CPI(M) on kmc delimitation

কলকাতার ডিলিমিটেশনে এক গুচ্ছ অসঙ্গতি, সর্বদলীয় বৈঠকে সরব সিপিআই(এম)

কলকাতা

রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই কলকাতা কর্পোরেশনের ডিলিমিটেশন করা হয়েছে। ডিলিমিটেশনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশকে নিয়ে কেন বৈঠক করা হয়নি? ডিলিমিটেশনের বিষয়ে পাবলিক নোটিফিকেশন কেন জারি করা হয়নি? মঙ্গলবার কলকাতা কর্পোরেশনের সর্বদলীয় বৈঠকে এই অভিযোগ করেছেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। এদিনের বৈঠকে সিপিআই(এম)-র তরফে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুব্রত দত্ত, কৌস্তভ চ্যাটার্জি ও কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য রাজীব মজুমদার। তাদের প্রশ্ন জনগণনা শেষ হওয়ার আগে কেন কলকাতা কর্পোরেশনের ডিলিমিটেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকের সময়ের একাধিক পরিবর্তন করেছে কর্পোরেশন। এই বৈঠকে তৃণমূলের তরফে আট জন প্রতিনিধি কেন ছিল সেই প্রশ্ন করা হয় আধিকারিকদের। 
কলকাতা কর্পোরেশনে ডিলিমিটেশনের পর কলকাতার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ টি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল ও পাশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই কাজ চলাকালীন সর্বদলীয় বৈঠক করা হয়নি। 
বৈঠকে কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৩২ লক্ষ ভোটার রয়েছে। গড়ে ওয়ার্ড পিছু ১৬ হাজার ভোটার রেখে কলকাতায় ২০৯ টি ওয়ার্ড করা হয়েছে। তবে কোনও ওয়ার্ডে আড়াই হাজার পর্যন্ত বেশি হতে পারে, কোন ওয়ার্ডে আড়াই হাজার পর্যন্ত কম হতে পারে। 
সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বলেছেন, "ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, ডিলিমিটেশন হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে।"
বৈঠকে সিপিআই(এম) জানিয়েছে, মাত্র ৮০০০ ভোটার সংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও ওয়ার্ড ভাঙ্গা হয়েছে। আবার ডিলিমিটেশনের পর দেখা গেছে, কোনও ওয়ার্ডে ২৮ হাজার ভোটারও রয়েছে। অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে, ৪-৫ ফুট দৈর্ঘের রাস্তায় উপর বাড়ি গুলিকে দুটি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। এর পিছনে সংখ্যালঘু ভোটকে বেছে বেছে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।  
সুব্রত দত্ত বলেছেন, "রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই এই ডিলিমিটেশন করা হয়েছে। ২০৯ টি ওয়ার্ডে সীমানা তৈরির মাপকাঠি কী? ছিটমহলের মতো খাপছাড়া ভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডকে যুক্ত করা হয়েছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ভাঙ্গা হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ এখনো এস আই আর ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের কী হবে?"
সিপিআই(এম) নেতা কৌস্তুভ চ্যাটার্জি বলেন, “কলকাতা কর্পোরেশন ও মিউনিসিপাল আইনে রয়েছে ডিলিমিটেশন করার সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশকে নিয়ে বৈঠক করতে হবে। কেন সেই বৈঠক হয়নি? ২০৯টি ওয়ার্ডে ভাগ হওয়ার নোটিফিকেশন কোথায়? কোন বুথ কোন ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত তা মানুষ জানতে পারবে কী করে? সংবাদপত্রে কেন তার নোটিফিকেশন দেওয়া হয়নি। এই সমস্ত প্রশ্ন আমরা করেছিলাম কিন্তু পৌর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে অথবা আধিকারিকদের থেকে যথোপযুক্ত উত্তর আমরা পাইনি।”সিপিআই(এম) দাবি জানিয়েছে, বরো ভিত্তিক অথবা বিধানসভা ভিত্তিক সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে। ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লিখিত অভিযোগ  জমা দেওয়ার সময়সীমা দিয়েছে কর্পোরেশন, এই সময়সীমা বাড়াতে হবে। ডি লিমিটেশনের সমস্ত হার্ড কপি রাজনৈতিক দলগুলিকে দিতে হবে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশ করতে হবে।

 

Comments :0

Login to leave a comment