সম্প্রতি মোদী সরকার নীতি পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা তৈরি করেছে তাতে দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েমের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভবত আদানিদের স্বার্থকে মাথায় রেখেই সরকার নীতি পরিবর্তনের ফরমুলা তৈরি হচ্ছে।
উদারনীতির হাত ধরে দেশে অসামরিক বিমান পরিবহণে বেসরকারি সংস্থার অনুপ্রবেশ ঘটে এই শতাব্দীর গোড়ায়। তার আগে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সই ছিল যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের দায়িত্বে। ছিল না কোনও বেসরকারি সংস্থা। বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সুযোগ দেবার অন্যতম যুক্তিই ছিল তাতে অনেক সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতায় ভাড়া কমবে এবং পরিষেবা উন্নত হবে। কোনও কর্পোরেট গোষ্ঠীরই একচেটিয়া আধিপত্য থাকবে না। প্রথমে বহু সংস্থা গড়ে ওঠে এবং যাত্রী পরিবহণের পরিধি বিস্তৃত হয়।
এক দশক কাটতে না কাটতেই বেশিরভাগ সংস্থা আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। কিছু সংস্থা বন্ধ বা হস্তান্তর হয়। আবার নতুন সংস্থাও ব্যবসায় নামে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার দাপটে বাজারের দখল হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্স। প্রথমে বেসরকারি সংস্থার আন্তর্জাতিক বিমান চালানোর অনুমতি ছিল না। তাই আন্তর্জাতিক যাত্রীর সবটাই ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ার ইন্ডিয়ার অধীনে।
বাজপেয়ী জমানায় প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় এয়ার লাইন্স ও এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণের। বিরোধিতার জেরে তা সম্ভব হয়নি। পরে অলাভজনক ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সকে জুড়ে দেওয়া হয় লাভজনক এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে। তার ধাক্কায় গোটাটাই রুগ্ণ হয়ে পড়ে। মোদী সরকার এসে এয়ার ইন্ডিয়াকে জলের দরে বিক্রি করে দেয় টাটাদের কাছে। ফলে অসামরিক বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা পুরোটাই চলে যায় বেসরকারি কর্পোরেটের হাতে। বিমান পরিবহণ বেসরকারি হাতে তুলে দেবার পর মোদী সরকার বিমানবন্দরগুলিকেই বেসরকারি হাতে তুলে দেবার নীতি গ্রহণ করে। গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে দেশের সবচেগে লাভজনক বিমানবন্দরগুলিকে তুলে দেওয়া হয় মোদী বন্ধু আদানিদের হাতে এবং জিভিকে-র হাতে। বর্তমানে আদানি মুম্বাই, আমেদাবাদ, জয়পুর, লক্ষ্ণৌ, গুয়াহাটি, থিরুবনন্তপুরম, ম্যাঙ্গালোর ও নবি মুম্বাইয়ের মালিক। রাষ্ট্রায়ত্ত এএআই-র অধীনে আছে ছোট, মাঝারি ১২৯টি বিমানবন্দর। এর ৯০ ভাগই লোকসানে চলে। এবার এদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো ১১টি বিমানবন্দর বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে যে ৬টি বিমানবন্দর বেসরকারিকরণ হয় তার সবকটি রহস্যজনকভাবে পায় আদানি গোষ্ঠী। নতুন ১১টিও আদানিদের থলিতে ঢুকবে কিনা সেটা প্রধানমন্ত্রীই বলতে পারবেন।
এদিকে এয়ার পোর্টের মালিকদের বিমান পরিবহণে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে আদানি, জিএমআর-কে বিমান পরিবহণে ঢোকার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ চলছে। অর্থাৎ নিজের বিমানবন্দর থেকে নিজেদের বিমান চালিয়ে বাড়তি সুবিধা ভোগ করে বাড়তি মুনাফার রাস্তা খুলে যাচ্ছে আদানিদের জন্য। আগামীদিনে দেশের গোটা অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রটাই আদানিদের পকেটে চলে গেলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না।
Modi Adani Aviation
বন্ধু প্রীতি
×
Comments :0