দেবব্রত ঘোষ
২০২৬ সালে বিধানসভার নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১১ সালে এ রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনায় যা ভিন্নতর। ২০১১ সালে একটি মতাদর্শবিহীন রাজনৈতিক দল শুধু বামপন্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কুৎসা, হিংসাশ্রয়ী বিরোধিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। শুধুমাত্র ক্ষমতা ভোগ করা এবং তার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় তৈরি করা ছিল মূল উদ্দেশ্য। সেই রাজনৈতিক দল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের আরএসএস পরিচালিত বিজেপি বর্তমানে সরকারে এসেছে। যারা তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাবকে প্রসারিত করতে ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শকে ব্যবহার করছে, যা হিন্দু ধর্মের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ‘হিন্দুত্ব’ আসলে আরএসএস এবং সঙ্ঘ পরিবারের রাজনৈতিক প্রকল্প। এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে খুব স্বাভাবিকভাবেই মতাদর্শহীন কোনও রাজনৈতিক দল লড়াই করতে পারে না। ফলে যা হওয়ার ছিল, তাই হলো। খুব দ্রুত সেই দল ও দলের নেতৃত্ব আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ অবস্থায় চলে গেল।
এই রাজ্যে আরএসএস-বিজেপি’র হিন্দুত্ব মতাদর্শ কী বলতে চাইছে? খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই সরকার ও দলের কাজকর্ম একটু বিশ্লেষণ করলে বুঝতে সাহায্য করে—কী এদের রাজনীতি, কী বলছে, কী করছে, কী ধরনের কাজ করতে চায়, এগুলো কি জনস্বার্থে, নাকি জনবিরোধী? এবং জনবিরোধিতার যে উপাদানগুলো দেখা যাচ্ছে, সেই উপাদানগুলিকে প্রতিহত করার জন্য কী প্রয়োজন?
২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের স্বৈরাচার, অত্যাচার, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন সেই সঙ্গে সরকারের মৌলিক কাজের সব কথা উল্লেখ না করেও বলা যায়, শিক্ষা ও কাজের অধিকারকে ধ্বংস করার বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল— এই সরকার স্বৈরাচার ও দুর্নীতি বন্ধ করে শিক্ষা ও কাজের অধিকার ফিরিয়ে আনবে।
ক্ষমতায় এসেই এরা তৃণমূল কংগ্রেসের পথ শুধু নিল না, বিগত চার মাসের মধ্যে অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি করল, চারদিকে দুর্নীতি, তোলাবাজি শুরু করল, শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করার কাজ করল। কাজের বাজার তৈরি করার প্রচেষ্টা দূরের কথা, হাজার হাজার শ্রমজীবী, গরিব মানুষকে কর্মচ্যুত করা শুরু হলো। তৃণমূলের সঙ্গে পার্থক্যটা হলো অত্যাচারের সঙ্গে ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শকে যুক্ত করল। যারা এই সব কাজ নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তুলবে, তাদেরকে হিন্দুত্ববিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দেওয়া, যা অনেক আগেই দেশে ওদের প্রধানমন্ত্রী ও সরকার চালু করেছে—‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘জেহাদি’, ‘আরবান নকশাল’, বর্তমানে ‘দিমাগি নকশাল’ প্রভৃতির মাধ্যমে। কেন এরা প্রতিবাদ ও প্রশ্নকে ভয় পায়?
আসলে এদের মতাদর্শ আগ্রাসী এবং দখলদারি। তাই এদের মতাদর্শের ভিত্তি হলো প্রমাণহীন বিশ্বাস। এই ক্ষেত্রে গ্রামশির ‘হেজিমনি’ বা আধিপত্যের ধারণার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। সেই ধারণা হলো—‘বর্তমান ব্যবস্থাই স্বাভাবিক’, এটাই বাস্তবতা এবং এর কোনও বিকল্প নেই। একে মেনে নিতে হবে। এই কারণেই যুক্তিবাদকে এরা ভয় পায়। এজন্য তাকে আক্রমণ করে। যুক্তিবাদ প্রশ্ন করে, ‘এর প্রমাণ কী?’ তখনই প্রমাণহীন বিশ্বাসের ভিত্তি দুর্বল হয়। স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ত শক্তি চায় প্রশ্নহীন আনুগত্য।
বর্তমান সময়ে প্রশ্নহীন আনুগত্য তৈরি করা অত সহজ বিষয় নয়, সেটা ওরা জানে। বিশেষ করে বাংলার সমাজজীবনে যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি আছে, তা যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রথমেই এজন্য ওরা একটা ভয় দেখানোর রাস্তা নিয়েছে। এই কাজেরই প্রতীক হিসাবে বুলডোজার, গুন্ডা দমন আইন, এসআইআর-কে ব্যবহার করছে। সরকার একের পর এক অন্যায় করে যাবে, মিথ্যাচার করে যাবে, আর মানুষ থাকবে নির্বিকার, সহনশীল, আত্মসমর্পণকারী, প্রতিবাদহীন, প্রশ্নহীন, এইরকমই একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। ফ্যাসিস্তরা সবসময় এটাই করেছে।
