100 days of BJP govt

প্রথম ১০০ দিন: রাজ্য সরকারের চলার অভিমুখ স্পষ্ট

সম্পাদকীয় বিভাগ

অমিয় পাত্র

১৬ আগস্ট, ২০২৬ রাজ্যের বিজেপি পরিচালিত সরকারের বয়স ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। প্রথম ১০০ দিনের কাজের দিকে তাকালে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো—সরকারের অগ্রাধিকারের একটি বড় অংশ তার নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল না। বরং বহুল আলোচিত এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির উল্লেখযোগ্য অংশ সাংস্কৃতিক ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, ১৯৫০ সালের গো-হত্যা সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ, মাদ্রাসা শিক্ষার বরাদ্দ হ্রাস ও কাঠামোয় পরিবর্তন, শিক্ষা ও ইতিহাসচর্চায় নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে ২০০ কোটি টাকার কর্মসূচি ও ১২৫ ফুটের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ, সোহরাওয়ার্দি া্যাভেনিউ-এর নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জি রোড  করা, ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ, জরুরি অবস্থার সময় মুচলেকা দেওয়া ৩২৫ জন আরএসএস কর্মীকে 'লোকতন্ত্র সেনানী' উপাধি প্রদান-এই পদক্ষেপগুলির অনেকগুলিই নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল না। কিন্তু সরকার গঠনের পর এগুলির বাস্তবায়নে তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই পদক্ষেপগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখলে তাদের তাৎপর্য সম্পূর্ণ বোঝা যাবে না। সীমান্ত, ইতিহাস, শিক্ষা, ধর্মীয় পরিচয়, জনপরিসরের নামকরণ— এই বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে পাশাপাশি রাখলে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আভাস পাওয়া যায়। প্রশ্নটি তাই শুধু কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলও তা নয়; কোন সিদ্ধান্তকে সরকার প্রথম ১০০ দিনেই অগ্রাধিকার দিল এবং কোন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে তার প্রশাসনিক শক্তি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলো—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকা, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণের প্রশ্নের পরিবর্তে হকার উচ্ছেদ, বুলডোজার অভিযান এবং গো-পালন ও ক্ষুদ্র জীবিকার সঙ্গে যুক্ত মানুষের উপার্জনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি মানুষের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
এই বিচারে প্রথম ১০০ দিনের পাল্লা উন্নয়ন ও জনজীবনের তাৎক্ষণিক সমস্যার চেয়ে সাংস্কৃতিক-পরিচয়ভিত্তিক পুনর্গঠনের দিকেই কিছুটা বেশি ভারী বলে মনে হয়। আর সেই রাজনৈতিক অভিমুখের সূচনাতেই নাগপুরের পাল্লা যে ভারী, তার ইঙ্গিতও যথেষ্ট স্পষ্ট।
নতুন আইন ও কিংবা আইনের সংশোধন প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। বরং নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে এবং বহু আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনে বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সংশোধনী আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, এগুলির উদ্দেশ্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর করা, আইন-শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা, দুর্নীতি ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলা। এই উদ্দেশ্যগুলির সঙ্গে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কারণ নেই। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও আইনকে তার ঘোষিত উদ্দেশ্য দিয়েই বিচার করা যায় না; দেখতে হয়, আইনটি বাস্তবে কোন ক্ষমতা কার হাতে দিচ্ছে, কোন ক্ষমতা কার কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে এবং নাগরিকের অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তার কিরূপ প্রভাব পড়বে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হলে নতুন আইন ও সংশোধনগুলি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পঞ্চায়েত আইন সংশোধন। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না; এটি ছিল গ্রামাঞ্চলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পৌছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। পরবর্তীকালে ৭৩তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাংবিধানিক মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হয়।
