Suvendu Adhikari Jadavpur

যাদবপুর: মমতার ‘ছোট্ট ঘটনা’ মনে করিয়ে শুভেন্দু বললেন,‘কিচ্ছু হয়নি’

রাজ্য

 যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাকেই অস্বীকার করে ‘কিচ্ছু হয়নি’ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছু হয়েছে? কিচ্ছু হয়নি, সব নর্মাল আছে। একটা নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের এই নিয়ে খুব ইন্টারেস্ট আছে, আমাদের কোনও ইন্টারেস্ট নেই। ওখানে পড়াশোনা হচ্ছে, কোনও সমস্যা নেই।’ 
মধ্যরাতে যাদবপুরে বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে হামলা, অরবিন্দ ভবনে আগুন ছোঁড়া, পরদিন দুপুরে যাদবপুরের গেটে এবিভিপি’র হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ভাঙা, এই সবের কোনও কিছুকেই ‘কিচ্ছু হয়নি’ বলে অনায়াসে মন্তব্য করেছেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদাধিকারী। ঘটনা পরবর্তী এফআইআর, পুলিশের তদন্ত এসব কিছুকেই মূল্যহীন করে দিয়েছেন এক মন্তব্যে। তপন সিনহার ‘আতঙ্ক’ সিনেমার বিখ্যাত সংলাপ ‘মাস্টারমশাই আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি’ ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যাদবপুরে কিচ্ছু হয়নি’। 
তবে যা ঘটেছে, তার বাইরে অন্য দিকে নজর দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুক্তচিন্তার পরিসর শিক্ষাঙ্গনকে ‘দেশদ্রোহীদের আস্তানা’ দেগে যে হামলা চালানো হয়েছিল সেই অভিযোগকেই বৈধতা দিয়েছেন তিনি। এবিভিপি’র গুন্ডামি, মধ্যরাতে বিজেপি বিধায়কের উসকানি, তৃণমূল ঘুরে বিজেপি শিবিরে ঠাঁই নেওয়া প্রাক্তন উপাচার্যের প্ররোচনা এসব কিছুর বদলে যাদবপুরের আর্টস হস্টেলে দেশ বিরোধী কাজের অভিযোগ করে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, আমি আজকেই অফিসে এসে জানতে পেরেছি, সিএমও’তে আর্টস হস্টেলের কিছু ভিডিও এসেছে। আমি সেগুলি উপাচার্যকে পাঠাচ্ছি। চেক করুন, সত্যি হলে অ্যাকশন নিন। আর্টস হস্টেলের কিছু ছবি স্লোগান দেশের পক্ষে ঠিক নয়। কিষেণজী রেড স্যালুট নেহি চলেগা। অপেক্ষা করুন, আমরা ব্যবস্থা নেবো। 
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী কাজই হতে হবে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে কথা চলবে না। পহেলগামে যখন দেশের মানুষ শহীদ হলেন তখন এরা কী করছিল? অপারেশন সিঁদুরের সময় এরা মিছিল করেছে। এসব সহ্য করা হবে না। নেশন ফার্স্ট। রাষ্ট্র সর্বোপরি। ২৮ তারিখ রক্ষা বন্ধন। ৪ হাজার প্রোগ্রাম রাজ্য অনুষ্ঠিত করবে। বন্দে মাতরম গাইতে হবে পুরো। এখন তো মাদ্রাসাতেও পুরো গাইতে হয়। 
যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের দেশদ্রোহী এবং মাওবাদী সন্ত্রাসবাদী কিষেনজীর সমর্থক বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ এই কিষেনজীর নেতৃত্বাধীন মাওবাদীদের দিয়েই তিনি এবং মমতা ব্যানার্জি একসঙ্গে জঙ্গলমহলে হত্যালীলা চালিয়েছেন, কিষেনজীদের ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় বসেই মমতা ব্যানার্জির সরকার এনকাউন্টারে মেরেছিল কিষেনজীকে, শুভেন্দু অধিকারী এখন তাঁকেই টেনে এনে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের নিশানা করছেন। নিজের মাওবাদী সংশ্রবের ইতিহাস ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এদিন তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘ওরা আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বানায়নি, রাষ্ট্রবাদীরা বানিয়েছে।’
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের দুটি সাফল্যের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, অমিত শাহকে ধন্যবাদ। তিনি ভারত সরকারের গেজেটের মধ্য দিয়ে সিএএ শুনানি ও সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দিয়েছেন। জেলাশাসকদের মাধ্যমে যারা আবেদন করেছেন জেলাশাসকদের মাধ্যমে শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত সেই শরনার্থীদের সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে পারবো। দ্বিতীয়ত, দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অব পাবলিক অর্ডার সংশোধনী আইন অর্থাৎ গুন্ডা দমন আইন যা বিধানসভায় পাস করানো হয়েছিল তার একটা অংশে রাজ্যপালের সই হয়ে গেছে, আজই আমরা সেটা পশ্চিমবঙ্গে নোটিফিকেশন করে জারি করে দিয়েছি। এবার থেকে সরকারী সম্পত্তি ভাঙচুর করলে, পুলিশকে আক্রমণ, থানা জ্বালানো, অফিস ভাঙচুর করলে সুদ সহ তিনগুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করবো। 
কিন্তু গুন্ডা সন্দেহে বিনাবিচারে ১২ মাস আটক করে রাখা? কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিধানসভায় পাস করানো আইনের সেই অংশের কী হবে? শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘ওটা আইনের আরেকটা অংশ, সেটা রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় আছে। অনুমোদন এলে সেটাও কার্যকরী করা হবে। আশাকরি অনুমোদন এসে যাবে।’ অর্থাৎ বিধানসভায় পাস হওয়ার পরেও পূর্ণাঙ্গ আইনের রূপায়নের অনুমোদন এখনও পায়নি সরকার, কেবল একটা অংশেরই রুল জারি করা হয়েছে এদিন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা না মেলায় মহিলাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী সবুর করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, যারা যোগ্য তাঁরা আস্তে আস্তে পাবেন। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম প্রাপক আছেন। আমরা অন্নপূর্ণা নিয়ে পোর্টাল চালু করেছি। সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগে এসেছে পোর্টালে, তাতে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনও আছে, আবার অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। নাম বাদ দেওয়ার জন্য কত অভিযোগ এসেছে, তা অবশ্য জানাতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।
চিনির দাম বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘টাস্ক ফোর্স অ্যাকটিভ করা হয়েছে। রাইস মিল ও চিনির মজুতদারদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে বলেছি। ২ সপ্তাহ একটু গন্ডগোল হয়েছে। কন্ট্রোল করে দেবো। ৪৮ টাকা রেটে ছিল, দু’-তিন দিন হলো ৬৮ টাকা হয়েছে। লিকেজ কোথায় আছে পেয়ে গেছি। স্ট্রং সরকার আছে, এখানে পারবে না।’ 
নিউটাউনে আদানিদের একটি হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, করণ আদানি আমার সঙ্গে দেখা করেছিল। নিউটাউনে আদানি গ্রুপ ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল করতে চায়। কমিটমেন্ট লেটার পাঠিয়েছে, দ্রুত কাজ শুরু করতে চান, আমরা অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। ১ হাজার বেড গরিবের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য থাকবে, আর বাকি ১ হাজার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হবে।

Comments :0

Login to leave a comment