দুনিয়া বদলানোর দর্শনকে ব্যাখ্যা করেছিলেন জনতার কাছে। লিখেছেন একের পর এক বই। ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্মের। পরিব্রাজক হয়ে তুলে এনেছেন প্রাচীন পুঁথি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছেন সভ্যতার গতিপথকে। সেই রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তিই লোপাট হয়েছে।
রানিগঞ্জ মোড়ে পূর্ণাবয়ব মূর্তি ভাঙা ও নিশ্চিহ্ন করার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রানিগঞ্জ কয়লা শ্রমিক ভবনে গণ কনভেনশন হয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্ত দোষীদের শাস্তি এবং রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি পুনস্থাপনের দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ ও জনবাদী লেখক সংঘরানিগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটি এই কনভেনশনের আয়োজন করে। রানিগঞ্জের নাগরিক সমাজ, সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকরা মনীষীদের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে কনভেনশনে বলেন, মহাপণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন ভারতীয় জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতির জগতে এক অনন্যসাধারণ মনীষী। ভবিষ্যতে অন্যান্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মারকের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতে পারে।
গত ১২ জুলাই রানিগঞ্জ মোড়ে গভীর রাতে রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি দুষ্কৃতীরা লোপাট করে দেয়। এদিন কনভেনশনে প্রস্তাব উত্থাপন করেন অভিজিৎ খাঁ। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাহুল সাংকৃত্যায়নের বহুমাত্রিক জীবন ও চিন্তা ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রগতিশীল ঐতিহ্যের অংশ। তাঁর স্মৃতি কেবল কোনও ব্যক্তি বা সাহিত্যিকের স্মৃতি নয়; তা যুক্তিবাদ, অনুসন্ধিৎসা, জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার।
কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিধায়ক রুনু দত্ত, অনুপ মিত্র, সুপ্রিয় রায়, বীরযু যাদব, সঞ্জয় প্রামাণিক, হেমন্ত প্রামাণিক, কৃষ্ণা দাশগুপ্ত, এন কে সিনহা, অনুপ বাউরি, গৌরব ধল্ল প্রমুখ। এদিন কনভেনশন থেকে ২৯ জনের পৃষ্টপোষক ও ১৪১ জনের কমিটি গঠন করা হয়। ফাল্গুনী চ্যাটার্জ কে সম্পাদক, দুলাল কর্মকারকে সভাপতি ও মনোজিত বোসকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়।
Rahul Sankritayan
ফের গড়তে হবে রাহুল সাংকৃতায়নের মূর্তি, দাবি রানিগঞ্জের কনভেনশনে
রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তি লোপাটের প্রতিবাদে ও মূর্তি পুনস্থাপনের দাবিতে রানিগঞ্জে গণকনভেনশনের একাংশ।
×
Comments :0