Tea Garden Workers Dooars

উৎসবের আলোয় আঁধার, দু’বেলা ভাতের সংস্থানই চ্যালেঞ্জ ডুয়ার্সের প্রায় চার হাজার শ্রমিকের

জেলা

পুজোর আর হাতে গোনা কয়েক দিন। শহর-গ্রামজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন ডুয়ার্সের বন্ধ চা বাগান গুলিতে উৎসবের আলো পৌঁছাচ্ছে না। নাগরাকাটা বিধানসভার রেডব্যাক, সুরেন্দ্রনগর, আমবাড়ি এবং চামুর্চি একাধিক চা বাগানে কাজ নেই, নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ। বাগান খোলার দাবিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পাশাপাশি সংসার চালাতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও থামছে না। প্রায় চার হাজার শ্রমিক পরিবারের কাছে তাই পুজোর আনন্দের চেয়ে দু’বেলা খাবারের চিন্তাই বড় হয়ে উঠেছে।
গত বছরের পুজোর মুখে বোনাসকে কেন্দ্র করে বন্ধ চামুর্চি চা বাগান হয়ে যায়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্যাক্টরির তালা খোলেনি। শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক হলেও মালিক পক্ষের অনুপস্থিতি ও অনীহার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের বক্তব্য সরকারি মাসিক অনুদান কিছুটা চালু হলেও তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সকলেই বাগান খোলার দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দরবার করছেন।
রেডব্যাক ও সুরেন্দ্রনগরের ছবিও একই। আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধের বিজ্ঞপ্তি না থাকলেও মালিক-পরিত্যক্ত অবস্থায় রেডব্যাঙ্ক চা বাগান পড়ে রয়েছে। কাজের সন্ধানে শ্রমিকদের বড় অংশকে অন্য বাগানে অস্থায়ী কাজ কিংবা দিনমজুরির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শীতের মরশুমে সেই কাজও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে।
শ্রমিক চামেলী মুণ্ডা বলেন, ‘‘এখনই বাগান খোলার ব্যবস্থা না হলে বেঁচে থাকা চা গাছ গুলিও নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা আর কতদিন এভাবে এখানে-সেখানে কাজ খুঁজে সংসার চালাব?’’ প্রবীণ শ্রমিক মোহন খালকো বলেন,‘‘২০০৩ সাল থেকে রেডব্যাক ও সুরেন্দ্রনগরে খোলা-বন্ধের সাপলুডো চলছে। পুরনো কিংবা নতুন—কোনও প্রজন্মই সুদিন দেখতে পারছে না।’’
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে আমবাড়ি চা বাগান বন্ধ হয়েছে। শ্রম দপ্তর পরপর বৈঠক করলেও এখনও সমাধান হয়নি। মালিকপক্ষ পুজোর পর বাগান খোলার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেলেও শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে বাগান চালু করতে হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের সংসারে ইতিমধ্যেই নেমেছে তীব্র অনটন।
এরই মধ্যে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে পুজোর বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার জন্য শ্রম দপ্তর অ্যাডভাইজারি জারি করেছে। কিন্তু বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের কাছে বোনাস এখন কার্যত দূরের বিষয়। কাজই নেই, নিয়মিত মজুরি নেই—ফলে পুজোর কেনাকাটা তো দূরের কথা, প্রতিদিনের খাবারের সংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎসবের আলো যখন ডুয়ার্সের অন্যত্র ঝলমল করছে, তখন বন্ধ চা বাগান গুলিতে ঝুলছে তালা আর শ্রমিক পরিবারের ঘরে জমছে অনিশ্চয়তার অন্ধকার।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের নেতা সিকান্দার মাঝি বলেন, ‘‘বাগান বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের জীবনে চরম দুর্দশা নেমে এসেছে। পুজোর আগে বকেয়া মজুরি ও বোনাস মিটিয়ে অবিলম্বে বাগানগুলি চালুর জন্য আমরা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় শ্রমিকদের বাঁচাতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

Comments :0

Login to leave a comment