Post Editorial

শাসক কেমন, বিরোধী কারা একশো দিনেই স্পষ্ট

সম্পাদকীয় বিভাগ উত্তর সম্পাদকীয়​

চন্দন দাস

দাঙ্গার নৃশংসতার উদ্‌যাপন হতে পারে সরকারি কর্মসূচি, জানলো দেশ। করে দেখালো পশ্চিমবঙ্গের সরকার। সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে বিজেপি’র সরকার রাজ্যের মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে যে, আশি বছর আগে ধর্মের নামে উন্মত্ত হয়ে আমাদেরই একদল নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করেছিল। ভারতের সংস্কৃতির আত্মা যে ভূখণ্ড ধারণ করে, সেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বীভৎসতার রোমন্থন হয়েছে সরকারি সমারোহে।
গত একশো দিনে নিজেকে বারবার স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর সরকার ২১ নভেম্বর পালন করতে পারতো। ’৪৫-এর ২১ নভেম্বর কলকাতা দেখেছিল গণজাগরণ। ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে রাজপথে শহীদ হয়েছিলেন রামেশ্বর ব্যানার্জি, আবদুস সালাম। ধর্মতলা সাক্ষী হয়েছিল এক অভূতপূর্ব গণপ্রতিরোধের। যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিজেদের আইকন হিসাবে প্রচার করছে বিজেপি, সেই শ্যামাপ্রসাদের উপলব্ধিকেও অক্ষয় করার উদ্যোগ সরকার নিতে পারতো। রুখে দাঁড়ানো মানুষের মিছিল সম্পর্কে আপ্লুত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছিলেন,‘‘সেদিন তো চারদিকে হরতাল—হিন্দু মুসলমান সব একজোট। তার আগের দিন প্রশাসনের মধ্যেই হাজার হাজার মুসলমান চলছিল। তার আগের দিনে যারা ইংরেজের গুলি খেয়েছিল তাদের মধ্যে মুসলমানও ছিল। সে এক অপূর্ব দৃশ্য।’’ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আইএনএ’র সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিতে উত্তাল সেই জনতার মুখে স্লোগান ছিল—  ব্রিটিশ তুমি ভারত ছাড়ো। 
তবু রাজ্যের বিজেপি সরকার ’৪৬-এর ১৬ আগস্টকে বেছে নিয়েছে স্মরণের জন্য। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ মানুষের লড়াই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য আমাদের অনুপ্রেরণা— এ’ তাদের নীতি নয়। তারা জাগিয়ে তুলতে চায় বিদ্বেষ— হিংস্রতার জাগরণ, ধর্মীয় বিভাজন। সেই সূত্রেই খণ্ডিত শ্যামাপ্রসাদ তাদের আরাধ্য। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে তারা শুধুই পরিচিত করাতে চাইছে একটিই ভূষণে—  তিনি নাকি বাংলাভাগের রূপকার। অথচ বাংলাভাগে তাঁর বিশেষ কোনও ভূমিকাই ছিল না। সেকারণেই একশো দিনের মেয়াদের মধ্যেই শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাসের সুবিপুল আয়োজন।  
যে দেশভাগকে বাঙালি বরাবর অস্তিত্বের এক নিদারুণ দ্বিখণ্ডিকরণ হিসাবে দেখে এসেছে, যে যন্ত্রণার বালিতে ঋত্বিক ‘সুবর্ণরেখা’ এঁকে দিয়ে গেছেন আমাদের চেতনায়, তাকে দুমড়ে মুচড়ে জিন্নাহ্‌র ক্লেদাক্ত ভাবনা পুঁতে দিতে চেয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। আমরা ধর্মের নামে কোনও হোমল্যান্ড চাইনি কখনও। তাম্রলিপ্তে ‘জাতীয় সরকার’ গড়ে উঠেছিল—  ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’ নয়। 
একশো দিনে তাই ইঙ্গিত স্পষ্ট—  তৃণমূল আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে নেমেছিল। বিজেপি যতদিন থাকবে আমাদের চেতনা, মনন, দেশপ্রেম ‘খতরে মে রহেঙ্গে।’
