Nepal Floods

নেপালের হড়পা বানে বিহারেও নিখোঁজ ১৪, সতর্কতা জারি উত্তর প্রদেশ ও বিহারে

জাতীয়

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। সেই বন্যার জল গণ্ডক ও নারায়ণী নদী দিয়ে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে ঢুকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে। এই আশঙ্কায় দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বুধবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীপারের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিহার-নেপাল সিমান্তে রসুয়াগড়ি এলাকায় থাকা রাসুয়াগড়ি দপ্তর অফিসের ১৪ জন কর্মী বন্যার জলে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এই ঘটনার পর নেপাল সরকার ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন হেলিকপ্টারসহ নিখোঁজদের সন্ধান করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী,  রাসুয়াগড়ি শুল্ক দপ্তরে মোট ৩৬ জন স্থায়ী কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এদের মধ্যে দপ্তরের প্রধান প্রশাসক রাজেন্দ্র ধুঙ্গানাসহ ২৫ জন নিরাপদ আছেন। ১১ জন স্থায়ী কর্মচারী এখনও নিখোঁজ। এছাড়াও, দপ্তরে কর্মরত চারজন চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীর মধ্যে একজন নিরাপদ আছেন, এবং বাকি তিনজন নিখোঁজ বলে জানা গেছে। মোট ১৪ জন কর্মচারীর সন্ধান চলছে।
নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের তরফে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য এনডিআরএফও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিহারে পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজফ্ফরপুর ও বৈশালীতে বিশেষ নজরদারি চলছে। সীতামঢ়ী ও শেওহর-সহ আরও কয়েকটি জেলাকেও সতর্ক করা হয়েছে। গণ্ডকের জল নিয়ন্ত্রণে বাল্মীকিনগর ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, বুধবার দুপুরে গণ্ডক ব্যারাজ থেকে প্রায় ৮৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশি গুরুতর। তবে এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।’’  রাতভর সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও, ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিকসহ ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। 
তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর জলে রসুয়া ও ধাদিং-সহ একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরে জলধারা নুয়াকোট ও চিতওয়ানেও ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যার প্রভাব সামলাতে বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নৌকা, আশ্রয়কেন্দ্র ও কমিউনিটি কিচেন প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণের সব ব্যবস্থাও তৈরি রাখতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উত্তরপ্রদেশেও মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরে সতর্কতা জারি হয়েছে। নেপালে বৃষ্টির জেরে গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। মহারাজগঞ্জে গণ্ডক নদীর জলস্তর ২৪ ঘণ্টা নজরে রাখা হচ্ছে। নিচু এলাকা ও নদীর ধারে থাকা বাসিন্দাদের প্রয়োজনে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
কুশীনগরে মার্চহাওয়া, শিবপুর-সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলা হয়েছে। খাড্ডা তহশিলের শিবপুর, হরিহরপুর, নারায়ণপুর, মার্চহাওয়া ও বসন্তপুরে বিশেষ নজরদারি চলছে। প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। দুই রাজ্যের প্রশাসনই মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment