SRFTI

এসআরএফটিআই কাণ্ডে ৩ এফআইআর, ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা থেকে বিরত থাকুন, বলল বামফ্রন্ট

রাজ্য কলকাতা

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-র ঘটনা ঘিরে তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে সোমবার। 
এদিকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানালো বামফ্রন্ট।
গত রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের হল ঘটে একটি সভাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। আহত হয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৩০ ছাত্রছাত্রী। 
বামফ্রন্ট বলেছে, রবিবার ছুটির দিন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি সভাকে ঘিরে যে ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেছে, বামফ্রন্ট তার তীব্র নিন্দা করছে। পূর্ব ভারতের খ্যাতনামা এই প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষালাভের জন্য আসেন। তাদের সকলের কাছেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনা পশ্চিমবাংলার ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে।
বামফ্রন্ট বলেছে, শিক্ষার অঙ্গনকে কলুষিত করার অধিকার কোনও সংগঠনের থাকা উচিৎ নয়। 
রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে বামফ্রন্ট বলেছে, এই ব্যাপারে যত্নশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রবিবার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা জানান যে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের এই কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। ইট, লাঠি এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। লাইব্রেরিতে পর্যন্ত ঢুকে পড়ে চলেছে হামলা। প্র্যাকটিক্যাল করছিলেন যে ছাত্রছাত্রীরা, তাঁরাও আক্রান্ত হয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের ‘দেশদ্রোহী‘, ‘ককরোচ’ বলা হয়েছে। 
হামলার খবর পেয়ে দ্রুত সব ছাত্রছাত্রীরা ছুটে আসেন। তাঁদের প্রতিরোধে পিছু হটেছে এই বাহিনী।
এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় হামলা চালাতে দেখা গিয়েছে বিজেপি এবং এবিভিপি-কে।
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন যে অখিল ভারতীয় গ্রাহ পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচির জন্য হল দেয় কর্তৃপক্ষ। এই কর্মসূচির সঙ্গে ফিল্ম বা টেলিভিশনের কোনও সম্পর্ক নেই। ছাত্র সংসদকে জানানো হয়নি। এর আগেও একবার কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনও বিরোধিতা করা হয়েছিল। 
তাই রবিবার দুপুরে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা পোস্টার সাঁটছিলেন। প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের। তখনই হয় আক্রমণ। তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এই বাহিনী। পরে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিরোধে নামেন।
রাত পর্যন্ত গেটের বাইরে বহিরাগতদের ভিড় ছিল। এদিকে সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, একটি এফআইআর পুলিশ নিজে দায়ের করেছে। আরেকটি দায়ের হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ডিন সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগে বলেছেন যে বহিরাগতরা জোর করে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের বাধা দিয়েছে। তাদের আক্রমণে আহত হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রীদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়।
তৃতীয় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত নামে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে। এই সংগঠন ছাত্রছাত্রীদের দায়ী করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment