CITU Migrant Worker Jalpaiguri

চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে নির্যাতন, ওড়িশা থেকে শ্রমিককে উদ্ধার সিআইটিইউ’র

জেলা

ফারুক হোসেনের বাড়িতে শ্রমিক নেতা কৃষ্ণ সেন।

কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হলেন জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি এলাকার ১৯ বছরের যুবক ফারুক হোসেন। কেরালায় কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পথে একের পর এক দুষ্কৃতীদের হামলা ও পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতে হয় তাঁকে। অভিযোগ, টাকা না পেয়ে তাঁকে দু’বার চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। 
গুরুতর আহত অবস্থায় ওড়িশার স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কেরালা যাওয়ার পথে চেন্নাইয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে সর্বস্ব খোয়ান ফারুক। তাঁর কাছে থাকা টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ। ওড়িশাতেও একদল যুবক তাঁকে ধরে মারধর করে। এমনকি বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপনও দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে না পারায় ফারুককে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মারাত্মক জখম অবস্থায় কোনওরকমে বাড়ি ফেরার জন্য পরবর্তী একটি ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলে ফের তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, দ্বিতীয়বারও তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা ফারুককে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দিশেহারা ফারুকের পরিবার জলপাইগুড়ি সিআইটিইউ নেতৃত্বকে জানায়। সংগঠনের জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ সেন দ্রুত ওড়িশার সিআইটিইউ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরাই হাসপাতালে পৌঁছে আহত তরুণের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁদের উদ্যোগেই ফারুককে নিরাপদে জলপাইগুড়িতে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।
আক্রান্ত ফারুক হোসেন জানান, তাঁর ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং দু’দুবার চলন্ত ট্রেন থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাদা আব্দুল মোহাম্মদ সিআইটিইউ-র দ্রুত তৎপরতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ সেন বলেন, “এই ধরনের বর্বর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

Comments :0

Login to leave a comment