দশ দিন আগে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে লোকসভা। কিন্তু আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি। বাদল অধিবেশন জিইয়ে রেখে সরকার ডিলিমিটেশন বিল পাশের চেষ্টা করছে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাধারণ ভাবে লোকসভার অধ্যক্ষ কোনও অধিবেশন মুলতুবি করার তিন-চারদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কিন্তু মুলতুবি ঘোষণার দশ দিন পরও সেই ঘোষণা করেননি রাষ্ট্রপতি।
কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, এই দেরির কী কারণ থাকতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে যে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগারের চেষ্টায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।
লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের আইন পাশ হয়েছে আগেই। কিন্তু তা কার্যকর করার জন্য সীমানা পুনর্নিধারণ বা ডিলিমিটেশনের শর্ত জুড়েছে কেন্দ্র। ডিলিমটেশনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তাতে উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আনুপাতিক সংখ্যা লাফিয়ে বাড়বে। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে উদ্বেগজনক মাত্রায় কমবে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত। বস্তুত জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলিই শাস্তি পাবে এই পুনর্বিন্যাসে।
সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সহ দেশের একাধিক মহিলা সংগঠন আসন সংখ্যার পরিবর্তন না করেই মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর দাবি জানিয়েছে। বিরোধী বেশিরভাগ দলই সেই দাবিতে সরব। ডিলিমিটেশনকে মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ারই বিরোধিতা করা হচ্ছে।
এর আগে লোকসভায় এই বিল নরেন্দ্র মোদী সরকার পাশ করাতে পারেনি। সংবিধান সংশোধন বিল বলে প্রয়োজন উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা। তা জোগার করতে পারেনি বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল, আপ বা শিবসেনার সাংসদ ভাঙানোয় সব স্তরেরই অনুমান, দুই তৃতীয়াংশ জোগার করে পছন্দমতো সংবিধান সংশোধনে এগতে চাইছে বিজেপি।
রমেশ বলেছেন, ২০১৫ এবং ২০২১ সালে বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণায় অস্বাভাবিক দেরি হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়নি। কারণ তার পিছনে কোনও মতলব ছিল না।
গত ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হয়। ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকাল মুলতুবি ঘোষণা করেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
Lok Sabha Delimitation Bill
ডিলিমিটেশন বিল? লোকসভার অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা না হওয়ায় চর্চা জোরালো
×
Comments :0