নেপালে আকস্মিক বন্যায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,০০৩-এ দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮৩ জন বিদেশি ,৮৩ জন নিরাপত্তা সদস্য সহ প্রায় ৪,০০০ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও তাঁদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২,০০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও ভূমি ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যায় নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোতেকোশি নদীতে বন্যার ফলে তার পার্শ্ববর্তী অংশে থাকা ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যায়। সেইসঙ্গে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ও ব্যাপক ক্ষতি হয়। চীনা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের অংশ (তিব্বতে) ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নেপালে চিতওয়ান জেলায় ৩২১টি, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২১৬টি, পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ১৭০টি, নুওয়াকোটে ৯৫টি, গোর্খায় ৬৫টি, ধাদিংয়ে ৫৭টি, রাসুওয়ায় ৪১টি সহ তানাহুনে ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে যে, শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২১টি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অনেক মৃতদেহ মারাত্মকভাবে পচে যাওয়ায় দেহগুলি শনাক্ত করা দূঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
সেইসঙ্গে, বন্যাদুর্গত এলাকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে কর্মরত ৬০০-রও বেশি শ্রমিক ও কর্মীর খোঁজে উদ্ধারকারী দলগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে যে, তাঁদের অনেকেই এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা জল, কাদা ও ধ্বংসস্তূপ, দুর্গম ভূখণ্ড এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাতায়াত পথের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবারও নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন, যাদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় থাকা কর্মীরাও রয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে প্রশাসন। সেইসঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কর্তৃপক্ষ নজরদারি, উদ্ধারকাজ জোরদার করছে।
Nepal flash flood
নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ ৪ হাজার মানুষ
×
Comments :0