সোমবার বিহারের লখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন হয়েছেন বহু মানুষ। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, দর্শনার্থী বোঝাই দুটি ট্রেন লখিসরাই রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায়। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার হওয়ায় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। তাদের মধ্য অধিকাংশই মহিলা। খবর অনুযায়ী, মন্দিরের একটি বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলে এদিন ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে আতঙ্কে। ভীরের মধ্যে পদপিষ্টে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। জেলা প্রশাসনের দাবি, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মন্দিরের একটি ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। এর জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং একে অপরের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আহতদের চিকিৎসার জন্য সদর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত তিনজনকে পাটনায় পাঠানো হয়েছে।
লখিসরাইই জেলার জেলা শাসক শৈলেন্দ্র কুমার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের কারণে সোমাবর সকাল ৬:৪০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ায় হঠাৎ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘অশোক ধাম হল্ট রেলস্টেশনের ঠিক সামনে থেকে মন্দির পর্যন্ত একটি দীর্ঘ লাইন ছিল। একই সময়ে দুটি ট্রেনও স্টেশনে এসে পৌঁছায়। এরই মধ্যে, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু আসলে কেবল একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছিল। বা দিকের মহিলাদের লাইনটিতে টান পড়ে এবং তারা একে অপরের উপর পড়তে শুরু করে।’’
সংবাদ সংস্থাকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ‘‘আমরা মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা পড়ে যাই, এবং প্রায় ২০-২৫ জন মহিলা একে অপরের উপর পড়ে যান। ভিড়ের চাপে অনেক মহিলা অজ্ঞান হয়ে যান। আমিও অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণেই এমনটা ঘটেছে।’’
মুঙ্গেরের বিভাগীয় কমিশনার প্রেম সিং মীনা এবং ডিআইজি রাকেশ কুমার মুঙ্গের সদর হাসপাতাল গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন। সংবাদমাধ্যমে মীনা বলেন, পদপিষ্টের ঘটনাটির তদন্ত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি বলেছেন যে লখিসরাই জেলায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে লখিসরাইয়ের অশোক ধামের ঘটনাটি ‘‘দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক।’’ তিনি জানিয়েছেন যে, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ‘‘বিহারের লখিসরাইতে পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই শোকের মুহূর্তে আমার সমবেদনা শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি। আমি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।’’
বিহার বিধানসভার বিরোধীদল নেতা তেজস্বী যাদবও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারকে দায়ী করেছেন।
Stampede at Bihar’s Lakhisarai
বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত অন্তত ৭, আহত বহু
×
Comments :0