NATUNPATA | MONDA MITHI | PRITILATA | PURBAYAN MAYARA | 23 AUGUST 2026 | 4th YEAR

নতুনপাতা | মণ্ডা মিঠাই | প্রীতিলতা | পূর্বায়ন ময়রা | ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

NATUNPATA  MONDA MITHI  PRITILATA  PURBAYAN MAYARA  23 AUGUST 2026  4th YEAR

নতুনপাতা

মণ্ডা মিঠাই

প্রীতিলতা 

পূর্বায়ন ময়রা 

২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

 

   যখনই শাসক শ্রেণীর অত্যাচার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে, যখনই সমাজ নিমজ্জিত হয়েছে অন্যায়ের অন্ধকারে তখনই সমাজের পরিবর্তনের দায়ভার হাতে তুলে নিতে এগিয়ে এসেছে একদল যুবক যুবতী। যুবসমাজের প্রচেষ্টায়  হার মানতে হয়েছে শাসক শ্রেণীকেও। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমনই এক বীরাঙ্গনা যুবতি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তাঁর বীরত্বের ইতিহাস আজও উজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায়।        

   তখন ভারত বর্ষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। পরাধীন ভারতবর্ষে শাসক শ্রেণীর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমনই এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ১৯১১ সালের ৫ই মে চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তাঁর পিতা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ও তাঁর মাতা প্রতিভাময়ী দেবী। এরপর ক্রমশ বড়ো হয়ে উঠতে থাকেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা। যথারীতি শুরু হয় তাঁর শিক্ষা জীবন।  চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হলে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং অপর্ণাচরণ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সবটাই ছিল চেনা ছন্দের। অত্যন্ত স্বাভাবিক এক জীবন। যেন স্নিগ্ধ শান্ত সুগভীর এক জলাশয় যেখানে বিশেষ কোনো আলোড়ন নেই। কিন্তু অদৃষ্ট তাঁর কপালে লিখেছিল দেশ মাতৃকার চরণে আত্মনিবেদন। অত্যাচারী শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে তাঁকে যে রুখে দাঁড়াতেই হবে। কেইবা তখন আন্দাজ করেছিল এই সেই বীরাঙ্গনা রমণী চিনি রুখে দাঁড়াবেন দোরদন্ড প্রতাপ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। দেশের জন্য নির্দ্বিধায় প্রাণ ত্যাগ করবেন। সেই প্রশান্ত সরোবরের মধ্যেই কখন যে সবার অলক্ষে শুরু হয়েছিল আলোড়ন তা সত্যি কারোর দ্বারা পরিলক্ষিত হয়নি। ঢাকায় পড়ার সময় তিনি লীলা নাগের পরিচালিত 'দীপালী সংঘ' এবং তার নারী শাখা 'শ্রীসংঘের' সাথে যুক্ত হন। এরপর যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় যান তখন তিনি কল্যাণী দাসের "ছাত্রীসংঘে" যোগদান করেন। এছাড়াও তিনি আলিপুর জেলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সাথে দেখা করতে যান যা তাঁর হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। অবশেষে ১৯৩২ সালে ধলঘাট ক্যাম্পে সরাসরি মাস্টারদা সূর্যসেনের সাথে দেখা করেন তিনি। কিন্তু এখানে উপস্থিত হয় এক বিপত্তি। প্রথমে দলে নারীদের নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি ছিল কিন্তু প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের অসীম সাহস এবং বুদ্ধিমত্তার কারণে তাকে বিপ্লবী দলের এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনিও পুরুষ বিপ্লবীদের পাশাপাশি অস্ত্র এবং বিস্ফোরক সরবরাহ টেলিফোন টেলিগ্রাফের অফিস আক্রমণ শুরু করেন। এছাড়াও বিপ্লবী সংগঠনের বিভিন্ন গোপন দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন তিনি। এরপর উপস্থিত হয় সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় উন্মোচনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯৩৫ সালের ২৪ শে সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন একদল বিপ্লবী। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এক বীরাঙ্গনা রমণী।  এই নারী অন্তঃপুরবাসীনি নয়, লজ্জাশীলাও নয়, এ নারী যেন সাক্ষাৎ শক্তির আরেক রূপ। কে এই রমনী ? ইনি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । সেদিন তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অভিযান সফল হয়। এরপর তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা না দিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মবলিদান দেন দেশ মাতৃকার চরণে। সেই সময় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।

দ্বাদশ শ্রেণী 
কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ 
কল্যাণ নগর, খড়দহ 
উত্তর ২৪ পরগণা

Comments :0

Login to leave a comment