রাজ্য পুলিশের শূন্যপদ নিয়ে বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটে আলোচনায় সরব হলেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)। বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোস্তাফিজুর বলেন, ‘হবে। রাজ্যে ১ লক্ষের বেশি পুলিশি পদ, ৭৪ হাজার মাত্র কাজ করছেন, ২৬ শতাংশ পদ খালি পদ রয়েছে। কনস্টেবেল পদ ২৫ শতাংশ পদ খালি। কনস্টেবেলদের ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের দাবি এই শূন্যপদ গুলোয় নিয়োগ করতে হবে। মুর্শিদাবাদের থানা গুলোয় পরিকাঠামো গত অভাব রয়েছে। ডোমকল থানায় এখনও খাতায় কলমে ডায়রি লিখতে হয়। রাজ্যের সব থানায় পর্যাপ্ত পরিকাঠাম প্রয়োজন।’
তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান, রাজ্যে ১ লক্ষের বেশি স্বীকৃত পদ থাকলেও কাজ করছেন মাত্র ৭৪ হাজার পুলিশ কর্মী। অর্থাৎ ২৬ শতাংশ বা প্রায় ২৬ হাজার পদই ফাঁকা। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন ডিআইজি পদে শূন্য ৩৭.৭ শতাংশ, এসপি পদে ৩৬.৭ শতাংশ এবং ইন্সপেক্টর পদে ৩২.২ শতাংশ পদ ফাঁকা। তিনি আরও বলেন, সাব-ইন্সপেক্টর পদে ১ হাজার ২৯৪টি (৩৭.৫ শতাংশ) এবং কনস্টেবল পদে ২৩ হাজার ৮৬৮টি (২৫ শতাংশ) আসন খালি।
রানা বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে ২০১১ সালের পর মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে অনেকে। আমাকে খুনের মামলা দেওয়া হয়েছিল জেলে থেকেছি, এই মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে।’ উল্লেখ্য ২০১১ সালের পর থেকে বামপন্থী কর্মীদের একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমান বিজেপি সরকারও গুন্ডা দমন আইনের নাম করে সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলিকে মিথ্যা মামলায় জেলে আটকে রেখেছে।
বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে রানা বলেন, ‘গত ১৫ বছরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা একেবারে তলানিতে চলে গিয়েছিল। পুলিশের যে আত্মবিশ্বাস, তা প্রায় ভেঙে পড়েছিল। কীভাবে বিগত মুখ্যমন্ত্রী নিজে থানায় গিয়ে অপরাধীকে নিয়ে আসতেন বা তৎকালীন শাসকদলের নেত্রীর বাড়ির পুজোয় পুলিশকে প্রসাদ বিতরণ করতে হতো তা রাজ্যের মানুষ দেখেছে। ফাইল মাথায় দিয়ে পুলিশের টেবিলের তলায় লুকোনোর ঘটনাও এই রাজ্যেই ঘটেছে।’
তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফের নাম করে রাস্তায় মানুষকে যেই পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হয়ে তা নিয়েও সরব হয়েছেন মোস্তাফিজুর।
তবে গত দুই মাসে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারকেও নিশানা করেছেন তিনি। মোস্তাফিজুর বলেন, ‘এই সরকার পুলিশ প্রশাসনে এবং রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে এই দুই মাসে রাজ্যে একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা যাতে না ঘটে সেই দিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।’ রাজ্যের থানা গুলোয় তৈরি হওয়া মহিলা সেল গুলোয় পর্যাপ্ত আধিকারিক না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সিপিআই(এম) বিধায়ক।
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্যের উল্লেখ করে মুর্শিদাবাদ জেলার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন ডোমকালের বিধায়ক। তিনি জানান, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মুর্শিদাবাদে খুনের ঘটনা ১৪.৩ শতাংশ এবং নারীঘটিত অপরাধ ৪২.৭ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা মাদকের থাবায়। দু’বছরে সেখানে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ১০৫ শতাংশ বেড়েছে এবং হেরোইন পাচার বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ব্লকে নারকোটিক কন্ট্রোল ইউনিট গঠনের জোরালো দাবি জানান তিনি।
অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো পরিচয় পত্র তৈরির কাজ বন্ধ করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপের কথা বলেন সিপিআই(এম) বিধায়ক। অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট সক্রিয় করা ও সীমান্তে গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটি তৈরি করার কথাও বলেন তিনি।
ডোমকল থানাকে দু'ভাগ করে বাগডাঙাকে কেন্দ্র করে দ্রুত একটি নতুন থানা গঠনের দাবি জানান তিনি।
Assembly Cpim
রাজ্য পুলিশের ২৬ শতাংশ শূন্যপদ পূরণের দাবি মোস্তাফিজুরের, সরব হলেন মিথ্যা মামলা নিয়েও
×
Comments :0