গত একশো দিনে বারবার মমতা ব্যানার্জিকে কথা বলার, ফেসবুক লাইভ করার সুযোগ বানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন? গত ১৫ বছর তৃণমূল সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে তৃণমূল। যার সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। সংবিধানে কোনও সুযোগ না থাকলেও মমতা ব্যানার্জি বলেছেন,‘মুসলমানদের আলাদা হাসপাতাল’ বানিয়ে দেবেন। মুসলমানদের জন্য নিয়োগের আলাদা বন্দোবস্ত করবেন, তাও বলেছিলেন। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর মুসলমানদের ‘দুধ দেওয়া গোরু’ বলতেও তার দ্বিধা হয়নি। একেই প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম বিজেপি সরকার এখন ‘তোষণ’ বলছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে, তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য তৃণমূলের এই ‘তোষণের রাজনীতি’ বন্ধ করা। লক্ষ্য প্রধানত দুটি। প্রথমত, এখনও সংখ্যালঘুদের প্রতি দরদি হিসাবে মমতা ব্যানার্জিকে বিজেপি’র বিরোধী প্রতিপন্ন করে কোনোরকমে দাঁড় করিয়ে রাখা। অথচ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল সংখ্যালঘুদের উন্নতির জন্য কিছুই করেনি। না চাকরির ব্যবস্থা করেছে, না ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিগ্রস্ত, ধান্দাবাজ, তোলাবাজ তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ মানুষের মধ্যে সংখ্যালঘু-বিদ্বেষ জাগিয়ে তুলে তাঁদের বিজেপি’র ভোটব্যাঙ্কে ফিকসড ডিপোজিটে পরিণত করা। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এমন জমি নীতি করবে যাতে সংখ্যালঘুরা রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দুদের জমি কিনতে না পারে। কৃষককে, ক্ষুদ্র জোতের মালিককে, পাট্টদারকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের কৌশল রাজ্যের গ্রামীণ সমাজের দীর্ঘলালিত সম্প্রীতির সংস্কৃতিতে ছিন্নভিন্ন করার জন্য মমতা ব্যানার্জি, শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে ব্যবহার শুরু করেছিলেন ‘জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন’-এর নামে। সেদিন তাঁদের লক্ষ্য ছিল রাজ্যে শিল্পের নব জোয়ার আটকানো। ‘নব জোয়ার’ এই কারণে বলতে হচ্ছে যে, বামফ্রন্ট সরকার গঠন করার প্রথম থেকেই শিল্পে জোর দিয়েছিল। বিধানসভার কার্য বিবরণী, কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট দেখলেই তা বোঝা যাবে। বামপন্থীরা আন্দোলনের নামে কারখানা বন্ধ করেছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সেই পুরানো রেকর্ড বাজাতে শুরু করেছেন। মূলত বামপন্থীদের ঘিরে আবার সমবেত হতে থাকা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। 
নতুন শিল্পের জন্য জমি লাগবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, শিল্পপতিরা জমি কিনে নিন—  মমতা ব্যানার্জির সরকারের এই পথ তাঁরা বর্জন করছেন। সরকারই জমির ব্যবস্থা করবে। এই প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য,‘তবে নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা ঘটবে না। ওখানে পিছনে গুলি করা হয়েছিল।’ এই ক্ষেত্রে দুটি প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী হাজির করেছেন। প্রথমত, তিনি সিঙ্গুরের নাম বলেননি। এই সরকারের মন্ত্রীরা একাধিকবার ইতিমধ্যে বলেছেন যে, সিঙ্গুরে তারা নাকি টাটাকে ফেরাবেন। সিঙ্গুর থেকে কারখানা তাড়ানোর জন্য তারা মূলত তৃণমূলেরই সমালোচনা করছেন। অর্থাৎ সেদিন তাঁরা বেশিরভাগই মমতা ব্যানার্জির অনুগামী থাকলেও আজ তাঁরা স্বীকার করছেন, সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণে কোনও ভুল ছিল না। যদিও সিঙ্গুর থেকে কারখানা তাড়ানোর জন্য মমতা ব্যানার্জির খাটানো ধর্মতলার মাচায় ছুটে এসে পদধূলি রেখেছিলেন বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং। মোদ্দা কথা—  সেদিন বামফ্রন্ট কোনও ভুল করছে না জেনেও শুধু পশ্চিমবঙ্গের বারোটা বাজানোর পথ সুগম করতে, গুজরাটের সুবিধা করতে বিজেপি মমতা ব্যানার্জির মাথায় ছাতা ধরেছিল। দ্বিতীয়ত, নন্দীগ্রামে কোনও জমি বামফ্রন্ট অধিগ্রহণ করেনি। সেখানে ‘পিছনে গুলি’র কথা এর আগে কেউ কখনও বলেননি, যা মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন। 
