MUKTADHARA | PROBANDHA | BAPU | PURBAYAN MAYRA | 1 OCTOBER 2026 | 4th YEAR

মুক্তধারা | প্রবন্ধ | বাপু | পূর্বায়ন ময়রা | ১ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MUKTADHARA  PROBANDHA  BAPU  PURBAYAN MAYRA  1 OCTOBER 2026  4th YEAR

মুক্তধারা

প্রবন্ধ 

   বাপু 

  

  পূর্বায়ন ময়রা

১ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

 

        ১৯১৪ সাল,ভারতবর্ষে তখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। উপনিবেশিক শাসনের করাল রুপে অতিষ্ট সিংহভাগ ভারতবাসী।  উপনিবেশিক শক্তিকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা অত্যন্ত আবশ্যক কিন্তু রাজশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম কোন পথে পরিচালিত হবে? নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে কোন পথ অবলম্বন করবে ভারতবাসী ? সেই পথ প্রদর্শন করতে অনতিবিলম্বে ভারতবর্ষের পবিত্র মাটিতে পদার্পণ করবেন এক শান্তির দূত। সংঘবদ্ধ  করবেন ভারতবাসীকে, তাদের শান্তি এবং অহিংসার পথে অগ্রসর হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্ন দেখতে শেখাবেন সেই আপাত সাধারণ দর্শন মহামানব মহাত্মা গান্ধী। অত্যন্ত সাধারণ পোশাক, আর পাঁচজন সাধারন মানুষের মত জীবন যাপন অথচ তিনিই অহিংসার মন্ত্রকে পাথেয় করে বারংবার শক্তিশালী  ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।  

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এই সুবর্ণ অধ্যায়ের সূত্রপাত হয় ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২ অক্টোবর। পিতা করমচাঁদ গান্ধী ও মাতা পুতলীবাঈ এর কোল আলো করে গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী । তাঁর মাতা ছিলেন অত্যন্ত ভক্তিমতী নারী। তাঁর মাতার ভক্তির আদর্শ পরবর্তী জীবনে তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামে অহিংসার পথ অবলম্বন করার অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করে। ১৮৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে যান মহাত্মা গান্ধী। ১৮৯৩ সালে একটি আইনি মামলার সূত্রে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। আর এই ঘটনাই পরিবর্তন করে তাঁর জীবন। এখান থেকেই সূত্রপাত ঘটে মহাজীবনের সূচনার। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ এবং ভারতীয়দের ওপর নির্যাতন দেখে তিনি আন্দোলন শুরু করেন। তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের অধিকার রক্ষার জন্য উৎগ্ৰীব হয়ে উঠলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি নাটাল ইন্ডিয়া কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দীর্ঘকাল বিদেশের মাটিতে অতিবাহিত করে ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি নিজের মাতৃভূমির মাটিতে পদার্পণ করলেন তিনি। শুরু হলো এক নতুন লড়াই, এক নতুন পথচলা। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের যোগ দেন এবং সারা দেশ ঘুড়ে সাধারণ মানুষের সাথে পরিচিত হতে শুরু করেন। যতবার  উপনিবেশিক শাসক শ্রেণীর অত্যাচার তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন ততবার প্রতিপাদে সরব হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ১৯১৭ সালে সংঘটিত বিহারের চম্পারন  আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি এরপর ১৯২১ সালে তিনি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। তিনি দেশের মানুষকে বিদেশি পন্য বয়কট করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানান। এরপর ভারতবর্ষে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। তখন ১৯৩০ সাল, ব্রিটিশ সরকারের লবণকরের বিরুদ্ধে সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি উপকূল পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মহাত্মা গান্ধী। এই দূরত্ব কিন্তু মোটেও ছেলে খেলা নয়। সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্টি উপকূলের দূরত্ব ২৪০ মাইল। কেবলমাত্র দেশ তথা দেশের মানুষের জন্য অপরিসীম একাত্মবোধ থাকলেই এমনটা করা সম্ভব। এরপর ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তিনি চূড়ান্তভাবে বিদ্রোহ সংঘটিত করেন। এই বছর তিনি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁর জীবন সত্যিই শত শতবর্ষব্যাপী আপামর ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ স্বরূপ। কেবলমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় তিনি আদর্শ স্থাপন করেছেন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে। তিনি অস্পৃশ্যতায় বিশ্বাস করতেন না। তিনি হিন্দু মুসলিম ঐক্য,  নারীর অধিকার এবং খাদি ও কুটির শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দেন।১৯৩৩ সালে মহাত্মা গান্ধী দলিত বা অস্পৃশ্য বলে তৎকালীন সমাজের দ্বারা  অবহেলিত মানুষদের হরিজন নাম দেন। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে এবং হরিজন আন্দোলনের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ১৯৩৩ সালে তিনি হরিজন নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করা শুরু করেন । এই পত্রিকায় তিনি অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে তীব্র লেখালেখি করতেন। একই জীবনে তিনি সমাজ বদলের অঙ্গীকার নিয়ে নিরন্তর কাজ করে গেছেন। অবশেষে ১৯৪৮ সালের ৩০ শে জানুয়ারি নতুন দিল্লিতে নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন তিনি। স্বাধীন ভারতবর্ষের মাটিতে মৃত্যুবরণ করেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা মহাত্মা গান্ধী।

দ্বাদশ শ্রেণী 
কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগণা

Comments :0

Login to leave a comment