প্রাক্তন সেনা কর্মী জীতেন্দ্র মিশ্রকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের সিইও হিসাবে নিয়োগ করলো সরকার। এই পদের জন্য পাঁচ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল বলে খবর। সম্প্রতি রাম মন্দিরের প্রণামী চুরিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিতর্ক। তারপর সিইও নিয়োগ নিয়ে জারি করা হয় বিজ্ঞপ্তি।
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগের তদন্তে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে ক্লিনচিট দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। একইসঙ্গে ট্রাস্টের প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অনুদান চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৭ জুন ট্রাস্টের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র। এরপর মন্দিরে অনুদান সংগ্রহ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে সিট।
উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর সোমবার অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি সংক্রান্ত মামলায় সিট-এর চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রিপোর্টটি ট্রাস্টের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, সিট-এর জিজ্ঞাসাবাদের সময় চম্পত রাই অনুদান চুরির ঘটনায় তার কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, অনুদান চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের জন্য তিনিই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
রাই তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, মন্দিরে অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তার ছিল। অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারার পরই তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছিলেন বলেও তদন্তকারীদের জানান তিনি।
রাম মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার গত ১৩ জুন তিন সদস্যের সিট গঠন করে। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার আগেই এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছিল।
লখনউ ডিভিশনের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে গঠিত সিট-এর অন্য দুই সদস্য হলেন রেঞ্জ ইন্সপেক্টর জেনারেল কিরণ এস এবং বিশেষ সচিব (অর্থ) নীল রতন কুমার।
তদন্তের পর সিট গত ২৩ জুন রাজ্য সরকারের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে অনুদান সংগ্রহ ও পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণমোহন শ্রী রাম জন্মভূমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর গত ২৫ জুন এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়।
এফআইআর-এ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামও অভিযোগে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনের ১৩(১)(এ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে একাধিক এফআইআর এবং গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন চূড়ান্ত রিপোর্টে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।
Ram Mandir
রাম মন্দিরের সিইও প্রাক্তন সেনা কর্মী
×
Comments :0