিশের থৎপরতার সমালোচনা করেছেন সব বক্তাই।
এদিকে অভিষেকের দাবি, গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে ২০১১-তে মমতা ব্যানার্জি সরকার গড়েছিলেন। ২০১১-এর আগে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যের কোথাও গণতন্ত্র ছিল না। 
বাস্তবে ছবিটা পুরো উল্টো। ২০১১-র আগে রাজ্যের বহু কলেজে ছাত্র সংসদ চালিয়েছে ছাত্র পরিষদ অথবা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। প্রতি বছর নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ২০১১-র পর মাত্র তিন বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন করে বন্ধ করে দেয় তৃণমূল সরকার। যেখানে নির্বাচন হয়েছে সেখানেও গায়ের জোরে দখল করার চেষ্টা করেছে তৃণমতল। বামপন্থীদের আক্রমণ করেছে।
এদিন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের সমাবেশে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি দাবি করেছেন যে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দ্রুত শুরু করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment