মালদহ জেলার অন্যতম বড় সমস্যা হল গঙ্গা, ফুলহর, কোষী নদীর বন্যা ও ভাঙ্গন। প্রতি বছর এই নদী গুলির ভাঙ্গনে ও বন্যায় মানিকচক, রতুয়া-১, ইংরেজবাজার, কালিয়াচক ২ ও ৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ সব হারিয়ে চরম সংকটে পড়েন। বাড়িঘর, চাষের জমি যেমন নদীগর্ভে চলে যায় তেমনি অনেক সময় স্কুল বাড়িও নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সামনেই জেলায় ভাঙ্গন ও বন্যার সময় আসছে বিশেষতঃ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে। মালদহ জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সোমবার মালদহ সেচ আধিকারিক ও জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মালদহের জেলা শাসকের কাছে মালদহ জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে সমস্যাও তুলে ধরা হয়। এদিন এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা বামফ্রন্ট আহ্বায়ক কৌশিক মিশ্র সহ সিপিআই(এম) নেতা অনিমেষ সিনহা, সিপিআই নেতা বাবর সরকার, আরএসপি নেতা সর্বানন্দ পান্ডে, দুন্দুভি সাহা, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা অজিত সাহা। তাঁরা দুটি জায়গাতেই সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করে অবিলম্বে ভাঙ্গন ও বন্যারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সহায়তা করারও জন্য বলেন। একই সঙ্গে তাঁরা জেলা শাসকের কাছে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের যারা কাঁটাতারের বেড়া ও তার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন, নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন তাদের সহায়তা করার আবেদন করেন।
বন্যা ও নদীভাঙন এলাকার যেসব সমস্যা স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয় তারমধ্যে নদীভাঙন ও বন্যারোধের দাবি ছাড়াও রয়েছে এলাকার মানুষদের পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান, চর সমস্যা সমাধান, ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও মাটিতে ধারাবাহিক পর্ব পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি করা হয়। এছাড়া জেলা শাসককে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষতঃ কাঁটাতারের বেড়ার সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী, যারা মূলতঃ বামনগোলা, হবিবপুর, ইংরেজবাজার, কালিয়াচক-৩ ব্লক এলাকার মানুষ চাষাবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি সমস্যা নিত্যদিন ভুগছেন সেই সকল সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন।
Comments :0