ফ্যাসিস্ত মতাদর্শ মানুষের তিনটি ক্ষেত্রকে আক্রমণ করে—পেট, মন এবং মস্তিষ্কে। ‘পেট’ বলতে মানুষের জীবিকা ও ব্যক্তিগত অস্তিত্ব। এরা প্রথমে মানুষের জীবিকার উপায় কেড়ে নেওয়ার কার্যক্রম চালায়। যা এ রাজ্যে হকার বাজার উচ্ছেদ অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যসঙ্কট, কাজ হারানোর আতঙ্ক এবং আয় হ্রাস করার মাধ্যমে সমাজে এত তীব্র সঙ্কট তৈরি করে যে, সেই সঙ্কট থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেন সরকারের অনুগত থাকে এবং শাসন মেনে নেয়। এই রাজনীতি অসন্তোষের মূল অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে না নিয়ে গিয়ে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে। এই দেশ এবং রাজ্যে যেমন সংখ্যালঘু মুসলমান, খ্রিস্টানদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শত্রু নির্ধারণ করেই থেমে থাকে না, সেই শত্রুর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করার জন্য নানান কাজ চালাতে থাকে এবং এক্ষেত্রে একটি কথা বলে—‘শত্রুকে সরিয়ে দাও, তাহলেই তোমার সব সমস্যার সমাধান হবে। সব সমস্যার জন্য ওরাই দায়ী।’
মনে আক্রমণের অর্থ মানুষের আবেগ ও মানসিক জগৎকে আক্রমণ। এখানে আক্রমণ হয় ভয়, সন্দেহ আর বিভাজন দিয়ে। ‘তুমি বাদে সবাই শত্রু’—এই মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, যা প্রতিদিন এই রাজ্যের শাসক এবং তার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় লক্ষ্য করা যায়। মনকে যদি একবার ভয় দেখানো যায়, তাহলে সে তখন সঠিক বিচার-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। সোজা কথায়, মনকে দখল করার অর্থ হলো—তুমি কী নিয়ে ভয় পাবে, কাকে ঘৃণা করবে এবং কাকে নিজের শত্রু মনে করবে।
মগজে আক্রমণ হলো সবচেয়ে ভয়ানক আক্রমণ। সত্যকে বিকৃত করা হয়, ইতিহাস পালটে দেওয়া হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে নিজ মতাদর্শকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশকে স্বাধীন করেছিল যে তিনটি ধারা—কংগ্রেস, বামপন্থী এবং সশস্ত্র বিপ্লব—সবকিছুকেই অস্বীকার করা, আর নিজেদের ব্রিটিশদের দালালি করা, স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসকে প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার মরিয়া প্রচেষ্টা দেখা যায়। এজন্য গান্ধীজী থেকে সুভাষচন্দ্র বসু-কে পর্যন্ত আক্রমণের স্পর্ধা দেখায়। আজকের সময়ে দারুণ শক্তিশালী প্রচারযন্ত্র সোশাল মিডিয়াকে প্রতিনিয়ত এই কাজে ব্যবহার করে। মিথ্যা তথ্য, ইতিহাসের বিকৃতি, ষড়যন্ত্রের ধারণা, একমুখী প্রচার এবং ভিন্নমতকে ‘শত্রুর প্রচার’ হিসেবে, ‘হিন্দুত্ববিরোধী’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসাবে দাগিয়ে দেয়, যা এই রাজ্যে শুরু হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ প্রশ্ন এবং যুক্তিবাদকে ভয় পাওয়ার জন্য। এজন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রবিরোধী ছাপ মারতে চায়। অথচ দেশের মধ্যে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী অতীত ও বর্তমানে বিজ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি, অধ্যাপনা, সাহিত্য, ইতিহাসে সেরা সেরা অবদান রেখে চলেছে, যা দেশকে সবদিক থেকে শক্তিশালী করে তুলতে অসামান্য সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর প্রশ্ন না করলে কে করবে? স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সবার অভ্যাস না থাকলে তো নতুন কোনও সৃষ্টির স্থান সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। প্রশ্ন করার সাহস না থাকলে মানুষ সৃজনশীল হবে কী করে? সৃজনশীলতা না থাকলে সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি ঘটতে পারে না। সৃজনশীলতা হলো যে কোনো ধরনের পরিবর্তনের মানসিক শক্তি। এর মধ্যে একটি দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক আছে, তা হলো মানুষ নতুন কোনও সৃষ্টি করলে মানুষ এবং সমাজ জীবন বদলে যায় এবং তখনই নতুন কোনও প্রয়োজন তৈরি হয়, সেই নতুন প্রয়োজনে আবার নতুন প্রশ্ন দেখা দেয়, মানুষ তখন তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমাধান হলে সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি ঘটে, এখানেই বিজ্ঞান, যুক্তিবাদের সাথে কর্তৃত্ববাদের দ্বন্দ্ব, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ বলে ‘প্রমাণ দিয়ে দেখাও’, কর্তৃত্ববাদ বলে ‘আমি যা বলেছি, তাই সত্য।’
তাই এই সময় এই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আজকের লড়াই শুধু নির্বাচনে হারা-জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। সভ্যতার সঙ্কট এবং ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সংগ্রামটাই যদি মূল অভিমুখ হয়, তাহলে যে রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের পক্ষে আছে, তাদের সকলকে এক হওয়াই সময়ের দাবি।