নতুন সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েত প্রধানের আর্থিক ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরকারি আধিকারিকের হাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি-এতে আর্থিক অনিয়ম কমবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা থাকলে তার প্রতিকার কি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা কমিয়ে আমলাতন্ত্রের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া, নাকি স্বচ্ছতা, সামাজিক নিরীক্ষা, অডিট ও নির্বাচিত সংস্থার জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী করা?
অন্য আইনগুলির ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রশ্ন উঠছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে রাষ্ট্রের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে তার অপব্যবহার রোধের নিশ্চয়তা কোথায়? অসামাজিক কার্যকলাপ দমনের প্রয়োজন থাকলেও 'অসামাজিক' বা 'জনশৃঙ্খলা' নির্ধারণের ক্ষমতা যদি প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে? একইভাবে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হলে তার সামাজিক ভিত্তি, তথ্য ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন জনসমক্ষে স্পষ্ট করা কি সরকারের দায়িত্ব নয়?
অতএব, প্রথম ১০০ দিনে আনা আইন ও সংশোধনগুলিকে শুধু সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসাবে দেখা যথেষ্ট নয়। এগুলির মধ্যে কোথাও রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোথাও নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, কোথাও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর পরিবর্তন, কোথাও নাগরিক জীবনের উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে খর্ব করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই কারণেই নতুন আইন বা সংশোধন কোনওভাবেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।
নির্বাচনের সময় দেয় প্রতিশ্রুতি এরমধ্যেই মিলিয়ে গেছে। ১০০ দিনের কাজের মূল্যায়ন করতে গেলে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি একবার মনে করা জরুরি। কারণ সরকারের কার্যকারিতা শুধু তার নতুন ঘোষণায় নয়, ভোটের সময় মানুষের কাছে দেওয়া ইশ্‌তেহারে কি বলা হয়েছিল কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে—তার মধ্য দিয়েও বিচার করতে হয়।
কৃষকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী কিষান নিধি প্রকল্পে প্রত্যেক কৃষককে বছরে ৯,০০০ টাকা দেওয়া এবং রাজ্যে চালু থাকা কৃষক ভাতা অব্যাহত রাখা। ধানের সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্টাল-পিছু ৩,১০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছিল। সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সুলভে দেওয়া, সেচ পাম্পের জ্বালানিতে বিশেষ ভরতুকি এবং ধান, আলু ও আম চাষে সরকারি সহায়তা ও ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির পরিধি ছিল আরও বিস্তৃত। মহিলাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে মাসে ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য 'দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড' গঠন এবং ৭৫ লক্ষ মহিলাকে 'লাখপতি দিদি' হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
যুবসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভরতার ব্যবস্থা। সেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বেকার যুবকদের মাসে ৩,০০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমায় পাঁচ বছর ছাড় এবং ইতিমধ্যে বিলুপ্ত শূন্য পদ পুনরায় ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছিল। প্রতিশ্রতির বহর এখানেই শেষ নয়।
এই প্রতিশ্রুতিগুলির সবকটি ১০০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে— এমন দাবি অবশ্যই করা যায় না। কিন্তু ১০০ দিনে সরকার কোন প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, কোনগুলির জন্য বাজেট বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা করেছে এবং কোনগুলি এখনও ঘোষণার স্তরেই রয়েছে—তার একটি প্রাথমিক হিসাব করলে দেখা যায় এই ১৪ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে কেবলমাত্র অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে সরকারের কিছুটা সক্রিয়তা দেখা গেছে। যদিও সরকারি পদক্ষেপ আশ্বাসন ও প্রাপ্তির সামঞ্জস্য রাখতে পারেনি যা কার্যত মহিলাদের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। অন্য ১৩ দফার কি হবে ভবিষ্যৎ বলবে।
জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন যদি ধীর হয়, অথচ নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে স্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার না পাওয়া দলীয় আদর্শিক কর্মসূচির বাস্তবায়নে সরকার দ্রুততা দেখায়, তাহলে সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকার কী ঘোষণা করেছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়া হয়েছিল, তার কতটা বাস্তবে মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
আলোচ্য সময়ে দেখা গেছে-কল্যাণ প্রকল্পের ঘোষণা আছে, সে কাজের জন্য বরাদ্দের ঘোষণাও আছে, কিন্তু বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ফারাকও দেখা যাচ্ছে। এক কোটির বেশি মহিলা এখনও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধার বাইরে; আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা বঙ্গবাসীর এ পর্যন্ত অধরা, বিপুল সংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গের সাফল্য উল্লেখযোগ্য নয়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও মনে রাখা দরকার। বেকার যুবকদের চাকরি না হওয়া পর্যন্ত মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতার নিশ্চয়তা এখনও বাস্তব রূপ পায়নি। রান্নার গ্যাসের দাম ৪৫০ টাকায় নামেনি, বিদ্যুৎ মাশুল কমেনি। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ’র প্রশ্নও নিষ্পত্তি হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রতিশ্রুতিগুলির ক্ষেত্রে ঘোষণার তুলনায় বাস্তবায়নের গতি এখনও অনেক পিছনে। অথচ যে 'কাটমানি' ও 'সিন্ডিকেট'-এর বিরুদ্ধে এতদিন তীব্র রাজনৈতিক প্রচার হয়েছে, তার সম্পূর্ণ অবসানের পরিবর্তে নতুন পরিচয়ে পুরানো প্রবণতাগুলির ফিরে আসার অভিযোগও উঠছে। মন্ত্রীদের কিছু বক্তব্যও পরিস্থিতিকে শান্ত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। প্রশাসনের ভাষা যদি নাগরিককে আশ্বস্ত করার বদলে বিভাজন ও সংঘাতকে তীব্র করে, তবে তার রাজনৈতিক অভিঘাতও উপেক্ষা করা যায় না।
এই ১০০ দিনে তাই একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়েছে। জনজীবনের মৌলিক সমস্যা-কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, সামাজিক নিরাপত্তা ও বকেয়া পাওনা— এসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তবায়ন নেই বলা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের গতি যথেষ্ট দ্রুত। পঞ্চায়েতে নির্বাচিত প্রতিনিধির ক্ষমতা সঙ্কুচিত করা, প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক রাজনীতিকে সামনে আনা এবং রাজস্ব আহরণের নতুন পথ খোঁজা-এসব পদক্ষেপ মিলিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অভিমুখ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হলো— এই সরকার কার জন্য, কোন উদ্দেশ্যে এবং কোন ধরনের রাজ্য গড়তে চাইছে? মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরকার, নাকি একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক অ্যা জেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার?
আগামী দিনগুলিতে ক্ষমতার কেন্দ্র দিল্লি, নাগপুরের রিমোট কন্ট্রোল এবং বাংলার মানুষের স্বার্থ— এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হয়, সেটিই দেখার বিষয়। আর গণতন্ত্রের জন্য আরও একটি উদ্বেগের বিষয়— আজকের বিধানসভায় কার্যকর বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি সরকারের জবাবদিহির সঙ্কটকে আরও গভীর করেছে। যারা আছেন, তাঁরা যদি স্বাধীনভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দিতে না পারেন, মানুষের কথা বলতে না পারেন, তাহলে সংখ্যার বিচারে বিরোধী দল থাকলেও গণতান্ত্রিক বিরোধিতার অর্থ থাকে না। যারা আছেন, তাঁদের দেখে মনে হয়-তাঁরা যেন সার্কাসের বাঘ। আর এই দৃশ্যের কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে রিং মাস্টারের।
Highlights
১০০ দিনেই  বৈপরীত্য স্পষ্ট । জনজীবনের  সমস্যা-কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, সামাজিক নিরাপত্তা এসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তবায়ন নেই । কিন্তু রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনে সরকারের গতি যথেষ্ট দ্রুত। সরকারের রাজনৈতিক অভিমুখ সম্পর্কেও  স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সরকার কোন ধরনের রাজ্য গড়তে চাইছে? মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরকার, নাকি  নির্দিষ্ট আদর্শিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার?

Comments :0

Login to leave a comment