Tarapith Fire

তারাপীঠে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

রাজ্য জেলা

রণদীপ মিত্র: তারাপীঠ
তারাপীঠের অগ্নিকান্ডে মৃত মেঘালয়ের পাঁচ ও আলিপুরদুয়ারের তিন রয়েছে আট ও দশ বছরের দুই শিশু। তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়। তারমধ্যে পাঁচজনই মেঘালয়ের। এই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে আট ও দশ বছরের দুই শিশু। বাকিরা আলিপুরদুয়ারের। মেঘালয়ের পাঁচজন হলেন রাজেন্দ্র নাথ, আশা নাথ, বুরন মোদক, শিবরাজ মোদক(১০) ও উশনাথ মোদক (৮)। আলিপুরদুয়ারের তিনজন হলেন কমল রায়, অমিত পাল ও সুবির সাহা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪৩ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ২৮ জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ। সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
মুনাফার লোভের কাছে ফিকে হয়েছে নীতি, নিয়ম, নিরাপত্তা। আজ সাড়ে-চারশো থেকে পাঁচশো হোটেল, লজ, অতিথিশালা রয়েছে তারাপীঠে। রয়েছে হাজারো দোকান। নেই শুধু পরিকল্পনা। তারাপাঠী মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জির কথায়, ‘‘তারাপীঠের এমন পরিস্থিতি একদিনে হয় নি। আমরা বহু বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি আগে। তবে এখনও সুযোগ আছে। তারাপীঠ ও তার হোটেলগুলির বৈদ্যতিক পরিকাঠামো, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, সামগ্রীক নিরাপত্তা সুপরিকল্পিত করার জন্য আমরাও সচেষ্ট। আমরা সর্বতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।’’  
দ্বারকা নদীর পাড় প্রায় গিলে খেয়েছে হোটেলের সারি। দ্বারকার বুক যেন আজ অবরুদ্ধ। শুধু দ্বারকা নয়, মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে জীবিতকুন্ডের ঘাট, মহাশ্মশান বাদ যায় নি কোনোটিই। তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি ‘ভিআইপি’ গেটও আছে। তারই ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে থাকা পূর্বসাগর মোড়ে পুকুর বুজিয়ে বেমালুম গজিয়ে উঠেছে বহুতল হোটেল ও দোকানপাট। গত পনেরো বছর আগে থেকে স্রেফ মুনাফার জন্য নিয়ম নীতিকে ফুৎকারে ওড়ানোর অভ্যাস ধীরে ধীরে জাঁকিয়ে বসছিল। তবে ‘তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ’ গঠনের পর তো তা বেলাগাম হয়েছ ওঠে। দমকলের ছাড়পত্র, পরিবেশের ছাড়পত্র কিংবা দমকলের লাইসেন্স যথাযথভাবে হাতে নিয়ে ক’টি হোটেল বা অতিথিশালা চলে তা নিয়ে রয়েছে বহু প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের অপরিকল্পিত বিন্যাস নিশ্চিতভাবেই আপদকালীন সময়ে বিপদের আশঙ্কা জিইয়ে রেখেছে। 
রাজ্যে পালাবাদলের পর টিআরডিএ’র দুর্নীতি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে নড়াচড়া ঠিকই। তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। তবে সোমবার তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নয় তরতাজা প্রাণের মৃত্যু দীর্ঘদিনের অভিযোগকেই মান্যতা দিয়েছে।  এদিকে সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগমের রীতি আছে এই সময়। তার আগে এই অগ্নিকান্ড নিশ্চিতভাবেই প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করেছে। ফলস্বরূপ অগ্নিকান্ডের পরই এদিন জেলাশাসকের তরফে একটিবিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাপীঠ ও সংলগ্ন এলাকার হোটেল, লজগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো এবং সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে দেখবে ওই কমিটি। রামপুরহাটের এসডিও ও এসডিপিও’র নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে গড়া সেই কমিটিকে আগামী পনেরো দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, ‘‘আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ঢল নামবে। তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কোনও প্রতিষ্ঠানে নিয়মের গাফিলতি বা ত্রুটি মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment