editorial

অন্নপূর্ণা প্রতারণা

সম্পাদকীয় বিভাগ

কথা ছিল যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রক‍‌ল্পে তৃণমূল জমানায় প্রতি মাসে টাকা পেতেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে তারা সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন। ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু সহ বিজেপি’র নেতারা সোচ্চারে এমনটাই ঘোষণা করে‍‌ছিলেন। এমনকি তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বেমালুম সে সব কথা ভুলে গিয়েছে নেতারা। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেত সেই সংখ্যা তো অনেক দূরের কথা, নতুন সরকারের দাবি অনুযায়ী যে এক কোটি ৮০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছেন তাদের একটা বিরাট অংশ টাকা পাননি। আবার দেখা যাচ্ছে একবার যারা টাকা পেয়েছেন তাদের অনেকেরই আর টাকা আসছে না। একটা নীতিহীন অপদার্থ সরকারের অযোগ্য পরিচালনায় প্রকল্প নিয়ে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। আজ পর্যন্ত সঠিকভাবে কেউ জানতে পারেনি টাকা পাবার যোগ্য হতে গেলে ঠিক কি কি শর্ত পূরণ করতে হবে। গোটা বিষয়টাকেই চরম অস্বচ্ছতার আড়ালে ঢেকে রেখে মানুষকে বিভ্রান্ত ও নাজেহাল করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একরকম কথা বলা হচ্ছে। জেলায় জেলায় অন্যরকম সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা বা শর্তাবলী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদন জমার পর বলা হচ্ছে ঠিক ঠিক আবেদন হয়নি বা নথি জমা দেওয়া হয়নি। কিন্তু কোনটা যে ঠিক নথি তা রয়েছে ধোঁয়াশার আড়ালে।
এমনই প্রশাসনিক অপদার্থতা যে প্রথমে টাকা দিয়ে পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ নতুন করে আবেদন করছেন। কেউ কেউ বার বার আবেদন করেও বুঝতে বা জানতে পাচ্ছে না কেন তিনি পাচ্ছেন না। সরকারও খোলসা করে কিছু বলছে না। কখনও বলছে যারা অযোগ্য তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। বারবার যাচাই করার ফলে একবার টাকা পেয়েও পরে পাচ্ছেন না। ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া সকলকে অন্নপূর্ণায় টাকা দেওয়া হবে বললেও ভোটের পর নানা শর্ত যোগ করা হয়েছে। এবং বারবার শর্ত বদল ও বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের আসল লক্ষ্য এই খাতে ব্যয় কমানো। তাই নানা কৌশলে, নানা অজুহাতে, নানা কুযুক্তিতে ক্রমাগত নাম ছাঁটাই চলছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের ক্ষেত্রে যে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে সর্বাধিক নাম বাদ গেছে তেমনি অন্নপূর্ণার ক্ষেত্রেও সর্বাধিক বাদ যাচ্ছে মুসলিম মহিলারা। এভাবে ধাপে ধাপে কমাতে কমাতে প্রাপকের সংখ্যা কয়েক লক্ষে নামিয়ে আনলেও আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না। কারণ ডাবল ইঞ্জিনের  রাজ্যে এমন দৃষ্টান্ত ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ২০২৪ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পে সব মহিলাকে মাসে মাসে টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট কিনেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এসে আড়াই কোটির বেশি মহিলাকে টাকা দিলেও দু’বছরের মধ্যে এক কোটি নাম ছাঁটাই হয়ে গেছে। একই ঘটনা ঘটেছে মধ্য প্রদেশেও। ভোটের আগে বিজেপি এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দেয়। টাকার লোভ দে‍‌খিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে। ভোট হয়ে গেলে ভুলতে শুরু করে। মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা, প্রতারণা করাই এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

Comments :0

Login to leave a comment