ইরানের অর্থনীতিকে শুকিয়ে মারার হুমকি দিয়েছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আমেরিকার এমন হুঁশিয়ারিকে এক কথায় উড়িয়ে দিল চীন।
চীন বলেছে, নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ দেওয়ার কৌশলে কোনও পক্ষের লাভ হয় না। বরং লাভজনক সমাধান আসতে পারে আলোচনার মাধ্যমে।
চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগনো উচিত ইরান এবং আমেরিকার। কারও ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে লাভ হয় না।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য না করার জন্য চীনকে বার্তা দিয়েছিলেন আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। আমেরিকার বার্তায় বলা হয় যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে তৃতীয় দেশও।
আমেরিকা এর মধ্যেই ইরানের ওপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরেই ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। কিন্তু দু’দুবার যুদ্ধ চাপিয়েও কাবু করতে পারেনি ইরানকে। বরং গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর আক্রমণের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি পেট্রোলিয়াম সরবরাহের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
ট্রাম্পের হুমকিকে এর আগেই বেআইনি আখ্যা দিয়েছে ইরান। সংসদের অধ্যক্ষ মহম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার বলেছেন, দেশের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষার জন্য আরও আত্মত্যাগে তৈরি রয়েছে ইরান। আরও কিছু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়তো হবে, কিন্তু আত্মসমর্পন করা হবে না। তাঁর সংযোজন, আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে মাথায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার নতুন রাস্তা খুঁজে বের করবে ইরান।
ইরান বা কাউকে ভয় দেখাতে পারেনি আমেরিকা। বরং ট্রাম্প প্রশাসন ফিরিয়ে নিচ্ছে যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিনকনকে। পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে আমেরিকার অন্য রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।
যুদ্ধ জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কনকে দীর্ঘদিন পাঠিয়ে রাখা হয়েছে ইরানকে শায়েস্তা করার লক্ষ্যে। সে কাজে সফল হননি ট্রান্প। বরং দীর্ঘ সময়ের ধকল এবং ক্লান্তিতে ওই জাহাজের সেনারা কার্যত খেপে ওঠে। দু’জন জলে ঝাঁপও দেয়। দেশের মধ্যে তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে ট্রাম্প সরকার।
China on US sanction against Iran
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসুন, হুমকি উড়িয়ে ট্রাম্পকে বলছে চীন
আব্রাহাম লিঙ্কন। নৌসেনারদের ক্ষোভের জেরে এই যুদ্ধ জাহাজ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমেরিকা।
×
Comments :0