Corporation Coordinator Md Salim

কোঅর্ডিনেটর দিয়ে কর্পোরেশন ‘চোরপোরেশন’ হয়েছিল, শুভেন্দুর মন্তব্যে বললেন সেলিম

রাজ্য কলকাতা

নির্বাচনের বদলে পছন্দ মতো কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করে কর্পোরেশন চালালে আসলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণ করা হয়। কোঅর্ডিনেটর দিয়ে কর্পোরেশন চালানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোঅর্ডিনেটর নিয়োগের পরিকল্পনা শুনিয়েছেন। অধিকারী বলেছেন, ‘‘যদি পৌর নির্বাচন কোনও কারণে আটকে যায়, তার জন্য সরকারের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।"
কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া ঘিরে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, "আপনারা যদি নির্বাচন হতে না দেন, তবে আমাদের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা আছে।" শুভেন্দু জানিয়েছেন যে, ৩০ নভেম্বরের পর কেএমসি-র প্রস্তাবিত ২০৯টি ওয়ার্ডেই তিনি সমন্বয়কারী বা কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করবেন।
কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস যেভাবে হয়েছে তা অবৈজ্ঞানিক, প্রশাসনিক স্তরে বৈঠকে এই অভিযোগে সরব হয়েছে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীরা। বামপন্থীরা বলেছেন, কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক প্রশ্নের জবাবই দেননি। 
এদিকে পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগে দায়ের মামলায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে নির্বাচনে কোনও স্থগিতাদেশই জারি হয়নি।  
শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই কোঅর্ডিনেটররা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন পৌর পরিষেবার ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাবেন।
তাঁর কথায়, "প্রতিদিন তদারকি করবে কে? দৈনন্দিন নজরদারির জন্য তো কাউন্সিলর প্রয়োজন। আপনারা যদি নির্বাচন হতে না দেন, তবে আমাদের কাছে বিকল্প আছে। আমরা কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করব এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষেবা সচল রাখা নিশ্চিত করব।"
এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘‘এ রাজ্যে বাহাত্তর সালে রিগিং করে ভোটে জিতে কংগ্রেস কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করেছিল। আঠারো বছর কোনও ভোট হয়নি। পাড়ার গুণ্ডা মস্তানদের কোঅর্ডিনেটর করে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা কর্পোরেশনের নাম হয়েছিল চোরপোরেশন। তাকে ফের কর্পোরেশনে ফিরিয়ে এনেছিল বামফ্রন্ট সরকার।’’ তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত বা পৌরসভা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হোয়া উচিত।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘সাতাত্তর সালে বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার পর আইন করে পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার ক্ষমতা নির্দিষ্ট করা হয়। নিয়মিত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।’’ 

Comments :0

Login to leave a comment