Editorial

আমেরিকায় শি

সম্পাদকীয় বিভাগ

১১ বছর পর আমেরিকায় সফরে গিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙ এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ব পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য যেমন বদলেছে তেমনি বদলেছে আঞ্চলিক ভারসাম্যও। এমনকি এই সময়ে আমেরিকা-চীনের সম্পর্কের মধ্যেও অনেক টালমাটাল অবস্থা গেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী হুমকির জেরে নানা জায়গায় যেসব সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠেছে তাকে ঘিরেও চীনের সঙ্গে মতবিরোধ জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজত্বের প্রথম পর্বের পুরোটা জুড়ে এবং দ্বিতীয় পর্বের বৎসরাধিকাল চীনের সঙ্গে কার্যত সংঘাত ও শত্রুতার সম্পর্কই বজায় রেখেছে আমেরিকা। তার জেরে ভুগতে হচ্ছে অপরাপর দেশগুলিকেও।
অতি দক্ষিণপন্থী এবং অতি জাতীয়তাবাদী ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেন’ নীতির বেপরোয়া প্রয়োগের ফলে গোটা বিশ্বের বাণিজ্য শৃঙ্খল নড়বড় হয়ে গেছে, মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। অথচ আমেরিকার নিজের অর্থনীতিও কার্যত থমকে গেছে। ফলে বিভিন্ন দেশ যেমন ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনায় বিরক্ত তেমনি মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প বিরোধিতার পরিসর দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বিশ্বের সব দেশেরই অর্থনীতিকে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়িয়েছে। এমন এক প্রেক্ষাপটেই চীনের রাষ্ট্রপতির আমেরিকা সফর। অবশ্য কয়েক মাস আগে এ বছরই ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার বুসন শহরে বৈঠক করেছিলেন‍‌ শি-র সাথে। বস্তুত ট্রাম্পের তৈরি শুল্ক যুদ্ধ যখন বুমেরাং হয়ে আমেরিকার দিকেই ফিরে আসতে শুরু করেছে তখন একরকম বাধ্য হয়েই তিনি চীনের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে এসেছিলেন। সেই বৈঠকের পর ট্রাম্প নতুন করে বেচাল কিছু করেননি। শুল্ক নিয়ে বেশি হম্বিতম্বি করেননি। ট্রাম্পের এমন বদলে যাওয়া মনোভাবই সম্ভবত শি-র আমেরিকার সফর নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনের দাপটে চীনের পণ্যে যখন ১৪৫ শতাংশ শুল্ক চাপে তখন চীনও পালটা বিরল খনিজ রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। তাতে সবচেয়ে বিপদে পড়ে আমেরিকা। বস্তুত চীনের বিরল খনিজ নির্ভর যন্ত্রাংশ ছাড়া আমেরিকার অধিকাংশ কারখানা অচল। শেষে খাদে ট্রাম্প শি-র সঙ্গে চুক্তি করে আপাত শুল্ক যুদ্ধ স্থগিত করেন। আমেরিকা বুঝে গেছে শত্রুতা করে এগনো কঠিন। আগের পৃথিবী এখন নেই। নেই আগের আমেরিকাও। চীন সহ নতুন শক্তি উত্থান ঘটছে। আমেরিকার নেতৃত্বে এক মেরু বিশ্বের ভাবনা এখন অবাস্তব।
এমন আবহেই আমেরিকায় শি-কে নজিরবিহীন অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। প্রচলিত রীতি ভেঙে সস্ত্রীক ট্রাম্প ছুটে গেছেন বিমানবন্দরে। পাশাপাশি শি বার্তা দিয়েছেন দু’দেশের মধ্যে শত্রুতা ও সংঘাতের বদলে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার সম্পর্ক কাম্য। সেটা দু’দেশের সঙ্গে সারা বিশ্বেরও মঙ্গল। তা না হলে দু’দেশেরই অগ্রগতি ব্যাহত হবে। ক্ষতি হবে অন্যান্য দেশের। এই সত্যটা ট্রাম্পের তথা আমেরিকার মগজে ঢুকলে হয়।

Comments :0

Login to leave a comment