Supreme Court

২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস, দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি

জাতীয় রাজ্য

দলত্যাগ করে এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেওয়া ২০ জন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার অভিষেক ব্যানার্জির দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নোটিশ জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ।
লোকসভায় তৃণমূলের ওই ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছিল তৃণমূল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় দ্রুত শুনানি ও সিদ্ধান্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল।
এর আগে আদালত লোকসভার স্পিকারকেও নোটিস দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার আদালতে স্পিকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করবেন। তার বক্তব্য, দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদনগুলির ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছেন স্পিকার।
সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্যের পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘নোটিস জারি করা নিয়ে প্রশ্ন নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করাটাই প্রশ্ন।’
অভিষেক ব্যানার্জির আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা নিষ্পত্তি করতে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। শুনানি শেষে তিনি বলেন, এটি তৃণমূলের বড় জয়। খুব শীঘ্রই আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি সময়সীমা বা তারিখ নির্ধারণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের সংসদীয় দলে বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দাবি করেন, তারা ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন বা দলের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটেছে। এরপর তারা লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে সংসদে তাদের এনসিপিআই গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তারা এনডিএ-র বৈঠকেও অংশ নেন।
তৃণমূলের দাবি, ওই সাংসদরা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দলীয় সদস্যপদ স্বেচ্ছায় ত্যাগ করার সমতুল্য। ফলে সংবিধানের দশম তফসিল তথা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাদের পদক্ষেপ একটি বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি বা মার্জারের আওতায় পড়ে। তাই তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন প্রযোজ্য নয়।

Comments :0

Login to leave a comment