প্রশ্ন এবং প্রতিবাদকে ভয় পাওয়ার জন্য বামপন্থীদের উপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। শুধুমাত্র একটি জেলায় আইন অমান্য আন্দোলনে শতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী মন্টু মিঞা-কে খুন করে দিল। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পার্টি নেতা লায়েক আলীকে ২৭টি মিথ্যা মামলা দিয়েদীর্ঘদিন জেলে আটকে রেখেছে। গভীর রাতে হুগলী জেলার পার্টি নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক এবং অধ্যাপক শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে বাড়ি থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করেছে। স্কুল বাঁচানোর কথা বলার জন্য এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী, তরুণদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বাঁকুড়ার ইন্দাসের কারিসুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা, ২৬ বছর বয়সি যুবক শেখ আবদুল হাফিজের (রিক)-এর পিতা শেখ মহম্মদ মাফিক-কে খুন করে দিল। রাজ্যজুড়ে সিপিআই(এম)-সহ অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির পার্টি দপ্তরগুলিতে আক্রমণ চলছে।
এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ধারণা উঠে আসছে। তারা বলতে শুরু করেছে—বিগত ১৫ বছর ধরে পঞ্চায়েত, পৌরসভা, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ইত্যাদি সর্বত্র যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস লুটপাট চালালো, তাদের তো কিছু হলো না। তাদের দুর্নীতি, স্বৈরাচার, তোলাবাজির বিরুদ্ধেই ভোট দিলাম বিজেপি-কে, আর ক্ষমতায় আসার পর তারা রাতারাতি সব বন্ধু হয়ে গেল, ভালো তৃণমূল হয়ে গেল। আর যারা ১৫ বছর ধরে এই সব কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলো, লড়াই করল, জেল খাটল, খুন হলো—তারাই এখন এদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য! এটা কী হচ্ছে?
তাই আক্রমণের পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই এই শক্তি পিছু হটবে। বর্তমানে পশ্চিমবাংলার বামপন্থী কর্মীদের শুরু থেকেই এক সাহসী ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যত আক্রমণ বাড়ছে, বামপন্থীদের পাশে নতুন নতুন মানুষ জড়ো হচ্ছে, সংখ্যাও বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম পাঁচ বছর বামপন্থীরা এই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শুরু থেকেই গড়ে তুলতে পারেনি। তার অবশ্য কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে একটানা ৩৪ বছর সর্বস্তরে ক্ষমতায় থাকার জন্য পার্টির কাজের ধারা নতুনভাবে গড়ে তুলতে সময় লেগে গেছে। আর কোনও সন্দেহ নেই, প্রথম দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি মানুষের এক ধরনের আস্থা ও ভরসা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা বর্তমানে দুই দিক থেকেই বিপরীত অবস্থা তৈরি করছে। একদিকে, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের এত ক্ষোভ অতীতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, বিগত ১৫ বছর তৃণমূল শাসনের লাগামহীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে পার্টিকর্মী ও সমর্থকরা মিথ্যা মামলার সাজা, জরিমানা, দৈহিক আক্রমণের মোকাবিলা করতে করতে শাসক দলের গুন্ডা, প্রশাসন, পুলিশ, মিথ্যা মামলা, জেল—এসবকে এখন আর ভয় পায় না। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়তে হয়, তার অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে।
অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেই কমিউনিস্ট পার্টি এগিয়েছে। ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে শুরু করে তৃণমূল রাজত্বের পর্বে এই লড়াই, সংগ্রাম, জেল, জরিমানা, ঘরছাড়া, কর্মচ্যুত হওয়া থেকে শহীদের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। এখন আবার অত্যাচারের নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছেন কমিউনিস্ট পার্টি ও বামপন্থীদের। মুখ্যমন্ত্রী যখন হয়েছেন, তখন এদেশে বামপন্থার অতীত ইতিহাস এখনও অজানা থাকলে একটু জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এই ইতিহাস ভীরুতার নয়, এই ইতিহাস সততা, সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের। যে আত্মত্যাগ শুধুই সমাজ পরিবর্তনের জন্য, আরও সুন্দর সমাজের জন্য। পৃথিবীর ইতিহাস বলছে, অত্যাচারী, স্বৈরাচারীদের ভয় শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নয়, ভয় সেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে, যে শক্তি মানুষের স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই অত্যাচারী শক্তি ‘শেষ কথা’ বলার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের গতিকে দীর্ঘদিন নিজের মতো আটকে রাখতে পারবে না।
Comments :0