Jadavpur

ভাঙচুড়ের ঘটনায় নীরব আরএসএসের তিন সংগঠন, দোষ ঢাকতে নিশানা জুটাকে

রাজ্য

কারা আগুন লাগালো অরবিন্দ ভবনের বাইরে। কারা ৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ আগস্টের রাতে তান্ডব চালালো সেই নিয়ে কোন কথা নেই এবিআরএসএম, এবিভিপি, বিএসএম। দোষ ঢাকতে রেজিস্টার, উপাচার্য, সহ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করলেন তারা। কেন অভিযুক্তদের আটক করা হলো না সেই নিয়েও নেই কোন কথা। 
সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই তিন আরএসএস ঘনিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে গেলো। ওই দিনের ঘটনায় যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্য তথা এবিআরএসএমের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বুদ্ধদেব সাউকে দেখা যায়। প্রশ্ন ওঠে তিনি সেখানে কী করছিলেন। সংগঠনের দাবি যেই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক ভিডিও নয়। ফেক ভিডিও দেখিয়ে বুদ্ধদেব সাউকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। এদিন বুদ্ধদেব সাউ দাবি করেন,  ‘১৯ আগস্ট দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মারপিট হয়। অনেকে আক্রান্ত হয়। রাত্রি ১১টা সময় আমাকে ভাস্কর সরকার এবং একজন অধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে বলে। তাই আমি এসেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে অরবিন্দ ভবনের সামনে অনেক ছাত্র ছিল। কেন ছিল তারা? তার তদন্ত হওয়া দরকার।’ 
প্রাক্তন উপাচার্য অভিযোগের সুরে বলেন, ‘রেজিস্টার এক্টিং, উপাচার্য, সহ উপাচার্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জুটা স্বপ্নদীপের ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলেনি। জুটা রেজিস্ট্রারকে আড়াল করতে চাইছে। প্রাক্তন উপাচার্যকে তারা ছোট করতে চাইছে। আমি উপাচার্য থাকালীন জুটা কিছু অবৈধ পদোন্নতি চেয়েছিল আমি তা করিনি। জুটা ঘনিষ্ঠ বিভাগে টাকা নিয়ে এডমিশন করেছে।’ 
এদিন তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অধ্যাপক পার্থপ্রতীম রায়কে সরাসরি নিশানা করা হয়। তাদের কথায় পার্থপ্রতীম রায় গোটা ঘটনার সাথে যুক্ত। এর পাশাপাশি যাদবপুরের যেই পড়ুয়ারা মুক্ত চিন্তার পক্ষে তাদের ‘দিমাগী নকশাল’ বলে সরাসরি চিহ্নিত করেন অধ্যাপক ভাস্কর সরকার। ঘটনার এতদিন পরেও কাউকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না কেন, কাউকে কেন আটক করা হলো না? সেই নিয়ে একটা বাক্যও ব্যায় করেননি তারা। উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুলিশ পোস্টের দাবি তুলেছেন তারা। 
যাদপুরের এবিআরএসএম’এর সম্পাদক ভাস্কর সরকার বলেন, ‘১৯ তারিখ থেকে টালমাটাল পরিস্থিতি। এর মধ্যে অনেক সাজানো। ১৯ তারিখ গভীর রাতে ৯-৯:৩০ কেউ বা কারা জিবি ডাকে। রাজ্যের কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন নেই। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যারা গুন্ডামি করেছে মেরেছে তারা ছাত্র না বহিরাগত।’ 
যারা অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করলো তাদের বিরুদ্ধে কোন তদন্তের দাবিও করলেন না তারা। 
তিনি বলেন, ‘মাঝরাত পর্যন্ত অনেক ছাত্র ছাত্রী অরবিন্দ ভবনের ভিতরে ছিল তারা কারা। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। উপাচার্য কথা বলেনি সেদিন যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে। রাতে ফোন করলেও পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় কেউ আসেনি। এটা কি তাহলে পূর্ব পরিকল্পিত? মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ স্বপ্নদ্বীপ, অনামিকা, কপাল সেন মৃত্যু ফাইল খোলা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর পুলিশ পোস্ট বসানো হোক।’ 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভাঙার নিন্দা না করে কেন প্রতীক নতুন করে লাগানোর দিন বামপন্থী অধ্যাপক পার্থপ্রতীম রায় এবং শক্তিপদ সেনকে সেখানে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। উল্লেখ্য এই ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভেঙেছিল আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। 
অধ্যাপক সরকারের কথায় যেই বুদ্ধদেব সাউয়ের যেই ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে তা বিকৃত। তিনি বলেন, ‘ফুটেজ কি করে সিপিআই(এম) পেলো? গোপন সূত্রে জেনেছি দুজন আধিকারিক এই কাজ করেছে। ফুটেজ যে বিকৃত করা হয়নি তার কোন প্রমাণ নেই।’ 
তার কথায়, সংবাদপত্রে গেরুয়া গুন্ডামি বলে সনাতনী ভাবাবেগকে আঘাত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কাছে তদন্ত দাবি তারা করেছেন।
এবিভিপির নেতা নিখিল দাস বলেন, ‘ওই ঘটনার পর যাদবপুরের কেউ আমাদের আক্রান্ত ছাত্রদের খবর নেয়নি। ওরা মিটিং করে জিএস ঠিক করতে বসেছিল। আমরা বলেছিলাম এই ভাবে জিএস ঠিক করা যায় কি না? কার কথায় জিবি প্রশ্ন করলে মারধর করা হয়। সেদিনও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ করেনি। ওরা চেয়েছিল আরও একটা স্বপ্নদীপ করতে। নকশাল মাওবাদীদের কেন মদত দেওয়া হচ্ছে? রেজিস্টার এর পদত্যাগ দাবি করছি। ভিসি, প্রো-ভিসি না পারলে পদত্যাগ করুক নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে।’ 
তিন সংগঠনের দাবি জুটার মদতে যাদবপুরে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। তবে কোন দুর্নীতির বিষয় প্রমাণ এদিন তারা দেখাতে পারেনি।
অধ্যাপক পার্থপ্রতীম বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘১৯ আগস্টের রাতের ভাঙচুড়ের ঘটনার পর জুটার পক্ষ থেকেই প্রথম নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হয়। বলা হয় তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসবে কারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত। আসল দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রথম সরব হয়েছে জুটা।’ তিনি বলেন, ‘জুটার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ গুলো করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। জুটা শিক্ষার স্বার্থে, যাদবপুরের স্বার্থে, পড়ুয়াদের স্বার্থে সব সময় লড়াই করে এসেছে। রাজনৈতিক সংকীনর্তাকে দুরে রেখে ক্যাম্পাসের সবার এগিয়ে আসা উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে।’
জুটার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদি সত্যি কোন দুর্নীতি হয়ে থাকে তবে নির্দিষ্ট জায়গায় তারা অভিযোগ জানাক। আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেওয়া হবে।’ 
অধ্যাপক বিশ্বাস বলেন, ‘জুটার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ গুলো করা হচ্ছে তা সম্পূর্ন ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের দায়িত্বে উপাচার্য। ওরা যাকে বিধিবদ্ধ সংস্থা গুলোর কাছে যদি কোন দুর্নীতি হয়ে থাকে।’

Comments :0

Login to leave a comment