কৃষকসভার নেতৃত্বে শনিবার ঘোকসাডাঙা থানা লালপতাকা হাতে ঘেরাও করল গ্রামের সাধারণ মানুষ। থানার সামনে দাবি উঠলো পরিযায়ী শ্রমিক প্রশীতের ওপর হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।
মব লিঞ্চিং করে প্রতিবাদী যুবককে বাড়ি থেকে টেনে বের করে হাত-পা বেঁধে মারধর করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ করার ১২ দিন পরেও পুলিশ অভিযুক্তদের একজন বাদে কাউকেই গ্রেপ্তার করে নি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে নিয়ে এদিন বিকেলে ঘোকসাডাঙা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়ে স্মারকলিপি দিল সারা ভারত কৃষকসভা।
উল্লেখ্য, ১৫ ই সেপ্টেম্বর চুরির গুজব ছড়িয়ে মাথাভাঙা-২ ব্লকের দক্ষিণ সিঙ্গিজানির চরপাড়ায় বাড়ি টেনে বের করে হাত- পা বেঁধে পরিযায়ী শ্রমিক প্রশীত বর্মনকে মব লিঞ্চিং করা হয়েছিল।
পুলিশ এসে উদ্ধার না করলে সেই রাতেই মৃত্যু হত প্রশীতের। এরপর ঘোকসাডাঙায় থানায় এফআইআর হয়েছিল পরিবারের পক্ষ থেকে।অভিযোগ করার পর একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অজ্ঞাত কারণে বাকি অভিযুক্তরা কেন অধরা শনিবার ঘোকসাডাঙা থানা ঘেরাও করে পুলিশের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে সে প্রশ্ন তোলেন কৃষকসভার প্রতিনিধিরা।
এদিন কৃষকসভার জেলা সম্পাদক আকিক হাসান প্রশ্ন তোলেন গুরুতর জখম প্রশীতকে সেদিন রাতেই কোচবিহার মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলেও রহস্যজনক ভাবে প্রশীত পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ২২ শে সেপ্টেম্বর ছুটি দিয়ে দেয়।ওর পরিবার এবং আমরা মনে করছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই প্রশীতকে সুস্থ হবার আগেই ছুটি দিয়ে দিয়েছে।বাড়ি ফিরে প্রশীত এখনও বিছানা থেকে উঠতে পারছে না।সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
এদিন, সংগঠনের নেতৃত্ব মকসেদুল ইসলাম বলেন, প্রশীতকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে হাত পা বেঁধে মারা হয়েছে। কেটে যাওয়া জায়গায় লবন, লংকার গুঁড়ো মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন তিনি প্রশ্ন তুলেছেন একজন পরিযায়ী শ্রমিক যে আগের দিন ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছে তাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মব লিঞ্চিং করে খুনের চেষ্টা করার ঘটনা ঘটলো। তবুও এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক আক্রান্তের বাড়িতে এলেন না! তবে কি যারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে তারা এলাকায় শাসক দলের কাছের লোক বলেই মন্ত্রী নিশ্চুপ! পুলিশও কি সেই কারণেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে ভয় পাচ্ছে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কি তাই গুরুতর জখম প্রশীত সুস্থ হবার আগেই তডিঘড়ি ছুটি দিয়ে দিল?
এদিন কৃষক সভার প্রতিনিধি দল পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর সঞ্জীব দত্ত। তিনি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি মেনে নিলে এদিনের মত বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। কৃষকসভার পক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে পুলিশ প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ফের লালঝান্ডার মিছিল ঘেরাও করবে থানা। স্মারকলিপি দিতে কৃষকসভার প্রতিনিধি দলে ছিলেন, আকিক হাসান, মকসেদুল ইসলাম, প্রসেনজিৎ সরকার, খগেন বর্মন প্রমুখ নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের জেলা সম্পাদক সুবোধ চক্রবর্তী।
Migrant Worker Murdered
পরিযায়ী শ্রমিক খুন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঘোকসাডাঙা থানা ঘেরাও
×
Comments :0