বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বৃপস্পতিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৩ জন। নিখোঁজের প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিন রাসুয়াসহ বন্যা-আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪০টিরও বেশি বেসরকারি হেলিকপ্টার উড়ে গিয়েছে। দায়িত্বে রয়েছে নেপাল সেনাবাহিনীর ১৪তম ব্যাটালিয়ন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের জন্য বিমানবন্দরে থাকা কিছু হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করে চলেছে। নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার আরও ৯৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়রা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এই ভয়াবহ বন্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকটি শহর ও জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায় হাজার হাজার মানুষ এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে। তিনি আরও জানান যে, আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই মানসরোবরের তীর্থযাত্রী। খানাল বলেন, “ভারতীয়-সহ বিদেশি নাগরিকরা মানসরোবর যাত্রায় যাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পথটি ব্যবহার করেন। তিনি ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, নেপালের বেশিরভাগ প্রধান পর্যটন এলাকা এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পোখরা, কাঠমান্ডু, চিতওয়ান, লুম্বিনী এবং এভারেস্ট অঞ্চলে পর্যটন অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেছেন, ‘‘নেপালি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম তিমুর থেকে ৯৫ জন নেপালি নাগরিক ও ২১ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে এনেছে।
নেপাল প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা পৌনে চারটে পর্যন্ত দেশের আটটি জেলা থেকে মোট ৩৫৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি নতুন করে বন্যা হলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এমন মানুষদেরও নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে বুধবার চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।
নেপাল প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বন্যায় কয়েক ডজন সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত বলেন, এদিন সকালে হেলিকপ্টারে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত আটজন বিদেশি নাগরিককে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলায়ও মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন মানুষকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে আনা হয়েছে।
Nepal Flash Flood
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৩
×
Comments :0