বিজেপি’র রাজ্য সরকার শিল্পের জন্য জমির ব্যবস্থা করবে কী করে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। জমি অধিগ্রহণে, গ্রামে কোনও নির্মাণে পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বিজেপি সরকার বিল এনেছে পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের গুরুত্ব কমাতে, প্রধানের ক্ষমতাকে খাটো করতে। টাকা খরচের প্রশ্নে প্রধানদের ভূমিকাও কমানো হয়েছে। যে পঞ্চায়েতকে তৃণমূল ১৫ বছরের শাসনে লুটের পঞ্চায়েতে পরিণত করেছিল, সেই পঞ্চায়েতকে মূলত নবান্নের প্রশাসনিক কর্তাদের মুখাপেক্ষী, নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। সরকারের জমি অধিগ্রহণে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ভূমিকা দুর্বল করা একটি লক্ষ্য। আর একটি লক্ষ্য গণতন্ত্র দুর্বল করা। এই ধাক্কা ধর্ম মেনে আসবে না। সবচেয়ে ক্ষতি করবে ধর্মনির্বিশেষে গরিব, মধ্যবিত্তর। মুখ্যমন্ত্রী পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জির মতোই। কিন্তু এই প্রশ্নে যা জরুরি সেই ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর কোনও উদ্যোগ সরকার নেয়নি। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে হাল আগের ১৫ বছরের মতোই হবে। 
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্যের অন্যতম ‘দেশের সুরক্ষার সঙ্গে এই সরকার কোনও আপস করবে না।’ এই ক্ষেত্রে বিএসএফ-কে জমি অপর্ণের কৃতিত্বকেই সর্বাধিক জোর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে ‘লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা’ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ধরে সীমান্তের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা সম্প্রতি কিছুটা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বহুচর্চিত ঘোষণা ছিল— ‘ডিটেক্ট ডিলিট ডিপোর্ট।’ অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যে ২৩টি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির ঘোষণা হয়েছিল। সবকটি এখনও হয়নি। কতজন অনুপ্রবেশকারী গত একশো দিনে সরকার ধরতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা কতজন—  এর জবাব নেই। তবে সংখ্যাটি এখনও পর্যন্ত ৩৮৬, ‘লক্ষ লক্ষ’ নয়, প্রশাসনের সূত্রে তেমনই জানা যাচ্ছে।
বিধানসভার বিরোধীরা নিজেদের দুর্নীতি থেকে বাঁচতে মুখ্যমন্ত্রীর বশংবদ, দাক্ষিণ্য-নির্ভর হয়েছেন। কিন্তু আক্রান্ত মানুষ বসে থাকেননি। একশো দিনের মধ্যেই গণবিক্ষোভ দেখেছে ‘রাষ্ট্রবাদী’ মুখ্যমন্ত্রীর সরকার। নির্বাচনের আগে বিজেপি বলেনি যে, তাদের সরকার ‘যোগ্য’ বেছে নিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা দেবে। বিজেপি’র শাসনে অনেক মহিলা বাদ পড়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে। তাঁদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্যের অনেক এলাকা। তৃণমূলের মতোই তোলা আদায় করতে পাওয়া গেছে বিজেপি’র একাংশকে। মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সেই তোলা আদায়ের বিরুদ্ধেও। প্রতিশ্রুতি মতো নিয়োগের দাবিতে মিছিল শুরু হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। নিজেকে