কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার যথোপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বচ্ছ, উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বদলে রাজ্যের নতুন সরকার সেখানে দখলদারির রাস্তাকে প্রসারিত করার কাজে মদত দিচ্ছে। তৃণমূল জমানায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শাসকদলের আখড়ায় পরিণত করার বিরুদ্ধে যারা সরব ছিল, এমনকি ভোটের আগেও যারা শিক্ষাক্ষেত্রকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এখন ক্ষমতা দখলের পর দু’মাস কাটতে না কাটতেই তারা ক্যাম্পাস দখলে রীতিমতো গুন্ডামি শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অন্যতম টার্গেট হলেও পরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, বারাসতে রাষ্ট্রীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে বিজেপি’র অনুগামী আরএসএস’র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আগে থেকে পরিকল্পনা করে আক্রমণ করছে, মারধর করছে। ছাত্র সমাজের মধ্যে যেহেতু এই কট্টর ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কোনও সমর্থনের ভিত্তি নেই তাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মসূচি করতে পারে না। করলেও তাতে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয় না তাই বহিরাগত অছাত্র দুষ্কৃতীরাই তাদের ভরসা। দুষ্কৃতীদের জড়ো করে ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব ছড়িয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায়। এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা শাসক বিজেপি’র মদত, পরামর্শ এবং উসকানি তাদের সঙ্গে আছে। বিজেপি’র শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কদের হুঙ্কার শুনেই বোঝা যায় বহিরাগত এবিভিপি গুন্ডাদের এরা শুধু উসকানি বা প্ররোচনা দিচ্ছে না রীতিমতো দায়িত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসে পাঠাচ্ছে।
শিক্ষার গুণগত মান ও মেধার বিকাশের অপরিহার্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মুক্তচিন্তা অধিকার। তেমনি দরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ। পডুয়াদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ক্যাম্পাসে সুস্থ ও স্বাভাবিক ভয়মুক্ত পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবে। তৃণমূল জমানায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে শাসক দলের বহিরাগত মস্তানদের হাতে ক্যাম্পাসের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। হেন অপকর্ম নেই যা এরা ক্যাম্পাসে করেনি। ধর্ষণ, নির্যাতন, তোলাবাজি, দুর্নীতি, মদ-গাঁজার ঠেক থেকে শুরু করে সবই ছিল ক্যাম্পাসে।
অন্যদের মতো বিজেপি-ও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে ক্যাম্পাসকে রাজনৈতিক দখলমুক্ত করে গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেবে। এখন দেখা যাচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিজেপি’র তৃণমূলীকরণ দ্রুত ঘটছে। তৃণমূলের জায়গায় বিজেপি’র দখল কায়েম করতে সরকার, বিজেপি, আরএসএস এবং এবিভিপি যৌথ উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিজেপি জানে ছাত্র সমাজে তাদের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে সর্বত্র গো হারা হারবে। একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়েও তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচনের পথে না গিয়ে পেশিশক্তি আর অস্ত্রের জোরে ক্যাম্পাস দখলে ঝাঁপিয়েছে। তারা জানে আরএসএস-বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা তাদের পেছনে আছে। আর সুরক্ষার দায়িত্বে আছে পুলিশ।
Editorial
ক্যাম্পাস দখলের বৃহত্তর পরিকল্পনা
×
Comments :0