Editorial

কমিশনের গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে

সম্পাদকীয় বিভাগ

সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী দলগুলি, কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি একবাক্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ অথবা অপসারণের দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে দেশজুড়ে জোরালো আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিরোধীরা। বামপন্থীরা ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে ঘিরে দেশ দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যারা সেই ককরোচ পার্টি জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। এর মধ্যে যদি পদত্যাগ না করে আবার জেন-জিরা রাস্তায় নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞানেশ অপসারণে সংসদে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সম্মিলিত বিরোধীরা।
ইন্ডিয়ান এক্স‍‌প্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত তদন্তমূলক সংবাদ জলের মতো পরিষ্কার করে দিয়েছে যে মোদী-শাহ’র অতি ঘনিষ্ঠ জ্ঞানেশ বিধিসম্মতভাবে এবং আইনিভাবে কাজ করেননি। একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (নির্বাচন কমিশন) প্রধান হিসাবে সংবিধানের নির্দেশকে অস্বীকার করে নিজের পছন্দ মতো স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি অপর দুই কমিশনের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের না জানিয়ে এককভাবে নির্দেশ জারি করেছেন। অর্থাৎ সংবিধান প্রদত্ত বিপুল ক্ষমতা নিয়ে তিনি সংবিধানকেই অস্বীকার করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে কার্যত ব্যক্তিগত জমিদারি বিবেচনা করে তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা গুরুতর ও ভয়ঙ্কর অপরাধ। এর সাজা তাকে পেতেই হবে। নিছক পদত্যাগের মধ্যে এই পর্ব সীমাবদ্ধ থাকবে না।
জ্ঞানেশ যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যে পরিচালন পদ্ধতি চালু করেছেন সেটা যে আসলে শাসক বিজেপি’র নির্বাচনী স্বার্থকে মাথায় রেখে করেছেন তাতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। ফলত তার জমানায় বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপি জয় দৃষ্টিকটুভাবে মানুষের চোখে ধরা পড়েছে। জ্ঞানেশের মাথায় কার হাত ছিল এবং কাদের নির্দেশে তিনি এসব কাজ করেছেন সেটা প্রকাশ্যে আনা। তা না হলে নির্বাচনকে ঘিরে যে অবিশ্বাস, অনাস্থা, অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তার মূল উৎপাটন করা যাবে না।
সংবিধান সকল ভারতবাসীকে ভোটাধিকার দিয়েছে। এটা প্রত্যেক ভারতীয় মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নেই সেই অধিকার কেড়ে নেবার। জ্ঞানেশ কমিশন সেটা করেছে। কোনও ভোটার অবৈধ না বৈধ সেটা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবার আগে কোনও ভোটারকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার অধিকার কমিশনের নেই। জ্ঞানেশ সেই অধিকারের সীমা অতিক্রম করেছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১৮ উত্তীর্ণ ছেলেমেয়েদের প্রতি বছর নাম তোলার ব্যবস্থা আছে। সেই ব্যবস্থা স্থগিত রেখে জেন জি-দের একটা বড় অংশকে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করা অপরাধ। জ্ঞানেশ সেই অপরাধ করেছেন। তাছাড়া সংবিধান মতে ‍‌তিন কমিশনারেরই ক্ষমতা সমান। বিরোধ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই গ্রাহ্য। এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বীকৃত। কিন্তু জ্ঞানেশ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে অগ্রাহ্য করে নিজের সংখ্যালঘু মতকে চাপিয়ে দিয়েছেন এটাও গুরুতর সংবিধান অবমাননা। মোদী জমানায় ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়েছে বলেই জ্ঞানেশ এভাবে বিনাবাধায় স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পেরেছেন।
 

Comments :0

Login to leave a comment