দেশে কৃষকদের ঋণ মকুব হয় না। আর কর্পোরেট সংস্থা ‘জি’ গোষ্ঠীর মালিককে বিপল ছাড় দেওয়া হয়। ২২ হাজার কোটির ঋণ মকুব হয় মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা শোধ করে। এই সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনালকে (এনসিএলটি)-কে।
শুক্রবার বিবৃতিতে এই দাবি তুলেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। এদিন কলকাতায় সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, সাধারণ মানুষ ঋণ নিলে ছাড় হয় না। কৃষকের ঋণ মকুব করে না সরকার। আর বিজেপি ঘনিষ্ঠ ‘জি’ গোষ্ঠীর মালিক সুভাষ চন্দ্র ছাড় পেয়ে যান।
এনসিএলটি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়েছে যে ২২০০৬.৫৭ কোটি টাকার ঋণ শোধ হবে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়ে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে সুভাষ চন্দ্রের ঘনিষ্ঠতা সুবিদিত। এই নির্দেশে শ্রেণি পক্ষপাত স্পষ্ট। ধার দিয়েছিল যে যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তাদের লোকসান হবে ৯৯.৯৭ শতাংশ। এলআইসি হাউসিং ফিনান্স ১৩২২.৩৯ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জানিয়েছিল। এই সংস্থা পাবে মাত্র ৩৮ লক্ষ, ঋণের ০.০২৮ শতাংশ।
পলিট ব্যুরো বলেছে, গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো এই ট্রাইবুনাল লাগাতার কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে বিপুল ছাড় দিয়ে চলেছে। অনুগত সরকার কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে বিপুল লাভের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। একদিকে বিপুল ঋণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কয়েক বছর পর এনসিএলটি ঋণ ফেরতে বিপুল ছাড় দিয়ে দিচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, করদাতাদের টাকায় কর্পোরেটের পকেট ভরা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী কর্পোরেটরা বিপুল ঋণ পাচ্ছে। তারপর হেয়ারকাট-র নামে ঋণ ফেরানোর দায় থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারে আসীন দলকে পরিষেবার বিনিময়ে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, দেশে হাজার হাজার ঋণ গ্রস্ত কেষক রয়েছেন। রয়েছেন কৃষি শ্রমিক, মহিলা, দিনমজুর। তাঁরা ছাড় পান না, আত্মঘাতী হন অনেকে। গরিব মানুষ সামান্য টাকা ফেরাতে না পারলে হুমকির মুখে পড়েন, উচ্ছেদও করা হয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কে হিসেব অনুযায়ী, দেশে গার্হস্থ্য ঋণ জিডিপি’র ৪৫.৫ শতাংশ, সর্বোচ্চ। আরটিআই’র জবাবে জানা গিয়েছে এক কোটি টাকার কম ঋণ নিয়েছেন, এমন ক্ষুদ্র ঋণগরহীতাদের ৭৪ শতাংশ ফেরত দেন পুরোটাই। কিন্তু ১০০ কোটি বেশি ঋণ এমন বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের মাত্র ১৪.৫ শতাংশ ফেরান ঋণের অর্থ।
Polit Bureau on Zee Chairman's Loan Haircut
‘জি’ গোষ্ঠীর মালিকের ২২ হাজার কোটির ঋণ মকুব, সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পলিট ব্যুরোর
×
Comments :0