শঙ্কর ঘোষাল : বর্ধমান
ধর্মকে বর্ম হিসাবে ব্যবহার করে সংবিধান, গণতন্ত্র, মতাদর্শের উপর আক্রমণ শানাচ্ছে বিজেপি-আরএসএস। মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কথা বলতে না পারে তার জন্য ধর্মকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে প্রয়াত নেতা সিপিআই(এম) নেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন যে কর্পোরেট লুট রুখতে লড়তে হবে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও। পরে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশ যখন সংবিধান বা গণতন্ত্র বাঁচানোর সঙ্কটে পড়ে তখন বিভিন্ন শক্তি এক জায়গায় আসে। জরুরি অবস্থার সময়েও এমনই দেখা গিয়েছিল। দেশ সঙ্কটে, সে কারণে দেশে বিরোধীরা এক জায়গায় এসেছে।
সেলিম বলেছেন, বামপন্থী আর দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য হলো দক্ষিণপন্থীরা লুট করে, শোষণ করে, শাসন করে, প্রকৃতিকে ধ্বংস করে। বামপন্থীরা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তিল তিল করে সম্পদ গড়ে তোলে। ধর্মকে ব্যবহার করে কর্পোরেট শক্তি দেশের সম্পদ লুট করছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। তাই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
এদিন সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির উদ্যোগে ‘সৃজনী’ হলে উপচে পড়া ভিড়ে প্রয়াত নেতা ভজন চক্রবর্তীকে স্মরণ করা হয়। আধুনিক দুর্গাপুর গড়ে তোলায় তাঁর অনন্য ভূমিকা, দুর্গাপুর নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি থেকে দুর্গাপুর নগর নিগম গঠনে তাঁর ভূমিকাকে স্মরণ করা হয়। তিনি দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মেয়র পারিষদের দায়িত্বও পালন করেন। উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে থেকে তিনি দুর্গাপুরকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, স্বনিযুক্তি, স্বনির্ভরতা, বস্তি উন্নয়ন সহ বহুমুখী কাজের ক্ষেত্রে সাফল্য আনেন তা বিস্তারিত উঠে আসে একাধিক বক্তার স্মৃতিচারণায়।
মহম্মদ সেলিম এদিন বলেছেন, কিসের পরিবর্তন হয়েছে? রাজ্যে বড় সমস্যা কী সিপিআই(এম) বুকস্টলে কী লিখবে সেটি? না, জ্ঞানেশ কুমার কোটি কোটি মানুষের ভোটধিকার কেড়ে নিয়েছেন, সেটি? স্বচ্ছভাবে শূন্যপদ পূর্ণ করা, চাকরি বিক্রি যারা করেছে তাঁদের শাস্তি দেওয়া, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দামের মতো বিষয়ে কথা নেই সরকারের। সে সব থেকে সরে এসে মানুষ কোন খাবার খাবে, গোরু চড়াতে নিয়ে যাবে কোথায়, সংবাদ পত্রের হেডিং কি হবে, পত্রিকা অফিসে রং কী হবে- তা নিয়েই ব্যস্ত এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।
সেলিম বলেন, বিজেপি-আরএসএস চায় কোনও বিরোধী পক্ষ থাকবে না দেশে। ‘নানা ভাষা নানা মত’-কে শেষ করতে চাইছে। কর্পোরেট শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামকে শক্তিশালী করার জন্য মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করলেই তার উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। আক্রমণ নামানো হচ্ছে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, জমি, পাহাড়, নদী, ঝর্না, সব লুট করছে কর্পোরেট। মদত দিচ্ছে শাসক। তাই কর্পোরেটের বিরুদ্ধে লড়তে হলে ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধেও আমাদের লড়তে হবে।
এদিন স্মরণসভায় এছাড়াও কমরেড বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী স্মরণে বলেছেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, ‘গণশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক অতনু সাহা প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন পার্থ মুখার্জি।
গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমন্ডলীর প্রাক্তন সদস্য কমরেড বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী। তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি ১৯৭৩ সালে পার্টি সদস্যপদ অর্জন করেন। দুর্গাপুর তথা সমগ্র অবিভক্ত বর্ধমান জেলার ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সৃজনী হলে ভজন দা’র স্মরণসভায় স্মৃতিচারণা করছেন মহম্মদ সেলিম। ছবি: মলয়কান্তি মণ্ডল
Comments :0