Suvendu Adhikari

‘আজাদি’ স্লোগানকে নিশানা শুভেন্দুর, এক সময়ের বন্ধু কিষেণজির সমালোচনাও করলেন

রাজ্য

কলকাতায় ‘আজাদি’ স্লোগান এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় রাখিবন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু বলেন, দেশের বাইরের শত্রুদের মোকাবিলা করে সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু দেশের ভিতরেও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন বলে তার অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘শহরের রাস্তায় যখন আজাদি স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। কীসের আজাদি? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।’
কাশ্মীর প্রসঙ্গেও স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তার বক্তব্য, স্বাধীনতার এত বছর পরেও কেন ‘আজাদি’র দাবি উঠবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য এনআরসি আন্দোলনের সময় গোটা দেশ জুড়ে প্রচার পায় এই আজাদি স্লোগান। বামপন্থী ছাত্র যুবদের মুখে এই স্লোগান শোনা যায়। দেশ জুড়ে যেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ, বেকারত্ব তার বিরুদ্ধে এই আজাদি স্লোগান। দেশ স্বাধীনতা পাওয়ার ৮০ বছর পরেও কৃষক ফসলের দাম পায় না, আত্মহত্যা করে। স্বাধীনতার পর বিজেপি শাসনে দেশের বেকারত্বের হার সব থেকে বেশি। সাধারণ মানুষের নজর এই সব বিষয় থেকে সড়াতে ‘আজাদি’কে দেশ বিরোধী স্লোগান বলে চিহ্নিত করছে বিজেপি। 
এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষাণজি’ লেখা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাদবপুরের দেওয়ালে যখন ‘রেড স্যালুট কিষাণজি’ লেখা হয়, তখন আমার কষ্ট হয়। নতুন প্রজন্মকে কী শেখানো হচ্ছে?”
কিষাণজির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তার দাবি, কিষাণজি দেশের সংবিধানকে মানতেন না এবং নির্বাচনে বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ভিতর থেকে কেউ কেউ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য ২০০৭-০৮ সালে তৎকালিন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম সঙ্গী ছিলেন কিষাণজি। মাওবাদীদের ব্যবহার করে জঙ্গলমহল জুড়ে বামপন্থী কর্মীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছিল তৃণমূল। শতাধিক বামপন্থী কর্মী শহীদ হয়েছেন। মাওবাদী নেতা সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন তিনি মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। তখন শুভেন্দু তৃণমূলের নেতা, মমতার সঙ্গী।
সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়েও আপত্তি তোলেন শুভেন্দু। তার প্রশ্ন, ‘সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম নিয়ে আপত্তি কেন?’ ভারতের জাতীয় পতাকাকে মান্যতা না দেওয়া আরএসএস নিজেদের দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে মোরিয়া। এদিন যাদবপুরে বন্দে মাতরম গাইবেন মুখ্যমন্ত্রী। 
শুভেন্দুর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘আজাদি’ স্লোগান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দেওয়াল লিখন ঘিরে। এদিন ভবানীপুরে রাখিবন্ধন কর্মসূচির পর ঢাক বাজিয়ে মিছিলেও অংশ নেন শুভেন্দু। পরে তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কীর্তনে অংশ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কর্মী।

Comments :0

Login to leave a comment