Medinipur BJP Inner Party Clash

মেদিনীপুরে বিজেপি’র আদি-নব্য সংঘর্ষে মৃত ১, আশঙ্কাজনক ৩, আহত ৩০

রাজ্য জেলা

মেদিনীপুর ব্লকে বিজেপি’র দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ভয়াবহ ছবি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে।

গ্রাম দখলের রাজনীতিতে বিজেপি’র দুই গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ালো মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহল্কা গ্রামে। রড লাঠি, টাঙ্গি তলোয়ার নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ চালালো। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে নির্মম আক্রমণের দৃশ্য। গোষ্ঠী সংঘর্ষে সামশের বিশ্বাস (৩০) নামে একজনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে তাঁকে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। 
গোষ্ঠী সংঘর্ষে আহত হয়েছে অনেকেই। সংখ্যাটা ৩০ ছাড়িয়ে। তাঁদের মধ্যে ৩জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে। এদের একজন তাজু খান (৪৮)-কে লাইফ সাপোর্টে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। আশঙ্কা, তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনিক কোনও বিবৃতি যদিও মেলেনি।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাঁচখুরি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাতিহল্কা গ্রামে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। তৃণমূল থেকে আসা ‘নব্য’ বনাম ‘আদি’ বিজেপি-র গ্রাম দখলের জেরে এই সংঘর্ষ বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসন রাত পর্যন্ত একজনকেও আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।  
এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা, চন্দ্রকোনা রোড, শালবনীতে সিপিআই(এম)’র দপ্তর সহ নেতা-কর্মীদের ঘর বাড়ি ভাঙচুর লুঠ চালিয়েছে বিজেপি। প্রতিরোধের জেরে বিজেপি পিছু হঠে। এরপর পুলিশকে দিয়ে সাজানো মামলায় সিপিআই(এম)’র ১৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরা হয়েছে। 
এদিনের ঘটনার ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে থেকে।
শুক্রবারই বিজেপি’র নতুন জেলা সভাপতির দায়িত্বে সৌমেন তিওয়ারির নাম ঘোষণা করা হয়। এর পরই সন্ধ্যা থেকেই হাতিহল্কা, রাজারবাগান, ছেড়ুয়া, বিশ্রীপাঠ, রামনগর, হরিশপুর এমন কয়েকটি মৌজায় ‘নব্য’ বিজেপি মিছিল বের করে। ঘোষণা করা হয় তারাই এখন নতুন গ্রাম কমিটি সহ বিজেপির কর্মকর্তা নির্বাচন করবে। সেই প্রক্রিয়া শনিবার সকালে হাতিহল্কাতে শুরু হয়। এদের নেতা হিসাবে উঠে আসে এই বিধানসভা নির্বাচনে  হেরে যাওয়া বিজেপি প্রার্থী তপন ভূঁইয়া সহ নব্য বিজেপি গোষ্ঠীর মাথা হাতিহল্কার তাজনাল মন্ডল, রাজারবাগান গ্রামের সের খান, হরিশপুরের অঞ্জন চক্রবর্তীর নাম।
বিজেপি’র পালটা গোষ্ঠীর নেতা অজয় জানার দলবল এই নতুন গ্রাম কমিটি গঠনে বাধা দেয়। তা থেকেই শুরু হয় লড়াই। টাঙ্গির আঘাতে বুক ফালি হয়ে অজয় জানার অনুগামী জাফর বিশ্বাসের ভাগ্নে সামশের বিশ্বাসের। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এরপরই এমন গ্রামগুলিতে খণ্ডযুদ্ধ সহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মেদিনীপুর হাসপাতালে আনার পর বহু বিজেপি কর্মী ভিড় জমায়। দাবি,  দুষ্কৃতিদের গ্রেপ্তার না করলে মৃতদেহ তারা নিয়ে যাবে না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

Comments :0

Login to leave a comment