হড়পা বানে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজাহর ২৫২ জন। এখনও অন্তত ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বিকেল এই খবর জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চিতওয়ানে, যেখান থেকে ৩৫৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নওয়ালপরাসি পূর্বে ২১৮টি, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ২০৮টি এবং নুয়াকোটে উদ্ধার হয়েছে ১৭৭টি মৃতদেহ। দুর্যোগের উৎসস্থল রাসুয়ায় ১২৭ জনের দেহ হয়েছে। ভারত থেকে আরও ১৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করে নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশি নাগরিক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী এবং সরকারি কর্মচারীও। শুধু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ জন কর্মী নিখোঁজ বলে জানা গেছে। নিখোঁজ ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নেপাল পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটে ৯৫৯ জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ি সড়ক ও সেতুগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম গ্রামগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনো মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়েছে। অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং ত্রাণের কাজের জন্য ২১ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১হাজার ৯১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী ৭১৫টি হেলিকপ্টার সাহায্যে ২৭৩ জন বিদেশী নাগরিকসহ ৪ হাজার ৩৬৪ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। নেপালর সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক মোতায়েন করা হাসপাতাল ও চিকিৎসা দলগুলো ৫ হাজারের বেশি আহত মানুষকে চিকিৎসা করেছে। প্রায় ৩ হাজার ৯৫০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নুয়াকোট, ধাদিং, রাসুয়া এবং কাঠমান্ডুর অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের কথায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সেতুর কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় সড়ক ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ-কবলিত এলাকায় টেলিযোগাযোগ পরিষেবাও পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। নেপাল টেলিকম জানিয়েছে, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ১১০টি টাওয়ার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ রয়েছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০০ জন এখনও নিখোঁজ। এছাড়া, ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা ১৬৪ জন নেপালি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নেপালে হড়পা বানের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বৃষ্টি ও কাদামাটির ধ্বংসাবশেষের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিধস, বন্যার জল এবং ধ্বংসস্তূপ জমে থাকা এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ২১,০০০-এরও বেশি কর্মী উদ্ধার, তল্লাশি, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, ট্রাক, গাড়ি এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নুওয়াকোট এবং রাসুয়াতে আকাশপথেও ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩,৯৪৮ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। এর মধ্যে নুওয়াকোটে ২,৯৮১ জন, রাসুয়াতে ৩২০ জন, ধডিং-এ ২৬০ জন এবং কাঠমান্ডুতে ৩৮৭ জন রয়েছেন। চীনের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জন। ৫৪১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ২৬ অগস্ট নেপালে হড়পা বানে নদীর জল ও পাথর-কাদার স্রোতে বহু মানুষ প্রাণ হারান, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। সেদিনের নেপালে হড়পা বানের পর এদিন তিব্বতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। যদিও এদিনের ভূমিকম্পে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এদিন দেশের বিধ্বংসী হড়পা বানকে ‘হিমালয়ী সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন একটি বেসরকারি সংবাদ মধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।
Nepal Flash Flood
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৫২
×
Comments :0