একবার ‘গাঁয়ের ছেলে’, একবার ‘গাঁয়ের ছেলে, ছোট শহরের ছেলে’ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ সারের বেপরোয় কালোবাজারি আটকাতে সরকারি কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফসলের ন্যায্য দামের প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপি’র সঙ্কল্প পত্রে। কৃষক এখনও কম দামে ধান, আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিধ্বস্ত কৃষকরা প্রতিবাদ শুরু করেছেন। একশো দিনের মধ্যেই রেলের জমি থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়েছে গরিব মানুষ, ছোট দোকনদারদের। তাঁরা ‘সনাতনী’ নাকি সংখ্যালঘু—  ডবল ইঞ্জিন সরকারের বুলডোজার তা বিচার করেনি। সেই গরিব মানুষও উচ্ছেদ আটকাতে জোটবদ্ধ হয়েছেন। এমন প্রতিটি লড়াইয়ের সামনে বামপন্থীরা। এমনকি কলকাতার যে বস্তিতে সিংহভাগ সংখ্যালঘু, সেখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এই ক্ষেত্রেও সেই বামপন্থীরা, যাঁদের বিধানসভায় ১টি আসন। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’,  তথা ‘গুন্ডা দমন আইন’ সংক্রান্ত বিল বিধানসভায় সংখ্যার জোরে পাশ করানোর পরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গেছে,‘‘৩৪ বছরের কমিউনিস্ট হার্মাদ এবং ১৫ বছরের তৃণমূলী গুন্ডা— এদের জব্দ করার জন্যই এই আইনের খুব প্রয়োজন ছিল।’’ ইতিহাসের রসিকতা হলো—  শহীদ হাসান সোহ্‌রাওয়ার্দিও এমনই একটি অর্ডিন্যান্স এনেছিলেন, মূলত গণআন্দোলন দমন করার জন্য। 
বিধানসভায় বিরোধী তৃণমূল দ্বিখণ্ডিত। তৃণমূলের বিধায়করা বিধানসভার ভাষণে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় স্নান করিয়ে দিচ্ছেন। বিধানসভার বাইরে সেই দুই খণ্ডের কাউকেই মানুষের বিক্ষোভের আশপাশে দেখা যাচ্ছে না। তাই কয়েকজনের উপর ডিম ছোঁড়াছুঁড়ির পর ‘তৃণমূলী গুন্ডা’দের বিরুদ্ধে বিজেপি’র আর কোনও ‘জিরো টলারেন্স’ ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। গত ১৫বছরে দেদার তোলা আদায় করা তৃণমূলের অনেক নেতা, কর্মীই বিক্ষুব্ধ তৃণমূলে সেঁটে গিয়ে ‘ভালো’ হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বিজেপি’র নেতা, কর্মীরা সিপিআই(এম)’র পার্টি অফিস ভাঙতে শুরু করেছেন। বামপন্থীদের সভায় হামলা শুরু হয়েছে। বারুইপুরে ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলি গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রায় দেড় মাস তিনি জেলবন্দি। আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে হামলা চালানো এবিভিপি, বিজেপি কর্মীদের চিনতেই পারছে না পুলিশ। যাদবপুর সেই হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘দেশবিরোধী’, ‘একশ্রেণির জেহাদি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি। কেন ঠিক এই কথাগুলিই তিনি বললেন? শুধু নিজেকে প্রবল হিন্দুত্ববাদী হিসাবে প্রমাণের জন্য? না, তা নয়। একশো দিনেই গণবিক্ষোভে সমাজের নানা অংশের, নানা রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানুষকে এক আন্দোলনের ছাতার নিচে এসে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। বিজেপি’র লক্ষ্য সেই ঐক্যকে ভাঙা, কমিউনিস্ট সহ বামপন্থীদের বিচ্ছিন্ন করা।
একশো দিনই বলে দিচ্ছে তৃণমূলকে প্রয়োজনে যেমন খুশি ব্যবহার করাই বিজেপি’র লক্ষ্য। আর? দমন, পীড়নের লক্ষ্য কমিউনিস্টরা। কারণ গণবিক্ষোভের জমিতে আগামীদিনে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ তারাই—  একশো দিনেই বিজেপি স্থির করে ফেলেছে।

Comments :0

Login to leave a comment